শিরোনাম
প্রকাশ: ০০:০০, রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৫

দুই নেত্রীর \\\'মাইন্ডসেটে\\\' জনগণ আপসেট

কাজী সিরাজ
অনলাইন ভার্সন
দুই নেত্রীর \\\'মাইন্ডসেটে\\\' জনগণ আপসেট

স্বীকার করতেই হবে যে, আমাদের দেশের বিভিন্ন সময় অর্জিত তাবৎ সাফল্য এবং মহৎ সব অর্জনের পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের। ধারণা করাটা ভুল বা অসমীচীন নয় যে, একটি রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট নীতি থাকবে, থাকবে একটা আদর্শ। নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে প্রণীত হবে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণধর্মী কিছু কর্মসূচি। এই নীতি, আদর্শ ও কর্মসূচির ভিত্তিতেই একটি রাজনৈতিক দল জনগণের মধ্যে তার অবস্থান সুদৃঢ় করে এবং যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন আদায় করতে পারে সেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। রাষ্ট্রক্ষমতা দেশ ও জনগণের সেবার জন্য বেশ কাজে লাগে, যদি ক্ষমতাসীনরা তার ব্যবহারে সৎ ও আন্তরিক হয়। তবে রাষ্ট্রক্ষমতায় না গিয়েও দেশ ও জনগণের সেবা করা যায়। আমাদের দেশে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, কমরেড মণি সিংহসহ অনেক ত্যাগী রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করা যাবে, যারা ক্ষমতায় না গিয়েও দেশ ও জাতির যে সেবা করে গেছেন অনেক ক্ষমতাসীন তা করেননি বা করতে পারেননি।

