Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:৫১

স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু: ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু: ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক ভিত্তি সর্বজনবিদিত। ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ হয়েছিল। সম্পূর্ণ বৈধ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছিল। যা পরে ‘মুজিবনগর’ নামে পরিচিত হয়েছে। সেই সরকারে এদেশের জনপ্রতিনিধিদের সমর্থনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সম্পূর্ণ বৈধ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেদিন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। সেখানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক করা হয়। নয় মাসব্যাপী যুদ্ধের মূল প্রেরণাশক্তি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এই মুজিব সরকারের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ-’৭১ আয়োজিত ‘মুজিবনগর সরকার, প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফোরামের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ বীর উত্তম। আলোচনা অংশ নেন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান লে: কর্ণেল আবু ওসমান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাবেক সচিব ওয়ালিউল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান এমপি প্রমুখ। 

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব।

সভায় বক্তারা বলেন, মুজিবনগর সরকার ছিল একটি পরিপূর্ণ সরকার। এর ছিল স্বরাষ্ট্র, কেবিনেট, অর্থ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, সংস্থাপন, তথা ও প্রচারসহ একটি পরিপূর্ণ সরকারের প্রায় প্রতিটি বিভাগ।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুধু নয় মাসের যুদ্ধের ইতিহাস নয়। ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ক্রমান্বয়েই পূর্ব পাকিস্তানকে সচেতন করেছে। সেই সঙ্গে করেছে বিক্ষুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং উনসত্তরের গণআন্দোলনসহ ছাত্র সমাজের ১১ দফার পথ ধরেই জাতি পৌছে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। বঙ্গবন্ধুর ছয়দফার পক্ষে রায় দেয় মানুষ।

কিন্তু পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা বঙ্গবন্ধুর হাতে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা দিতে রাজি না হয়ে নানা ফন্দি আটতে থাকে কি করে নির্বাচনের ফলাফল ভণ্ডুল করা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় আসে ৭ই মার্চের ভাষণ। যে ভাষণে তিনি আসন্ন মুক্তিযুদ্ধের পথে বাঙ্গালী জনতাকে চূড়ান্তভাবে নির্দেশ দান করেছিলেন।

গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দৃঢ়চিত্তের এবং আপোষহীন। এ জন্য বঙ্গবন্ধু দেশবাসীকে নিয়ে পাকিস্তানী শাসকদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পেরেছিলেন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

 


আপনার মন্তব্য