শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৩৮

গবেষণা

গবেষণায় অনন্য হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

গবেষণায় অনন্য হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি
নদী নিয়ে নেই প্রয়োজনীয় গবেষণা, নেই সঠিক তথ্য-উপাত্ত। ফলে নেওয়া যায় না সমন্বিত ও পরিকল্পিত পরিকল্পনা। এ অবস্থায় হালদা নদীকে কেন্দ্র করে   পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা নিতে দেশে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠা হলো একক নদীভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি...  

উপমহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮টি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। এ নিয়ে দেশজুড়ে দারুণ তোলপাড় শুরু হয়। অসন্তোষ প্রকাশ করে   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ  মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির মাধ্যমে হালদা নদীতে বিপন্ন প্রাণী ডলফিন মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। কমিটি হালদা ল্যাবের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মিঠাপানির ডলফিনের পোস্ট মরটেম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা পেশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয় ‘ইঞ্জিনচালিত বোটের আঘাতে ডলফিনগুলোর মৃত্যু হয়’। এরপর ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দুটি কক্ষ নিয়ে যাত্রা করে চবি হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠা হলো নদী ভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র। যার মাধ্যমে নদী, পানি, মাছ, প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করে। একই সঙ্গে ল্যাবে চলছে একাডেমিক গবেষণাও। ল্যাবটি তদারকির দায়িত্বে আছেন চবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া। ল্যাব প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট দেশের নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ। অস্বাভাবিক হারে কমছে পানির প্রবাহ। ফলে নদীগুলোতে জেগেছে অসংখ্য চর। মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে নৌ চলাচল, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। অথচ পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির সার্বিক উন্নয়নে নদীগুলো সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু নদী নিয়ে নেই প্রয়োজনীয় গবেষণা, নেই সঠিক তথ্য-উপাত্ত। ফলে নেওয়া যায় না সমন্বিত ও পরিকল্পিত পরিকল্পনা। এমতাবস্থায় হালদা নদীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা নিতে দেশে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠা হলো একক নদী ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি।  হালদা ল্যাবে গবেষণা   ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ছয় দিনের ‘এক্সপেডিশন সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ শীর্ষক কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে সংগ্রহকৃত মাছ ও অন্যান্য জলজ সামুদ্রিক নমুনা শনাক্ত করা হয়। পরে ‘রিপোর্ট অন ফিশারিজ রিসোর্সেস অব ‘সং’ এক্সপেডিশন’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়। তাছাড়া আশির দশকে হালদা নদীতে নির্মিত স্লুইসগেটগুলোর যথার্থতা যাচাই ও  সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদফতর এবং মৎস্য অধিদফতরের যৌথ কমিটির মাঠ পর্যায়ের বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন প্রকাশ ও  সুপারিশমালা প্রণয়ন করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং হালদা ল্যাব যৌথভাবে হালদা নদীর বর্তমানের সবচেয়ে বড় পপুলেশন কাতলা ব্রুড মাছের ডিএনএ বার কোডিং সম্পন্ন করে। হালদা গবেষণার ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী কাজ বলে মনে করছেন গবেষকরা। ‘লাইভহুড স্টাটাস অব অ্যাগ কালেক্টরস অ্যান্ড অ্যাগ কালেক্টশন ইন দ্য হালদা রিভার’ শীর্ষক জরিপ পরিচালনা এবং রিপোর্ট পেশ করা হয়। ‘সুসাই ইকোনমিক স্টাটাস অব টোব্যাকো ফার্মাস ইন দ্য আপস্ট্রিম অব হালদা রিভার’ শীর্ষক জরিপ পরিচালনা এবং রিপোর্ট পেশ, ‘অ্যাসেসমেন্ট অব বেনথিক পপুলেশন অব হালদা রিভার’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন পেশ, মৎস্য অধিদফতর, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি যৌথভাবে পদ্ধতি নির্ধারণ করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহের পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং এ পদ্ধতি অনুসরণে সফলতা অর্জন করে।

 

 


আপনার মন্তব্য