শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৩:৩৮

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে 'কোভিড রিকোভারী স্কলারশিপ'র উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে 'কোভিড রিকোভারী স্কলারশিপ'র উদ্বোধন
কোভিড রিকোভারী স্কলারশিপের উদ্বোধনীতে অতিথিরা

করোনাভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতির ভীত যেমন নাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনি অনেক মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারকে দুঃসহ কষ্টের মাঝে ঠেলে দিয়েছে। এমন অস্থির সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘পিপলএনটেক’ গত ২৪ জুলাই দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ২ কোটি টাকার কোভিড রিকোভারী স্কলারশিপ-এর ঘোষণা দেয়। 

প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপ পেতে আবেদন করেন। তাদের মধ্য থেকে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।

এতে মোট ৯টি কোর্স রয়েছে। স্কলারশিপের শিক্ষার্থীরা কেউ যদি পরবর্তী সময়ে অ্যাডভান্স কোর্স করতে চায়, তবে সেক্ষেত্রে তারা ৫০ শতাংশ স্কলারশিপের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। 

এছাড়া যারা এবার আবেদন করে স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হননি, ভবিষ্যতে পিপলএনটেকের যেকোনো স্কলারশিপের ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়েছে পিপলএনটেক কর্তৃপক্ষ।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে 'কোভিড রিকোভারী স্কলারশিপ ২০২০' এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন পিপলএনটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা হানিপ এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মো. ইউসূফ খান, ‘আমরাই ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরাম’র সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন।

হোসনে আরা বেগম পিপলএনটেকের এমন উদ্যোগে উচ্ছাস প্রকাশ করে যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। সেই সাথে তিনি তথ্য প্রযুক্তি বিকাশে ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, আমি নিজে হয়তো আমার প্রাতিষ্ঠানিক কাজের বাইরে এমন ভালো কাজ করার সামর্থ রাখি না যেমনটি পিপলএনটেক করার চেষ্টা করছে। তবে যারা ভালো কাজ করে তাদের সহযোগিতা করতে আমি প্রাণপন চেষ্টা করি। সেই কারণে কোভিড রিকোভারী স্কলারশিপ নামের এই উদ্যোগে ২ হাজার জন শিক্ষার্থীকে আইটি প্রশিক্ষণ দেবার এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।

হোসেনে আরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য কিছু সুযোগ সৃষ্টি করছি। ৭টি ইনকিউবেশন সেন্টারের মাধ্যমে বর্তমানে ১৪০০০ শিক্ষার্থীকে আমরা প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আরেকটি ইনকিউবেশন সেন্টারে মোট ১৬০০০ জনকে ট্রেনিং দিচ্ছি, যার মধ্যে ৫০০০ জনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ২১০০ জনের ট্রেনিং চলছে এবং আমরা আগামী সপ্তাহে নতুন ব্যাচ শুরু করার জন্য আবার বিজ্ঞপ্তি দিতে যাচ্ছি। সেখানে প্রযুক্তি সম্পর্কিত কোর্স থাকবে, ট্রাবলশ্যুট এর উপর থাকবে, সাথে যার যেদিকে মনোযোগ আছে যেমন মেশিন লার্নিং, আইওটি ইত্যাদি নিয়ে আমরা ট্রেনিং দিচ্ছি।’

পিপলএনটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা হানিপ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, পিপলএনটেক এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে, যাদের বেশির ভাগই মেয়ে। এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটি লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সিঙ্গেল কিংবা বেকার মা-দের প্রযুক্তিভিত্তিক কাজ শিখিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের পাশে দাঁড়ানো।

আবু হানিপ উল্লেখ করেন, শুধু ব্যাচেলর কিংবা মাস্টার্স ডিগ্রীধারী নয়, গৃহিণী, রেস্তোরা কর্মীদেরকে কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান আছে এমন শিক্ষার্থীদের পিপলএনটেক, রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট নির্ভর এমন প্রশিক্ষণ দেয়, যেন তারা চাকরি পেয়েই সেই কাজটি দক্ষতার সাথে করতে পারে। কেউ এন্ট্রি লেভেলের চাকরি করলে অভিজ্ঞতার অভাবে তাকে তার সহকর্মীদের থেকে কাজ শিখে নিতে হয়। কিন্তু পিপলএনটেকের প্রশিক্ষণের যে মডেল, তাতে শিক্ষার্থীরা রিয়েল লাইফ প্রজেক্টের অভিজ্ঞতা নিয়েই চাকরি শুরু করতে পারেন। 

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর