শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০২১ ১৬:১৩
আপডেট : ১৫ জুলাই, ২০২১ ২১:০৩
প্রিন্ট করুন printer

‘আমৃত্যু’ না থাকলে ‘যাবজ্জীবন’ ৩০ বছর

যাবজ্জীবন সাজার ব্যাখ্যা দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

যাবজ্জীবন সাজার ব্যাখ্যা দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
সুপ্রিম কোর্টের ফাইল ছবি
Google News

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে ৩০ বছর কারাদণ্ড। তবে রায়ে স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাবাস উল্লেখ থাকলে দণ্ডিতকে আমৃত্যুই জেলে থাকতে হবে। যাবজ্জীবন মানে কত বছর সাজা- এ প্রশ্নের ব্যাখ্যায় এমন মতামত দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত বছর ১ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় দিয়েছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার এ রায়ের ১২০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ে প্রধান বিচারপতিসহ ছয়জন বিচারপতি যাবজ্জীবন করাদণ্ডের অর্থ ৩০ বছরের কারাদণ্ডের পক্ষে একমত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেছেন, ‘যাবজ্জীবন সাজা অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড।’

মূল রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এ ছাড়া মূল রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এই ছয় বিচারপতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আলাদা রায় লিখেছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলী। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা যে রায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন সেটাই মূল রায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

রায়ে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে হচ্ছে দণ্ডিত ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাবাস। তবে দণ্ডবিধির ধারা ৪৫ (জীবন) ও ৫৩ (দণ্ডসমূহ) যদি একই আইনের ৫৫ (যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস) ও ৫৭ (দণ্ডের মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশ) ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৫(ক) এর সঙ্গে একত্রে মিলিয়ে পড়া হয় তাহলে বোঝা যায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে হচ্ছে ৩০ বছর। এ ছাড়া আদালত, ট্রাইব্যুনাল অথবা ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গঠিত ট্রাইব্যুনাল যখন কোনো আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন, তখন দণ্ডিত ব্যক্তি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(ক) ধারার সুবিধা (রেয়াত) পাবেন না।

প্রসঙ্গত, দণ্ডবিধির ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘দণ্ডের মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহ হিসাব করার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাবাসকে ত্রিশ বছর মেয়াদি কারাবাসের সমতুল্য বলে গণনা করা হবে। সিআরপিসির ৩৫(ক) ধারায় বলা হয়েছে, কেবল মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্র ব্যতীত যে ক্ষেত্রে কোনো আদালত একজন অভিযুক্তকে কোনো অপরাধে অপরাধী হিসেবে গণ্য করে থাকেন এবং এরূপ অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করে বিনাশ্রম বা সশ্রম যেকোনো মেয়াদের দণ্ড প্রদান করে থাকেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালতে ওই অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি ইত্যবসরে যে মোট মেয়াদ জেলহাজতে থাকবেন ওই মোট মেয়াদ প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ হতে বাদ দেবেন।

সাভারে জামান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ২০০৩ সালে নিম্ন আদালত আসামি আতাউর মৃধা ও আনোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট ওই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড। স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে থাকতে হবে। আপিলের ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ পিটিশন করেন আতাউর ও আনোয়ার। এই রিভিউ পিটিশনের শুনানি নিয়ে গত বছর ১ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। সংক্ষিপ্ত ওই রায়ের পর বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

এই বিভাগের আরও খবর