Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মে, ২০১৯ ২২:২৮

এক ফসলের চিকিৎসকের কথা

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

এক ফসলের চিকিৎসকের কথা

নিতাই চন্দ্র রায়। চোখে হালকা ফ্রেমের চশমা। বেশ লম্বাটে একজন মানুষ। কাপর চোপড়েও বেশ পরিপাটি। কথা-বার্তায়ও বেশ মার্জিত। ষাট বছর বয়সেও অনেক উদ্যোমী। নাম নিতাই হলেও তিনি এখন বিভিন্ন নামে পরিচিত। কারও কাছে কৃষকের বন্ধু, কারও কাছে আবার শষ্যের বন্ধু।

তবে প্রায় এক ঘণ্টার আলাপচারিতায় মনে হয়েছে নিতাই চন্দ্র রায় একজন আপদমস্তক চিকিৎসক। হ্যাঁ তিনি ফসলি চিকিৎসক। এ গ্রাম ওই গ্রাম ঘুরে দিনভর ফসলের চিকিৎসা করে থাকেন। এমন কেন মনে হলো ব্যাখ্যা দেই। যতক্ষণ বাহিরে থাকেন ততক্ষণ তিনি এক পকেটে ছোট একটি প্যাড আর কলম রাখেন। অন্য পকেটে একটি অ্যান্ড্রোয়েট মোবাইল ফোন। এ নিয়েই প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা অব্ধি ছুটে চলেন নিতাই চন্দ্র রায়। এ গ্রাম ওই গ্রাম ঘুরে ঘুরে জানতে চেষ্টা করেন কোন ফসলের কী রোগ। যদি রোগের দেখা মেলে তাহলে ওই প্যাডে লিখে দেন ব্যবস্থাপত্র। আর সেই কৃষকের যদি স্মার্ট ফোন থাকে তাহলে নিজের মোবাইল থেকে শেয়ার করেন কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন অ্যাপস। নিতাই চন্দ্র রোজ বিকালে উপজেলার বিভিন্ন কীটনাশকের দোকানে বসেন। সেখানে ফসলের সমস্যা নিয়ে আসা কৃষকদের ফসলের বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি এবং কীটনাশক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করেন। এ ছাড়াও মোবাইল ফোনেও তিনি কৃষকদের পরামর্শ দেন বেশ গুছিয়ে গাছিয়ে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৮৪ সালে বিএসসি পাস করেন তিনি। তারপর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বিভিন্ন চিনিকলে দীর্ঘ ৩২ বছর চাকরি করেছেন। অবসর নিয়েছেন ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি। শেষ জীবনে নাটোর জেলার গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে ছিলেন মহাব্যবস্থাপক (কৃষি)। চাকরি শেষ করে ফিরলেন বাড়িতে। তবে ৬০ বছরের এই জীবনে তিনি এখনো বসে নেই। ছুটেন সবুজের প্রন্তরে প্রন্তরে।

নিতাই চন্দ্রের কাছে প্রশ্ন ছিল কেন কৃষকদের সেবা করেন? একগাল হাসি দিয়ে বলেন, ‘এ নিয়ে পরিবারের বিস্তর অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে। তাদের বলি, চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি কাজ থেকে নয়। আর কৃষকের পাশে দাঁড়ানো আমার পুরনো অভ্যাস। তাই অজস্র সময়ের ফাঁকে ঘুরে ঘুরে দেখি ফসলি জমির কী অবস্থা? সমস্যা থাকলে পরামর্শ দেই।

ফসলি চিকিৎসক নিতাই চন্দ্র রায়কে যারা খুব কাছ থেকে চেনেন তারা তার আরও একটি গুণ জানেন। তিনি একজন কবিও। ছাত্রজীবন থেকেই রয়েছে তার লেখালেখির অভ্যাস। ‘নাচে জ্যোৎ¯œা, মায়াবী আগুন’ নামের একটি যৌথ কাব্যগ্রন্থও ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে এই ফসলি চিকিৎসকের।


আপনার মন্তব্য