আমাদের এই ভূখণ্ডে একটা সময় ছিল রাজনীতির সোনালিকাল। রাজনীতিবিদরা ছিলেন দেশকর্মী। দেশকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল দেশের জন্য কে বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে পারে। এই সময়কালটা ধরা যেতে পারে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকাল থেকে আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকাল পর্যন্ত। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্যই ছিল স্বদেশ ভূমিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের দখলমুক্ত করা। সেই আন্দোলনে দুটি ধারা ছিল- ১. প্রকাশ্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, ২. সশস্ত্র গোপন লড়াই। পথ ভিন্ন হলেও মত ছিল অভিন্ন- ব্রিটিশ খেদাও। সেই আন্দোলনে মূল রণধ্বনিই ছিল স্বাধীনতা- এর বেশিও না, তিল পরিমাণ কমও না। কে প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী হবেন, কারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন এসব স্বার্থবাদী চিন্তা কাউকে দিকভ্রান্ত করেনি, দেশমুক্তির চিন্তায় সবাই ছিলেন বিভোর। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধেও রণধ্বনি ছিল একটাই- 'দেশ চায় স্বাধীনতা, জাতি চায় মুক্তি'। জনগণের আকাঙ্ক্ষায় এছাড়া অন্য কোনো স্বার্থচিন্তা ছিল না। স্বার্থচিন্তা ছিল না বলেই মুষ্টিমেয় রাজাকার, আলবদর, আলশামস ছাড়া সমগ্র দেশবাসী স্বাধীনতার প্রশ্নে ছিল একাট্টা। বিভ্রান্তি আর বিপদগামিতার সূত্রপাত হয় দেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়ে আসার পর। জাতীয় একটি কুচক্রী মহলের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক লোভ-লালসার নানা খেলা শুরু হয়, চক্রান্ত হয় স্বাধীন বাংলাদেশকে নতজানু একটা দেশে পরিণত করার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এদেশের জনগণের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও যূথবদ্ধ লড়াইয়ের সোনালি ফসল। কারও উপহার বা দয়ার দান নয়। ব্রিটিশ-ভারতের ১০ কোটি মুসলমানের জন্য স্বাধীন আবাসভূমি 'পাকিস্তান' হাসিলের লড়াইয়ের প্রকৃতি ছিল একরকম। 'অনুশীলন' 'যুগান্তর'সহ কিছু বিপ্লবী সংগঠনের বুক কাঁপানো সীমিত কিছু বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের বাইরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মকাণ্ড ছিল গণসংশ্লিষ্ট প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা। সর্বভারতীয় মুসলমানদের বিপুল সমর্থিত সংগঠন ছিল 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ'। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগ অধিবেশনে শেষ দিনে অবিভক্ত ভারতবর্ষের ১০ কোটি মুসলমানের স্বকীয় জীবনধারা স্বাধীনভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে স্বতন্ত্র বাসভূমি কায়েমের দাবিতে অবিভক্ত বঙ্গের প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক পেশ করেন ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'। প্রস্তাবের চুম্বক কথা ছিল, 'এ দেশে কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনই কার্যকর কিংবা মুসলমানদের নিকট গ্রহণযোগ্য হইতে পারে না, যদি না অতঃপর বর্ণিত মূল নীতিসমূহের ভিত্তিতে তাহা পরিকল্পিত হয়। যথা, ভৌগোলিক নৈকট্য সমন্বিত ইউনিটগুলো প্রয়োজন অনুসারে স্থানিক রদবদলপূর্বক সীমানা চিহ্নিত করিয়া অঞ্চল গঠন করিতে হইবে এবং মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল যেমন, ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল সমন্বয়ে অবশ্যই স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করিতে হইবে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত ইউনিটগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হইবে' (জাতীয় রাজনীতি : ১৯৪৫-৭৫, লেখক-অলি আহাদ, পৃষ্ঠা-৩)। এই লাহোর প্রস্তাবকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার একটা ভিত্তি বলে বিবেচনা করা হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি মুসলমানদের ভূমিকা ও অবদান ইতিহাসের অন্তর্গত বিষয়। ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ১১৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে ১১৩টিতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে মুসলিম লীগ এবং ২২ এপ্রিল '৪৬ বঙ্গীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। যে পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল নিয়ে পাকিস্তান আন্দোলন সফল হয় এবং রাষ্ট্রটি ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়, নতুন স্বপ্নের দেশ পাকিস্তানে তা মোটেও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়নি। যাদের সমর্থনে ও আন্দোলনে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার লড়াই পূর্ণতা পায়, পাকিস্তানের সেই পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয় রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই। এই অঞ্চলকে (পূর্ব পাকিস্তান) শোষণ-বঞ্চনার স্বর্গভূমিতে পরিণত করার গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে প্রথমে আক্রমণ করা হয় বাংলাভাষার ওপর। বাংলা 'পূর্ব পাকিস্তানের' জনগণের মাতৃভাষা বিধায় বাংলা ভাষার টুঁটি চেপে আসলে আমাদের ভাষাকে নয়, ওরা হত্যা করতে চেয়েছিল আমাদের সংস্কৃতিকে। ভাষা ও সংস্কৃতির মৃত্যু হলে একটি জাতির স্বাতন্ত্র্য এবং জাতীয় আত্দবিকাশের পথই অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এই সুগভীর চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল ছাত্র-যুব-জনতা। সবার সামনে ছিল আদর্শ। তখনকার রণধ্বনি ছিল 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'। এই স্লোগানের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল বাঙালির স্বজাত্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা, চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতার স্বপ্ন। যুব-তরুণদের চোখে তখন আগুন, বুকে উত্তাল সাগরের গর্জন। নিজেদের মধ্যে হিংসা নেই, পারস্পরিক বিদ্বেষ নেই। নেই গদির লোভ বা বিত্ত হাতানোর নষ্ট চিন্তা। ভাষার আন্দোলন সফল হয়েছে। চুয়ান্ন সালের নির্বাচনে হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে গদি নিয়ে কামড়াকামড়ি হয়নি, অবশ্য রাজনৈতিক বিরোধ হয়েছে। 'পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি,' 'সিয়েটো-সেন্টো চুক্তি', 'বাগদাদ প্যাক্ট' ইত্যাদি সাম্রাজ্যবাদ-ঘনিষ্ঠ চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের তৎকালীন আওয়ামী প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বিরোধ বাধে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও দলের তৎকালীন সভাপতি মওলানা ভাসানীর। আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে ১৯৫৭ সালের ২৫ জুলাই তিনি গঠন করেন 'ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি' (ন্যাপ)। বিরোধটা গদির নয়, রাজনীতির। এর ভিতর আগে-পরে ঘটে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ৯৮(ক) ধারা জারি করে রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার, যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল এবং '৫৮ সালে আইউব খানের মার্শাল ল' জারি। আবার নতুন সংগ্রাম, নতুন লড়াই। এ লড়াই আরও স্পষ্ট, আরও অগ্রসর। এবার রণধ্বনি 'গণতন্ত্র চাই, নির্বাচন চাই, পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন চাই।' এখানেও রাজনীতি আগে, দেশ আগে। সব কিছু স্পষ্টতর হতে থাকে। '৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেন ৬ দফা কর্মসূচি, মওলানা ভাসানীর ১৪ দফা। দুজনের লক্ষ্যই এক- বাঙালি জাতীয়তাবাদী জাগরণ সৃষ্টি করা। মওলানা ভাসানীর সঙ্গে চীনপন্থি বলে পরিচিত বাম- কমিউনিস্টরাসহ সারা দেশেই বেশ কিছু সৎ, ত্যাগী ও আদর্শবাদী রাজনীতিবিদ ছিলেন, কিন্তু তার তেমন কোনো শক্তিশালী সংগঠন ছিল না যা দেশব্যাপী একটা জাগরণ সৃষ্টি করতে পারে। অপরদিকে মওলানা ভাসানীর অনুসারীদের মতো সৎ, আদর্শবাদী নেতা-কর্মীর অভাব থাকলেও সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর তুলনামূলক জোরালো সংগঠন ছিল। বঙ্গবন্ধু সফল হলেন। পরিণত হলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতায়। এ ক্ষেত্রেও বিরোধ হলো না ভাসানী-মুজিবের। সত্তরের নির্বাচন নিয়ে এবার কথা বলি। মওলানা ভাসানী সেই নির্বাচন বর্জন করলেন 'ভোটের আগে ভাত চাই', স্লোগান দিয়ে। মওলানা সাহেবের নির্বাচন বর্জন নিয়ে নানাজন নানা কথা বলার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক 'ভুল ধরার'ও দৃষ্টতা দেখান এ ব্যাপারে। অথচ ঘটনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, মওলানা ভাসানীর সেই ভোট বর্জন ছিল ভাসানী-মুজিব সমঝোতার বাস্তবায়ন। হিসাবটা একেবারেই সহজ। ওই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭ আসনেই জিতেছিল। মওলানা ভাসানীর ন্যাপ যদি নির্বাচনে অংশ নিত, তাহলে কি হতো? বিশ্লেষকরা যা তখন বলেছিলেন, তার নির্যাস হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২টি আসনে ন্যাপের ভালো প্রার্থী ছিল। আসন বেশি না পেলেও তারা ভোট কেটে নিত বাঙালির, নৌকার এবং তাতে কমপক্ষে ৪৫ থেকে ৫৩টি আসনে হেরে যেত আওয়ামী লীগ। তখন পাকিস্তান জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত না। তাহলে কি হতো? কল্পনাই করা যায় না। সম্পূর্ণ বিষয়টাই রাজনৈতিক, দেশকেন্দ্রিক। সারা দুনিয়া দেখল বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের বিজয়কে দেখা হয় বাঙালিদের বিজয় হিসেবে। ৬ দফা আন্দোলন এবং ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন জাতিকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে দেয় অনেক দূর।

