রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ টা

পাঁচ বছর পর উইন্ডসর পার্কে ক্রিকেট

উইন্ডসর পার্কের ইতিহাসের পাতায় সোনালি অক্ষরে লেখা রয়েছে বাংলাদেশের নাম। ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই ১২ হাজার আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়ামটির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

পাঁচ বছর পর উইন্ডসর পার্কে ক্রিকেট

ডমিনিকা প্রজাতন্ত্রের মূল স্টেডিয়াম উইন্ডসর পার্ক। দ্বীপরাষ্ট্রটির দক্ষিণে রসেউতে অবস্থিত স্টেডিয়ামটিতে শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলও হয় নিয়মিত। স্টেডিয়ামটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছে ২০১৭ সালের পর। পাঁচ বছর আগে এই মাঠে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচটি ছিল টেস্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। ২০০৮ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইপর্বে ডমিনিকা মুখোমুখি হয়েছিল প্রতিবেশী বার্বাডোজের। মাল্টি পারপাস স্টেডিয়ামটি মূলত নির্মিত হয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। এই মাঠে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু সংখ্যায় বেশি নয়। টেস্ট ৫, ওয়ানডে ৪ এবং টি-২০ ম্যাচ হয়েছে ২টি। পাঁচ বছর পর মাঠটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে। কিন্তু টি-২০ ফিরছেন ২০১৪ সালের পর। ৮ বছর আগে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই মাঠে। ক্যারিবীয়রা সিরিজ খেলেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। দুই দলই জিতেছিল একটি করে ম্যাচ। বাংলাদেশ এই প্রথম টি-২০ ম্যাচ খেলবে উইন্ডসর পার্কে। তবে মাঠটি কিন্তু অপরিচিত নয় মাহমুদুল্লাহ, সাকিবদের। ২০০৯ সালে ক্যারিবীয় সফরে দুটি ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ এবং জিতেছিল দুটিই। ওয়ানডে দুটি জিতেছিল যথাক্রমে ৫২ রানে ও ৩ উইকেটে।

উইন্ডসর পার্কের ইতিহাসের পাতায় সোনালি অক্ষরে লেখা রয়েছে বাংলাদেশের নাম। ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই ১২ হাজার আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়ামটির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে। সাকিব বাহিনী ম্যাচটি জিতেছিল ৫২ রানে। মোহাম্মদ আশরাফুলের ৫৭ ও সাকিবের ৫৪ রানে ভর করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭৬ রান করেছিল। আব্দুর রাজ্জাকের ঘূর্ণিতে স্বাগতিকদের ১৯৪ রানে বেঁধেছিল টাইগাররা। ২৮ জুলাই দ্বিতীয় ওয়ানডেও জিতেছিল সাকিব বাহিনী ৩ উইকেটে। ট্রাভিস ডাওলিনের সেঞ্চুরিতে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ছিল ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭৪ রান। ৬ বল হাতে রেখে টাইগাররা ম্যাচটি জিতেছিল আশরাফুলের ৬৪ ও সাকিবের ৬৫ রানে ভর করে। পরিসংখ্যানের বিচারে উইন্ডসর পার্ক বাংলাদেশের পয়মন্ত ভেন্যু!

পয়মন্ত ভেন্যু হলেও মাহমুদুল্লাহ বাহিনী কতটা প্রস্তুত প্রথমবারের মতো টি-২০ ম্যাচ খেলতে। যে ভয়ংকর ও ভয়াবহ সমুদ্র যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্রিকেটাররা সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকায় পৌঁছান, তাতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাটা সত্যিকার অর্থেই কঠিন। তারপরও ম্যাচ জয়ের প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছেন মাহমুদুল্লাহরা। টি-২০ পরিসংখ্যানের হিসেবে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দলের মুখোমুখিতে ক্যারিবীয়দের ৭ জয়ের বিপরীতে টাইগারদের জয় ৫টি। দুই দল সর্বশেষ পরস্পরের বিপক্ষে খেলেছিল টি-২০ বিশ্বকাপে। তীব্র উত্তেজনার ম্যাচটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছিল মাত্র ৩ রানে। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ৩ ম্যাচ সিরিজ জিতেছিল বাংলাদশ। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে হারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্রের লডারহিলের ম্যাচ দুটি জিতেছিল টাইগাররা। চার বছর আগের সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছেন মাহমুদুল্লাহরা।

উইন্ডসর পার্কে খেলা হয়েছে মাত্র দুটি টি-২০। ২০১৪ সালের ৫ জুলাই প্রথম টি-২০ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জিতেছিল ১২ রানে। ডার্ক ওয়ার্থ লুইস (ডিএল) মেথড ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করে উইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩২ রান। আন্দ্রে ফ্লেচার প্রথম ব্যাটার হিসেবে হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেলেছিলেন। ৩৯ বলে ৫২ রান করেছিলেন ফ্লেচার। ১৩৩ রানের টাগেটে ১৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১১৭ রান তোলার পর ম্যাচটি ভেসে যায় বৃষ্টিতে। ডিএল মেথড অনুযায়ী সে সময় টার্গেট ছিল ১০৬ রান। পরের দিন ৩৯ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা আনে ক্যারিবীয়রা। ফ্লেচারের ৬২ রানে ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৫ রান করেছিল স্বাগতিকরা। সফরকারীদের ইনিংস থেমেছিল ১৯.১ ওভারে ১২৬ রানে।

পয়মন্ত উইন্ডসর পার্কে মাহমুদুল্লাহ বাহিনী খেলবে দুটি টি-২০।

সর্বশেষ খবর