শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০১:০৯
প্রিন্ট করুন printer

নেয়া নয়, করোনাকালে জনগণকে দেয়ার বাজেট করেছে কানাডা

অনলাইন ডেস্ক

নেয়া নয়, করোনাকালে জনগণকে দেয়ার বাজেট করেছে কানাডা

করোনার প্রতিষেধক কতো দ্রুত মানুষের নাগালে পৌঁছাবে তার উপর অর্থনীতির গতি নির্ভর করছে- এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে কানাডা সরকার নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা জাল নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েই জাতীয় বাজেট তৈরি করেছে। করোনাকালে কানাডার জাতীয় বাজেটটি আসলে জনগণের কাছ থেকে নেয়ার নয়, তাদের দেয়ার বাজেট।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ এ জাতীয় বাজেট নিয়ে আলোচনায় এই মত প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ‘পকেটে ডলার দেওয়ার বাজেট’ শীর্ষক এই আলোচনায় অটোয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ ড.শিশির শাহনওয়াজ, নিউব্রান্সউইক- সেইন্ট – জন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, হিসাব বিজ্ঞানী ড. মুশতাক এম হোসাইন এবং ব্যাংকার, সাংস্কৃতিক সংগঠক সবিতা সোমানী অংশ নেন।

অটোয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ ড.শিশির শাহনওয়াজ বাজেটে নেয়া বিভিন্ন সুরক্ষা জালের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, অর্থনীতি নিজ পায়ে শক্তভাবে দাঁড়ানোর আগ পর্যন্ত মানুষকে সচল রাখতে হবে। সে জন্য এই বাজেটে সরকার ব্যক্তি পর্যায় থেকে ব্যবসা বাণিজ্য এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য নানা ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার বাজেটকে অর্থনীতি পূণরুদ্ধারের বাজেট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। নতুন কর বা উচ্চ কর দুর্যোযোগ থেকে অর্থনীতির পূণরুদ্ধার পর্যায়ে খুব একটা সহযোগিতা করে না। কর থেকে রাজস্ব আয় বাাড়িয়ে এগুনোর ভাবনা থেকে যারাই বাজেট করেছে তারা খুব একটা এগুতে পারেনি। তিনি বলেন, বাজেটে করের ক্ষেত্রে কানাডা সরকার আসলে ভর্তুকি দিচ্ছে। কর বিভাগকে আরও শক্তিশালী কর ফাঁকি রোধ করার ব্যবস্থা নিয়েছে।  

নিউব্রান্সউইক- সেইন্ট – জন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, হিসাব বিজ্ঞানী ড. মুশতাক এম হোসাইন বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পকেটে যাতে কিছু যায় সে দিকে নজর রেখে এই বাজেট করা হয়েছে। অর্থনীতির ক্রান্তিকালে নাগরিকদের ভ্যান্টিলেশনের দরকার হয়, কিন্তু সেই ভ্যান্টিলেশন দীর্ঘায়িত হলে সমস্যা দেখা দেবে। তিনি বলেন, আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে অর্থনীতি এক ধরনের স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে তেমন ভাবনা থেকেই বাজেটে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা গেলে সরকারের এই পরিকল্পনা সফল হবে। ভ্যাকসিন বিলম্বিত হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পরতে পারে। 

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিরি অভিজ্ঞতার আলোকে বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে যথেষ্ট মনোযোগ দেয়া হয়েছে। তা ছাড়া পরিবেশখাতে বরাদ্দ এবং নেট জিরো ইকোনোমির যে অঙ্গীকার করা হযেছে সেটি অত্যন্ত সময়েপোযোগী পদক্ষেপ। 

ব্যাংকার এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক সবিতা সোমানী তার আলোচনায় বলেন, বিশেষ একটি পরিস্থিতিতে এই বাজেট দেয়া হয়েছে বলে সরকার হয়তো স্বল্পমেয়াদে নাগরিকদের সুস্থ রাখা এবং অর্থনীতিকে পূণরুদ্ধারকেই গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু জীবনযাত্রার মানের উৎকর্ষতার দিকে নজর দিতে পারেনি, সেটি হয়তো এই সময়ে সম্ভবও না। তিনি বলেন, ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ারের ব্যাপারে সরকারের বক্তব্য থাকা দরকার ছিলো। মানসিক চিকিৎসার জন্য বাজেটে মোটা অংকের বরাদ্দ দেয়া হলেও সেগুলো ব্যয়ের পদ্ধতিটা ঠিক পরিষ্কার না। তিনি দৈনিক ১০ ডলার ব্যয়ে চাইল্ড কেয়ার প্রবর্তনের ঘোষণাকে যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অভিবাসী নারীদের কর্মশক্তিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেহেতু আমরা কানাডায় বসবাস করি, সরকারের নানা পদক্ষেপ, নীতিমালা নিয়ে আমাদের কথা বলা উচিৎ। বাজেট নিয়ে আমাদের মতামত সরকারকে পৌঁছে দেয়া উচিৎ। এ ব্যাপারে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন এবং মিডিয়াকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি ফেডারেল সরকারের বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মহামারী পরবর্তীকালে অর্থনীতি পূণরুদ্ধার এবং নাগরিকদের চাহিদা পূরণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে এই বাজেট।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

এই বিভাগের আরও খবর