এরপর চলে আসি একাত্তরে। সংকট তখন তীব্র। পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সমগ্র বাঙালি জাতির দ্বন্দ্ব ততক্ষণে পৌঁছে গেছে মীমাংসার অযোগ্য স্তরে। সমাধান নিহিত পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে দেওয়ার মধ্যে। অর্থাৎ যুদ্ধ অনিবার্য। পাকিস্তানের সঙ্গে বাঙালিদের যুদ্ধ। এ নিয়ে প্রথমে দ্বন্দ্ব ছিল কারও কারও মধ্যে। যুদ্ধ না শান্তি? পাকিস্তান না কি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ? বাংলাদেশের পক্ষেই কিছু দালাল বাদ দিয়ে সাড়ে সাত কোটি 'বাঘ' গর্জে উঠল।

২৫ মার্চের কালরাতে বাংলাদেশের ঘুমন্ত, নিরস্ত্র, অপ্রস্তুত ও অসংগঠিত মানুষের ওপর কাপুরুষের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। শুরু হয় যুদ্ধ, ঘোষিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। পরিপূর্ণ বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর '৭১। ৩০ লাখ শহীদের তাজা খুন, দুই লক্ষাধিক মা-বোনের লুণ্ঠিত সম্ভ্রম, লাখ লাখ মানুষের সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে লাল-সবুজের পতাকা উড়ছে আমাদের আকাশে। এই স্বাধীনতা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের গৌরবের, অহংকারের। সৎ ও আদর্শবাদী রাজনীতির আলোকিত প্রভাতের ইশারায় দিন শেষে আমরা আজ স্বতন্ত্র পতাকা হাতে হাঁটছি পায়ে পায়ে। কিন্তু আমাদের মহান স্বাধীনতার গৌরবকে ম্লান করে দিচ্ছে অসুস্থ রাজনীতি।

