চ্যাম্পিয়ন ভারতের মেয়েদের কাঁদিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশের মেয়েরা! এ যেন আগের ম্যাচের প্রতিশোধ। তবে এ জয়ে তৃপ্তি পেলেও মনের কোণে আফসোস থেকে যাবে অর্পিতা-পূর্ণিমা-প্রীতিদের। শিরোপা না জিতলেও দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছে তরুণীরা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ ম্যাচে ভারতকে ৩-৪ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের দল। ইনজুরির কারণে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে প্রতিবেশী দেশকে হারানোর তৃপ্তি নিয়েই ফিরল বাংলাদেশের মেয়েরা। চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা ম্যাচ হেরে মাঠে রীতিমতো কাঁদতে থাকেন। এ সময় তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন কোচ-স্টাফরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের মেয়েরা হাসি-আনন্দে ছাড়ছিলেন মাঠ। এদিন টুর্নামেন্টে রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। কিক অফের মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে টুর্নামেন্টের দ্রুততম গোলের কীর্তি গড়েন পূর্ণিমা চাকমা। বয়সভিত্তিক এ প্রতিযোগিতায় এটিই দ্রুততম গোল। আগের রেকর্ডটি ভারতের মেনাকা লৌরেমবামের, ২০২৩ সালের আসরে ভুটানের বিপক্ষে।
গ্রুপের প্রথম লেগে ভারতের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ভুটানের সঙ্গে ড্র করে শিরোপার লড়াই থেকেও ছিটকে যায় মাহবুবুর রহমান লিটুর মেয়েরা। তবে ম্যাচ ভুটানের সঙ্গে জিতলেই শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকত অর্পিতারা। গতকালের জয়ে টাইব্রেকারে যেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ বাকি রেখেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নিশ্চিত করে ভারত। আর ছয় ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ বাংলাদেশ।
গতকাল ছিল টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ। বাংলাদেশের অর্পিতাদের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টে কোনো গোল হজম না করা ভারতের মেয়েরা। যদিও ভুটানের চ্যাংলিমিথাং স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ছিল শুধুই নিয়ম রক্ষার। তবে ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ছিল একরকম স্নায়ুযুদ্ধ ও মর্যাদার লড়াই।
পূর্ণিমা মারমার গোলে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই লিড নেয় বাংলাদেশ। সমতা ফেরাতে বেশি সময় নেয়নি ভারতের মেয়রাও। আনুষ্কা কুমারীর গোলে সমতা ফেরানোর পর প্রথমার্ধে আবারও লিড নেয় মাহবুবুর রহমান লিটুর শিষ্যরা। এবার বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন আলপি আক্তার। দুরন্ত ছন্দে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে এগিয়ে দেন সুরভী আকন্দ প্রীতি। ৬৪তম মিনিটে চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ভারতের প্রীতিকা বর্মণ। ৮৯তম মিনিটে অবিশ্বাস্য এক গোলে ভারতকে ৩-৩ গোলের সমতায় ফেরান অধিনায়ক ঝুলন নংমাইথেম। নিশ্চিত জয় ছাড়া হওয়ার মুখে ইনজুরি সময়ে জয়সূচক গোল পায় বাংলাদেশ দল। যোগ করা সময়ের পঞ্চম ও শেষ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে শট নেন প্রীতি। ভারতের গোলরক্ষক মুন্নী দ্বিতীয় দফায় তা ফিরিয়ে দিলেও ডিফেন্ডার দিভইয়ান্নি লিন্ডার পায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল পায় বাংলাদেশ।