১৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৯:০১

পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে  বাংলাদেশ হাইকমিশন যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে দূতালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতি ও অস্থায়ী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন, বাণীপাঠ, আলোচনা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ মোনাজাত অনুঠিত হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং তাদের পরিবারবর্গ উৎসব আনন্দে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে চ্যান্সারি প্রাঙ্গণ বিজয় দিবসের ব্যানার, পোস্টার ও রঙিন বেলুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়। 

হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের  উপস্থিতিতে চ্যান্সারি প্রাঙ্গণে হাইকমিশনার মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। পতাকা উত্তোলনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রমাণ আকৃতির প্রতিকৃতি ও অস্থায়ী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বঙ্গবন্ধু ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাইকমিশনার ও হাইকমিশনে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী। 
 
হাইকমিশনারের সভাপতিত্বে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ আলোচনা পর্ব শুরু হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

হাইকমিশনার মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী তার বক্তব্যে বলেন, এ বছর আনন্দঘন পরিবেশে আমরা উদযাপন করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী  ‘মুজিববর্ষ’ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যা বাঙালির বিজয়োৎসবে যোগ করেছে অনন্য এক মাত্রা।  

তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন বাঙ্গালি জাতির মুক্তির মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের। তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতাকে। গভীর শ্রদ্ধা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বিদেশী বন্ধু, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও সকল স্তরের জনগণকে যারা এ বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। সবশেষে তিনি বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে শোষণহীন, বঞ্চনাহীন, সমৃদ্ধ ও জ্ঞাননির্ভর জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মানে সকলকে যার যার অবস্থানে থেকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্বের পর শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিভিন্ন ইভেন্টে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর হাইকমিশনার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুসরণে উপস্থিত সকলকে সুরর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের ও সকল শিশু-কিশোরদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরন করা হয়। 

সবশেষে, জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের দেশীয় সুস্বাদু খাবার পরিবেশন  করা হয়।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর