২৮ জুন, ২০২২ ২১:৫১

বাজেটে ঋণের বোঝা অসহনীয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে: জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজেটে ঋণের বোঝা অসহনীয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে: জিএম কাদের

ফাইল ছবি

সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, এই বাজেট ঘাটতি বাজেট, ঋণ নির্ভর বাজেট। বাজেটে ব্যয়ের বড় একটি অংশ ঋণের সুদ হিসাবে পরিশোধ করতে হবে। বাজেটে প্রস্তাবিত ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকার আয় সম্পূর্ণ ভাবে খরচ হবে পরিচালন ব্যয় ও আগের নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধে। দেশ ও বিদেশ থেকে নতুন ঋণ মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ লাখ নয় লক্ষ ৭৯৩ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঋণের বোঝা বেড়ে অসহনীয় হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্যানেল সভাপতি এ সভাপতিত্বে সংসদের আজকের বৈঠকে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটরে ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন।

জিএম কাদের বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভ দিনকে দিন কমছে। কারণ আমদানি ব্যয় বাড়ছে, রপ্তানি আয় তেমন বাড়ছে না। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থের পরিমানও দেখা যাচ্ছে অস্থিতিশীল ও নিম্নগামী। সে প্রেক্ষিতে বৈদেশিক ঋণ নেয়ার বিষয়ে আরও সাবধানতা অবলম্বন করা বাঞ্চনীয়। বাজেটে মূল্যস্ফীতির হিসাব অবাস্তব: বাস্তবে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বাড়ছে। একই সাথে ডলারের বিপরীতে টাকা অবমূল্যায়ন হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য জীবন যাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা দিনকে দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে।

সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা আরো বলেন, চলতি অর্থ বছরের বাজেটেও উন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটে এডিপি বর্ধিত করে চলতি অর্থ বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ও অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায় এডিপি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, বাজেটের সামগ্রিক ঘাটতি জিডিপির ৫.৫% বা বাজেটের ৩৬.১৪%। এ ঘাটতি পূরণ করতে ঋণ নেয়া হবে। এরমধ্যে বৈদেশিক ঋণ নেয়া হবে বাজেটের ১৪.১%। অভ্যন্তরীন ঋণ বাজেটের ২১.৬%। দেশি খাত থেকে বেশি ঋণ ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত করবে। বিদেশি ঋণের ঝুঁকি আরও মারাত্মক। 

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান শ্রম বাজার সমূহে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গতির অভাব ও রাশিয়া - ইউক্রেন সংঘাতের ফলে শ্রম বাজার প্রভাবিত হওয়ার কারণে চলতি অর্থবছরে আমাদের প্রবাস আয়ে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আয় কমছে ব্যয় বাড়ছে অর্থাৎ এক কথায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থীতিশীল ও অবনতশীল। এ অবস্থায় বাজেটে বর্ধিত কর আদায়ের প্রস্তাবকে অবাস্তব উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, গত অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব থেকে প্রাপ্তির সংশোধিত বাজটটি ছিল ৩,৩০,০০০  হাজার কোটি টাকা। বাস্তবে মে পর্যন্ত আদায় হয়েছে ২,৫২,৯১০.৭৬ কোটি টাকা। যদি একই হারে রাজস্ব আদায় অব্যাহত থাকে তবে অর্থ বছর শেষে মোট রাজস্ব আদায় হবে ২,৭৫,৯০২.৬৫ কোটি টাকা। এর পরেও ঘাটতি থাকবে ৫৪,০৯৭.৩৫ কোটি টাকা। সেখানে আগামী অর্থ বছরে রাজস্ব প্রাপ্তি ৪,৩৩,০০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১,০৩,০০০ কোটি টাকা (৩১.২১ শতাংশ বেশী)। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অবাস্তব বলে মনে করি।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর