শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুলাই, ২০২১ ২৩:৫১

খেলা ঘিরে অনলাইন জুয়াড়ি চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

কোপা আমেরিকা ও ইউরো কাপ ঘিরে অনলাইনে জুয়া চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হলেন কুমিল্লার কামাল হোসেন, নড়াইলের টুটুল মোল্লা ও চাঁদপুরের মিজানুর রহমান। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়। গ্রেফতাররা সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়া খেলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছিল।

গতকাল বিকালে রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪-এর সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্তি ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ইউরো কাপ ফাইনাল ও কোপা আমেরিকা ফুটবল কাপের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে একাধিক অনলাইন জুয়াড়ি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইন জুয়ার সাইটে আইডি খুলে এজেন্টের কাছ থেকে ডলার ও ক্রিপ্টো কারেন্সি কিনে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেছে। এক্ষেত্রে নিজ বিকাশ নম্বরে টাকার লেনদেন হতো। প্রতিদিন বিকাশ এজেন্ট নম্বরে তিন থেকে চার লাখ টাকা লেনদেন হতো।

গ্রেফতার কামাল পেশায় বিকাশ এজেন্ট। তার ফোনে বিশেষ একটি জুয়ার অ্যাপ ডাউনলোড থাকায় তার নির্দিষ্ট নম্বর সবার কাছে চলে যেত। যারা বাজি ধরত তারা বিদেশে টাকা পাঠাত। বাজিতে জিতলে তাদের নম্বর ও টাকার পরিমাণ কামালের ফোনে চলে যায়। এই অ্যাপসে প্রতিদিন ৩-৪ লাখ টাকা আসে। বাজিতে ৫০০-৩০০০ টাকা ধরা হয়। কামাল প্রতি লাখে ৪০০ টাকা কমিশন পেত এবং বাকি টাকা এই চক্রের মূলহোতা পলাতক সারোয়ার ও তার সহযোগী মিরাজকে হাতে হাতে দিত।

এ ছাড়া গ্রেফতার টুটুল মুদি দোকানি। প্রায় ছয় মাস আগে মোবাইলে জুয়ার অ্যাপস ডাউনলোড করে বাজি ধরা শুরু করে। তার অ্যাপসে আরও ৩-৪ জন সহযোগী নিয়ে বাজি খেলত। সে এ পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক টাকার বাজি খেলেছে বলে স্বীকার করেছে।

গ্রেফতার মিজানুর ফলের দোকানি। প্রায় এক বছর আগে অ্যাপস ডাউনলোড করে বিভিন্ন খেলায় বাজি ধরা শুরু করে। নিজে খেলার পাশাপাশি সহযোগীদের খেলায় উদ্বুদ্ধ করত। তার অ্যাপসে ১০-৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা যায়। মিজানুরই মূলত আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বাজি খেলা ছড়িয়ে দিয়েছে। এ পর্যন্ত সে প্রায় লক্ষাধিক টাকার বাজি খেলেছে বলে স্বীকার করেছে।