স্বাধীনতার পর আমাদের সব কিছু আগের তুলনায় আরও অগ্রসর হবে এই প্রত্যাশা মোটেও বেশি নয়। কিন্তু জাতির সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পাকিস্তান আমল থেকে রাজনীতিতে যে নীতি ও আদর্শের ধারার কথা ওপরে উল্লেখ করেছি, এখন সেই ধারা পথ হারিয়েছে। নীতিবাদ, আদর্শবাদ এখন রাজনীতি থেকে বাদ পড়েছে। রাজনীতি আমাদের দেশে এখন শুধুই ক্ষমতার খেলা। আর এই ক্ষমতা ব্যক্তিবিশেষ, পরিবারবিশেষ এবং গোষ্ঠীবিশেষের জন্য। রাজনীতি এখন টাকা বানানোর মেশিন যেন! বিনা পুঁজি বা অল্প পুঁজিতে কম সময়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার নির্ভরযোগ্য অবলম্বন। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলে, বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগে সৎ, আদর্শবাদী, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের যথার্থ মূল্যায়ন নেই, শুধু তাই নয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এদের কোনো অবস্থানও নেই। এই সব দল এখন ব্যবসায়ী, কালো টাকার মালিক, অবসরপ্রাপ্ত আমলা এবং মাসলপাওয়ারে ঠাসা। রাজনীতিবিদরা আছেন ট্রেনের কম্পার্টমেন্টের ভিতরে জায়গা না থাকায় দরজায় ডাণ্ডা ধরে ঝুলে থাকার মতো। যারা ক্ষমতায় যেতে পারে তারা আর ক্ষমতা হারাতে চায় না, বিরোধী দলে চলে গেলে গদির নেশায় অস্থির হয়ে যায়। কোনো দলে গণতন্ত্রের চর্চা ও অনুশীলন নেই। দুই দলের দুই নেত্রীর কাছে দলীয় প্রধানের পদ দুটি যেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্তই দেওয়া আছে। তারা দুজন দলীয় প্রধানের পদ দুটি দখল করেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তারপর দলের অন্যান্য নেতার পদও বেরিয়ে আসে তাদের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে। এই অগণতান্ত্রিক চর্চা চলে উঁচু থেকে নিচু সব স্তরে। দলে রাজনীতি না থাকলে, গণতন্ত্র না থাকলে থাকে কী? দল হয়ে পড়ে পেশিনির্ভর। এরাই দলে চালু করেছে লুটেরা সংস্কৃতি। রাজনৈতিক দলে পেশিনির্ভর অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমাহারই সন্ত্রাস-সহিংসতা ও নৈরাজ্যকে উসকে দিচ্ছে। মেধাবী তরুণরা রাজনীতিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। জাতির আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারছে না। ফলে অসাধু, অযোগ্য ব্যবসায়ী ও কালো টাকার মালিকরা দল দখলের সুযোগ পেয়ে ভুল পথে পরিচালনা করছে দলকে। এরাই শাসন করছে রাজনীতি। এতে রাজনীতি অসুস্থ হবে না তো কি? এই অসুস্থ রাজনীতি আমাদের সব জাতীয় সম্ভাবনাকে বিনাশ করে দিচ্ছে। এ দেশের মানুষ সুন্দর জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। সমুদ্রপথে পালিয়ে যেতে জীবনের ঝুঁকি নেয়। দেশে কষ্টে বেঁচে থাকার চেয়ে অবৈধ পথে দেশ ছাড়ার মৃত্যুঝুঁকিকেও শ্রেয় মনে করছে কেউ কেউ। অথচ সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব পেলে এদেশ অনেক আগেই সমান্তরাল থাকত সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের সঙ্গে। একজন লি কুয়ান আর একজন মাহাথির গড়ে দিয়েছেন দুটি দেশ সিঙ্গাপুর আর মালয়েশিয়া। ইদানীং শেখ হাসিনার 'দলদাস' বুদ্ধিজীবীরা বলতে শুরু করেছেন, শেখ হাসিনা নাকি লি কুয়ান আর মাহাথিরের পথ ধরেছেন। এই দুই নেতাই গণতন্ত্রের আগে উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বিরোধী মত গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারা ভুলে যান, তাদের শাসনকালে বিশ্বরাজনীতির চরিত্র ও প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। গণতান্ত্রিক শক্তির দুর্বলতায় এবং বিশ্ব মোড়লদের স্বার্থে বিভিন্ন দেশে সামরিক শাসন, একনায়কতান্ত্রিক শাসন দাপটের সঙ্গে বিরাজমান ছিল। কিন্তু দুনিয়াজুড়ে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও শক্তি জোরদার হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। লি কুয়ান, মাহাথির মোহাম্মদদের চিন্তাচেতনায়ও পরিবর্তন আসে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কি এখন গণতন্ত্রের কফিনে পেরেক ঠুকে আবার নিষ্ঠুর একনায়কতান্ত্রিক শাসনে ফিরে যেতে পারবে? আমাদের বর্তমান কালটা লি আর মাহাথিরের প্রথম শাসনকাল নয়। এটা বিশ্বময় গণতন্ত্রের পূর্ণ যৌবনকাল। এখন ভিন্ন মত, ভিন্ন দল দমন-দলন করে উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে গদি অাঁকড়ে থাকা আর সম্ভব নয়। গণতন্ত্রহীন উন্নয়ন মডেলে জনগণের কোনো লাভও হয় না। লাভ হয় 'রেন্টাল, কুইক রেন্টাল' বিদ্যুৎ প্লান্টের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সরকারঘনিষ্ঠ অসাধুজনদের। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, লি কুয়ান বা মাহাথির মোহাম্মদের বিরুদ্ধে কি দুর্নীতি চর্চার বা দুর্নীতি লালনের তেমন কোনো অভিযোগ আছে? আর আমাদের দেশে? অবিরামই তো বলা হচ্ছে যে, অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের কর্তৃত্বে এবং প্রধান দুই দলের আনুকূল্যে জাতীয় রাজনীতি এখন অসুস্থ, কলুষিত ও দুর্বৃত্তায়িত। একমাত্র এবং একমাত্র গণতন্ত্র চর্চা, গণতন্ত্রের অনুশীলন ও প্রয়োগই রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করা দুর্নীতির বীজ ও বিষ নির্মূল করতে পারে।

