শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ মার্চ, ২০২১ ১৩:৩৯
প্রিন্ট করুন printer

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে মারধর: গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে মারধর: গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

শিশু মন। কোমল প্রাণ। শিশুর মন পড়ে থাকে মা-বাবার দিকে। এটিই প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম, চিরাচরিত ধারা। বাবা মায়ের কাছে থাকতেই পছন্দ করে শিশু। কিন্তু এমন পছন্দটা কাল হয় একটি শিশুর জন্য। বাবা-মায়ের সঙ্গে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরতে চাওয়ায় বেধড়ক পেটানো হয় শিশু শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিনকে। তাকে মারধর করেন মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ইয়াহিয়া। সে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাফরভাটা গ্রামের মোহাম্মদ ইউনুসের ছেলে।

এদিকে, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসার শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গৃহীত পদক্ষেপ আগামী রবিবার জানাতে হাইকোর্টের ডিসি, এসপি, ওসিসহ ৩ জনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, গ্রেফতার ও মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে কিনা এবং ফৌজদারী আইনে মামলা করা হয়েছে কিনা তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকালে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি শাহেদ নুরুউদ্দীনের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এছাড়াও নির্যাতনের শিকার শিশুকে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে কিনা তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন দেওয়া হয়েছে।  এসময় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বার বার এ ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। পরে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, মারকাজুল কোরআন ইসলামি একাডেমি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিনকে দেখতে যান মা পারভিন আক্তার ও বাবা মোহাম্মদ জয়নাল। কিন্তু ফেরার সময় ছোট্ট শিশুটি মা-বাবার সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরে। এক পর্যায়ে শিশুটি মা-বাবার পিছু পিছু মাদরাসার  মূল ফটকের বাইরে চলে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাদরাসার শিক্ষক মো. ইয়াহিয়া। মূল ফটকের বাইরে যাওয়ায় শিশুটিকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন তিনি। এসময় শিশুটির কোনো আকুতিই শুনেননি ওই শিক্ষক।   

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার মারকাজুল কোরআন ইসলামি একাডেমি মাদ্রাসায় গত সোমবার (৮ মার্চ) এ নির্মম ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) থেকেই শিশু নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন শিশুটিকে উদ্ধার করে। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে থানা পুলিশের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করি।

এরপর বুধবার (১০ মার্চ) বিকেলে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তার বাবা মোহাম্মদ জয়নাল বাদী হয়ে মারকাজুল কোরআন ইসলামি অ্যাকাডেমি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে হাটহাজারী পৌরসভার কামাল পাড়া পশু হাসপাতালের পাশ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, তড়িঘড়ি করে মাদরাসাশিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়াকে বুধবার (১০ মার্চ) ভোরেই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত

এই বিভাগের আরও খবর