শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ মার্চ, ২০২০ ১৬:৩২

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তদারকি করছেন লন্ডন থেকে ডা. জোবাইদা

নিজস্ব প্রতিবেদক

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তদারকি করছেন লন্ডন থেকে ডা. জোবাইদা

শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হলেও ‘মানসিকভাবে স্বস্তিবোধ’ করছেন কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।  তার চিকিৎসার পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন লন্ডনে থেকে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে গিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন গতকাল গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কোয়ারেন্টাইনে ম্যাডামের চিকিৎসা চলছে। তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হলেও হোমলি পরিবেশে এখন স্বস্তি বোধ করছেন। তার মানসিক বলটা বেড়ে গেছে। আগে যে বিপর্যস্ত চেহারা ছিলো সেটাও অনেকটা কমে আসছে। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জোবাইদা রহমান ম্যাডামের পুরো চিকিৎসার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

গত বুধবার বিকালে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুলশানে ‘ফিরোজা’য় আসেন খালেদা জিয়া। বাসায় আসার পর ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে দেখে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া রিউম্যাটিক আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের নানা রোগে আক্রান্ত।
‘ফিরোজা’র দো’তলায় খালেদা জিয়া ১৫ দিনের জন্য কোয়ারেনটাইনে আছেন। তার সাথে নার্সসহ সেবা প্রদানকারী কয়েকজন সদস্যও সেলফ কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন দো’তলাতে।

অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ম্যাডাম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এই সময়ে সোশ্যাল ডিসটেন্স অর্থাৎ একজন থেকে অপরজনকে যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলার নিয়ম তা যথাযথ মেনেই ম্যাডামের সেবা প্রদানকারীরাও সেবা দিচ্ছেন। ম্যাডাম প্রিয়জনদের সাথে মোবাইলে কথা-বার্তা বলতে পারছেন, ডাক্তারদের সাথে কথা বলছেন। যেটা সমস্যা যেটা জানাচ্ছেন। সম্পূর্ণ হোমলি পরিবেশে তিনি সময় কাটাচ্ছেন। কখনো শুয়ে, কখনো বসে, কখনো বই-পত্র পড়ে।

চিকিৎসার বিষয়ে অধ্যাপক জাহিদ জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)-এর মেডিকেল বোর্ডের দেয়া ওষুধপত্রের কিছুটা সংশোধন ও পরিবর্তন এনেছেন ম্যাডামের ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম। ম্যাডামের হাত-পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে। রিউম্যাটিক আর্থারাইটিস-এর কারণে হাত-পায়ের জয়েন্টে সমস্যা রয়েছে। এগুলো উনাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে, প্রচণ্ড ব্যথা। এই ব্যথা উপশমের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ওষুধে কিছুটা পরিবর্তন ও সংযোজন এনেছেন।

তিনি বলেন, কারাগারের নির্জনতা ও নির্মমতার কারণে ম্যাডাম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। উনি অনেকটা শুকিয়ে গেছেন, দূর্বলতাও রয়েছে তার। ওজনও তার ৯/১০ কেজি কমে গেছে। আমরা আশাবাদী কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসায় তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠবেন। একটা সিস্টেমের মধ্যে চলে আসলে উনার ডায়াবেটিকসের মাত্রাও ক্রমশঃ কমে আসবে বলে আমরা ধারণা করছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)-এর মেডিকেল বোর্ডের ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষার কাগজপত্রসমূহের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। ফিরোজায় এখন মেডিকেল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের টিমের সদস্য ও নিকট আত্বীয়-স্বজনরা ছাড়ার কারো প্রবেশাধিকার নেই। নিরাপত্তাকর্মীরা সব সময়ে গেট বন্ধ রেখে পাহারা দিচ্ছেন।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য