এটা নিশ্চিত করতে হলে এই মুহূর্তে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভুল স্বীকার ও সংশোধন করতে হবে। সবার অংশগ্রহণমূলক একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনে সম্মত হতে হবে সরকার পক্ষকে, সহিংসতা-নাশকতার পথ থেকে ফিরে আসতে হবে প্রধান সরকারবিরোধী পক্ষকে। তাদের উভয় পক্ষকে, বিশেষ করে উভয় নেত্রীকে অনুধাবন করতে হবে যে, তাদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক বৈরী আচরণ ও বেপরোয়া কার্যক্রম দেশ ও জাতির ক্ষতি করছে। স্বাধীনতার গৌরব ও জাতির অপার সম্ভাবনা বিনাশ করছে। সবার প্রত্যাশা, দুই নেত্রী তাদের বর্তমান 'মাইন্ডসেট' পরিবর্তন করবেন এবং রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণ-চিন্তাকে প্রাধান্য দেবেন। জনগণ ফুঁসে ওঠার আগেই তাদের বিষয়টি ভাবা দরকার। জনগণ কি না করতে পারে! তিন সিটি নির্বাচন দুই নেত্রীর জন্যই এসিড টেস্ট। দখলের চিন্তা বা বর্জনের রাজনীতি কারোরই কোনো কাজে আসবে না। এই নির্বাচন হয়ে যেতে পারে জাতীয় রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট। হয় ভালো কিছু, নতুবা খুব খারাপ।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট

ই-মেইল : [email protected]

 

এই বিভাগের আরও খবর
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
নির্বাচন হবে কী হবে না
নির্বাচন হবে কী হবে না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
সর্বশেষ খবর
বগুড়ায় বিএনপির ওলামা-মাশায়েখ সমাবেশ
বগুড়ায় বিএনপির ওলামা-মাশায়েখ সমাবেশ

২ সেকেন্ড আগে | দেশগ্রাম

ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে হামলার ভিডিওটি গুজব
ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে হামলার ভিডিওটি গুজব

১ মিনিট আগে | নগর জীবন

‌‘জামায়াত দেশপ্রেমিক দলকে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে’
‌‘জামায়াত দেশপ্রেমিক দলকে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে’

