শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জুন, ২০১৬ ২৩:৪১

‘গোলরক্ষক নয়, যেন চুম্বক’

বাদল রায় ও সালাম মুর্শেদী বললেন, লাল মোহাম্মদ ছিলেন অসাধারণ গোলরক্ষক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

‘গোলরক্ষক নয়, যেন চুম্বক’

বাংলাদেশের ফুটবলে সেরা গোলরক্ষক কে? এক্ষেত্রে শহিদুর রহমান সান্টুর নামটি সবচেয়ে আগে উচ্চারিত হবে এ নিয়ে কারও সংশয় নেই। মোতালেবও উঁচুমানের গোলরক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে মহসিন ও কাননের নামও আসবে। কিন্তু আরও একজন গোলরক্ষক ছিলেন যিনি নিয়মিত খেলতে পারলে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পারতেন। হ্যাঁ লাল মোহাম্মদ আশি দশকে ঢাকা ফুটবলের জনপ্রিয় নাম। খুব বেশি দিন খেলেননি, অথচ তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল দেশব্যাপী। ঢাকার মাঠে দর্শকরা তাকে চুম্বক বলেই ডাকতেন। পুলিশ অ্যাথলেট ক্লাব থেকেই ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবলে তার ক্যারিয়ার শুরু। ছোট দল কিন্তু লাল মোহাম্মদের নৈপুণ্য চোখে পড়ে সবারই। ১৯৮০ সালে পুলিশ অনেক শক্তিশালী দলের পয়েন্ট নষ্ট করেছিল। যার পুরো কৃতিত্বটা দেওয়া যায় লাল মোহাম্মদকে। নিশ্চিত গোল রক্ষা করে দলকে এনে দেন মূল্যবান পয়েন্ট। লাল মোহাম্মদকে অনেক বড় দলই অফার দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৮২ সালে তিনি যোগ দেন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানে। এর আগের বছর অর্থাৎ ১৯৮১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়। এ টুর্নামেন্টে লাল মোহাম্মদ খেলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও লাল মোহাম্মদের পারফরম্যান্স সবাইকে মুগ্ধ করে। মূলত এ টুর্নামেন্ট থেকেই লালের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে   দেশব্যাপী। বিদেশি দলগুলোও তার পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে গেছে। ১৯৮২ সালে ফেডারেশন কাপে মোহামেডান-আবাহনী যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়। অথচ পুরো ম্যাচে আবাহনী যে সুযোগ পেয়েছিল তা কাজে লাগাতে পারলে বড় ব্যবধানে জিততে পারত। লাল মোহাম্মদের দৃঢ়তায় তা সম্ভব হয়নি। আবাহনীর অসংখ্য গোল রক্ষা করেন। খেলা দেখে মনে হচ্ছিল আবাহনী যেন লড়ছে এক লাল মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গোল শূন্য ড্র হয়। ১৯৮২ সালে লিগে ভিক্টোরিয়ার কাছে মোহামেডান হেরে যায়। এ ম্যাচের পর লালকে আর মাঠে দেখা যায়নি। অভিমান করেই তিনি ফুটবল থেকে দূরে সরে যান। সালাম মুর্শেদী ও বাদল রায় ছিলেন লালের সঙ্গী। দুজনায় স্মৃতিচারণ করে বললেন, লাল মোহাম্মদ ছিলেন অসাধারণ এক গোলরক্ষক। নিয়মিত খেলতে পারলে তার খ্যাতি অনেক দূর গিয়ে ঠেকতো। সোমবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশ হারিয়েছে একজন কৃতী ফুটবলারকে।


আপনার মন্তব্য