Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ১২:১০

ফাঁকা হচ্ছে সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম বিভাগ

কর্মকর্তারা কেউ বদলি কেউ যাচ্ছেন বিদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফাঁকা হচ্ছে সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম বিভাগ

ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড অ্যান্ড ইকোনমিক ক্রাইম বিভাগ। মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কায় সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত এই বিভাগের কার্যক্রম। সম্প্রতি অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোল্যা নজরুল ইসলামকে নৌপুলিশে বদলি করা হয়েছে। 

চলতি মাসেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী স্কলারশিপ নিয়ে দেড় বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন। আরও চারজন কর্মকর্তা শিগগিরই যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনে। পাইপ লাইনে রয়েছেন আরও কয়েকজন। 

পুলিশের অনেক পেশাদার কর্মকর্তা এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদ জব্দসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দানকারী মোল্যা নজরুলকে অন্যত্র বদলি এবং অন্যান্য কর্মকর্তার বিদেশ যাত্রায় এই বিভাগের কার্যক্রমে নিশ্চিতভাবে প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে মোল্যা নজরুলের মতো চৌকস ও নেতৃত্ব দানকারী কর্মকর্তা থাকলে নতুন কর্মকর্তাদের তৈরি করে ফেলতে পারতেন। এতে করে ওই সব ইস্যুর গডফাদাররা আবারও ফণা তুলবে বলে মন্তব্য তাদের।

তারা বলেন, বিশেষায়িত ইউনিটের একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে হুট করে অন্যত্র বদলি না করে ওই জায়গায় দায়িত্ব নেওয়ার মতো আরেকজন কর্মকর্তাকে তৈরি করা উচিত, যেখানে ওই ইউনিটে কাজ করা আরও অনেক অধীনস্থ কর্মকর্তা উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিএস, ব্যাংকসহ ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের সবচেয়ে বড় চক্রের মুখোশ উন্মোচন, মাদক থেকে মানি লন্ডারিং মামলায় টেকনাফের বড় বড় মাফিয়ার সম্পত্তি জব্দ, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থপাচার মামলাসহ বেশ কিছু বড় ঘটনার তদন্ত ও অপারেশনে মোল্যা নজরুল ইসলাম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সিআইডি তথা পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। নড়েচড়ে বসে অপরাধী ও তাদের মদদদাতারা। অসহায় মানুষদের ব্ল্যাকমেইল করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অধিক লাভের প্রলোভন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া গডফাদারদের লাগাম টেনে ধরে অনেক সাধারণ নিরীহ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছিলেন ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা মোল্যা নজরুল। তার বদলির কারণে অনেক রাঘব-বোয়ালের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসব চক্র আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দফতরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দেখুন, অপরাধীরা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সব ধরনের চেষ্টাই করে থাকে। মধ্যম সারির কর্মকর্তা হয়েও মোল্যা নজরুল সিআইডিতে আসার পর অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছিলেন। সিআইডিতে সাইবার পুলিশ সেন্টার স্থাপনের জন্য বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন মোল্যা নজরুল। এ ক্ষেত্রে বিকল্প তৈরির পরই তাকে অন্যত্র বদলি করা উচিত ছিল, যেখানে ওই বিভাগের অনেক কর্মকর্তা বিদেশে যাচ্ছেন। এ জন্য অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক) হিসেবে মোল্যা নজরুলকে ওই বিভাগেই পদায়ন করা হলে কর্মকান্ডে গতিশীলতা থাকত।’

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য