৫ মিনিট আগে | রাজনীতি

‘উনি আমারে ৪ আগস্ট বাংলামোটরে গুলি করছে’ বলেই অভিযুক্তকে জাপটে ধরলেন যুবক
‘উনি আমারে ৪ আগস্ট বাংলামোটরে গুলি করছে’ বলেই অভিযুক্তকে জাপটে ধরলেন যুবক

৮ মিনিট আগে | নগর জীবন

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : তদন্ত কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়লো
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : তদন্ত কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়লো

১০ মিনিট আগে | জাতীয়

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বোলিংয়ে টাইগাররা, একাদশে সাইফ
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বোলিংয়ে টাইগাররা, একাদশে সাইফ

১১ মিনিট আগে | মাঠে ময়দানে

পঞ্চগড়ে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ শুরু
পঞ্চগড়ে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ শুরু

১৩ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

প্রথমবারের মতো দেখা গেল গ্রহ সৃষ্টির ছবি
প্রথমবারের মতো দেখা গেল গ্রহ সৃষ্টির ছবি

১৪ মিনিট আগে | বিজ্ঞান

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার

১৭ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো ১০৪ বিদেশির প্রবেশ
কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো ১০৪ বিদেশির প্রবেশ

২৪ মিনিট আগে | পরবাস

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির ২৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা
ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির ২৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা

২৭ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

এশিয়া কাপ হকিতে বড় জয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ
এশিয়া কাপ হকিতে বড় জয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ

৩২ মিনিট আগে | মাঠে ময়দানে

মাছের খাদ্যে বিষাক্ত উপকরণ ব্যবহার বন্ধের দাবিতে ভালুকায় মানববন্ধন
মাছের খাদ্যে বিষাক্ত উপকরণ ব্যবহার বন্ধের দাবিতে ভালুকায় মানববন্ধন

৪৫ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

অভিবাসীদের নাউরু পাঠাতে চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার
অভিবাসীদের নাউরু পাঠাতে চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার

৫৪ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

বৃহত্তর সুন্নি জোটের আত্মপ্রকাশ
বৃহত্তর সুন্নি জোটের আত্মপ্রকাশ

৫৬ মিনিট আগে | জাতীয়

পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে অভিবাসী নৌকা ডুবে ৭০ জনের প্রাণহানি
পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে অভিবাসী নৌকা ডুবে ৭০ জনের প্রাণহানি

১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ডাকসু নির্বাচন : ঢাবিতে ৪ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা
ডাকসু নির্বাচন : ঢাবিতে ৪ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা

১ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে : সরকারের বিবৃতি
নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে : সরকারের বিবৃতি

১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৩৬৭ রোগী
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৩৬৭ রোগী

১ ঘণ্টা আগে | ডেঙ্গু আপডেট

কেউ চিরকাল বন্ধু বা শত্রু থাকে না, ট্রাম্পের শুল্কারোপের মাঝে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য রাজনাথের
কেউ চিরকাল বন্ধু বা শত্রু থাকে না, ট্রাম্পের শুল্কারোপের মাঝে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য রাজনাথের

১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিনের ওপর চাপ বৃদ্ধির অঙ্গীকার ফ্রান্স-জার্মানির
ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিনের ওপর চাপ বৃদ্ধির অঙ্গীকার ফ্রান্স-জার্মানির

১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভোলায় ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ভোলায় ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

কুষ্টিয়ায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ
কুষ্টিয়ায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

জম্মু-কাশ্মীরে বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু
জম্মু-কাশ্মীরে বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু

১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

তিন মাস পর ফের সুন্দরবনের দুয়ার খুলছে সোমবার
তিন মাস পর ফের সুন্দরবনের দুয়ার খুলছে সোমবার

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ইসরায়েলি হামলায় ক্ষুব্ধ হুতি, পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি
ইসরায়েলি হামলায় ক্ষুব্ধ হুতি, পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি

১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

মঙ্গলের অভ্যন্তরে ভয়াবহ সংঘর্ষের প্রমাণ পেল নাসা
মঙ্গলের অভ্যন্তরে ভয়াবহ সংঘর্ষের প্রমাণ পেল নাসা

১ ঘণ্টা আগে | বিজ্ঞান

১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন হবে : প্রেস সচিব
১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন হবে : প্রেস সচিব

১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

সাংবাদিক তুহিন হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা: অ্যাটর্নি জেনারেল
সাংবাদিক তুহিন হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা: অ্যাটর্নি জেনারেল

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

রাজবাড়ীতে কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত
রাজবাড়ীতে কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

সর্বাধিক পঠিত
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

২০ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

২০ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব
নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব

১৬ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নুরুল হক নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে, মেডিকেল বোর্ড গঠন
নুরুল হক নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে, মেডিকেল বোর্ড গঠন

৬ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

মেরুন রঙের পোশাক পরিহিত যুবক ডিবির কেউ নয় : ডিএমপির ডিবিপ্রধান
মেরুন রঙের পোশাক পরিহিত যুবক ডিবির কেউ নয় : ডিএমপির ডিবিপ্রধান

৩ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা
নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা

২২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক
আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক

২২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

১৬ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

৮ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন
হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন

২৩ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক
ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক

৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ

১৬ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

‘বাংলা বললেই কি বাংলাদেশি’, মোদী সরকারের জবাব চাইল আদালত
‘বাংলা বললেই কি বাংলাদেশি’, মোদী সরকারের জবাব চাইল আদালত

৪ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার দুই সেতু উড়িয়ে দিল ইউক্রেন (ভিডিও)
ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার দুই সেতু উড়িয়ে দিল ইউক্রেন (ভিডিও)

৫ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি
বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি

৯ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি
নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি

১৭ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নুরকে হামলার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন গোলাম মাওলা রনি
নুরকে হামলার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন গোলাম মাওলা রনি

২ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

সকাল থেকেই কাকরাইলে জাপার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের অবস্থান
সকাল থেকেই কাকরাইলে জাপার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের অবস্থান

৬ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

বিএনপি ছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচন পেছাতে : রুমিন ফারহানা
বিএনপি ছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচন পেছাতে : রুমিন ফারহানা

২০ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবির আইনগত দিক যাচাই করে দেখা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল
জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবির আইনগত দিক যাচাই করে দেখা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল

৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প
কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প

১০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা

২২ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক রবিবার
নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক রবিবার

২ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ট্রাম্পের বেশির ভাগ শুল্ক অবৈধ: মার্কিন আদালত
ট্রাম্পের বেশির ভাগ শুল্ক অবৈধ: মার্কিন আদালত

৬ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

২১ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স
খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স

৯ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

ইসরায়েলি হামলার পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি হুথির
ইসরায়েলি হামলার পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি হুথির

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

মঙ্গলগ্রহের ভেতরে কি আছে জানালেন বিজ্ঞানীরা
মঙ্গলগ্রহের ভেতরে কি আছে জানালেন বিজ্ঞানীরা

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

প্রিন্ট সর্বাধিক
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

প্রথম পৃষ্ঠা

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ
শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ

পেছনের পৃষ্ঠা

কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল
কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল

প্রথম পৃষ্ঠা

দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা
দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা

পেছনের পৃষ্ঠা

বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই
বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই

প্রথম পৃষ্ঠা

রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে
রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে

পেছনের পৃষ্ঠা

আজকের ভাগ্যচক্র
আজকের ভাগ্যচক্র

আজকের রাশি

মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন
মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন

শনিবারের সকাল

সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে
সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে

নগর জীবন

পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ
পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ

নগর জীবন

বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত
বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত

নগর জীবন

চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি
চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি

শোবিজ

মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পৃষ্ঠা

ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ
ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের
অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের

প্রথম পৃষ্ঠা

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির
বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির

নগর জীবন

শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য
শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য

পেছনের পৃষ্ঠা

থামছেই না নারী পাচার
থামছেই না নারী পাচার

পেছনের পৃষ্ঠা

জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!
জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!

পেছনের পৃষ্ঠা

হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭
হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

পেছনের পৃষ্ঠা

ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক
ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক

পেছনের পৃষ্ঠা

নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স
নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স

মাঠে ময়দানে

১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য
১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য

প্রথম পৃষ্ঠা

ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস
ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস

পেছনের পৃষ্ঠা

লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে
লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

প্রথম পৃষ্ঠা

আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন
আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন

পেছনের পৃষ্ঠা

বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রথম পৃষ্ঠা

কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ
কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না
খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না

প্রথম পৃষ্ঠা

প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি
প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি

প্রথম পৃষ্ঠা