শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ মে, ২০২১ ২১:৫৫

নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিনোদন কেন্দ্রে ভিড়

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিনোদন কেন্দ্রে ভিড়
Google News

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এবারও ঈদে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু উৎসুক দর্শনার্থী-জনতা সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ভিড় করছেন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। বিশেষ করে উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয়। গত শুক্রবার ঈদের দিন বিকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় শুরু হয়।

তবে বিনোদন কেন্দ্রের এমন ভিড় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। 

জানা যায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গত ১ এপ্রিল থেকে বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এরপর থেকে চট্টগ্রামের শিশু পার্ক, চিড়িয়াখানা, স্বাধীনতা কমপ্লেক্স, জাম্বুরি পার্ক বন্ধ এবং পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও আনোয়ারা পারকি সমুদ্রসৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর থেকে বন্ধ থাকলেও ঈদের দিন থেকে পতেঙ্গা ও পারকি সমুদ্রসৈকতে মানুষের ঢল নামে। একই সঙ্গে আউটার রিং রোড, নেভাল ওয়ান ও টু, কর্ণফুলী সেতু, বায়েজিদ রিং রোড ও সিআরবিসহ উন্মুক্ত এলাকাগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড় শুরু হয়। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে সবাই ভিড় করছেন উন্মুক্ত এসব আঙিনায়। গত রবিবার ও সোমবার বিকালে উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নানা বয়সী পর্যটকে মুখরিত হয়ে ওঠে সমুদ্রসৈকত এলাকা।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ঈদ পরবর্তীতে বিনোদন কেন্দ্রে যেভাবে মানুষের ভিড় দেখা গেছে, সেটা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। জানি না সামনে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরি। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ঈদের সময় সব বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু উন্মুক্ত কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় দেখা যায়। এটি করোনা সংক্রমণের একটি কারণও হতে পারে। বিষয়টি প্রত্যেককে নিজের নিরাপত্তার জন্যই চিন্তায় রাখা উচিত। কিন্তু এখন যেভাবে সবাই বিনোদন কেন্দ্রমুখী হচ্ছে, তাতের শঙ্কাটা প্রকট হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও আনোয়ারা পারকি সমুদ্রসৈকতে দর্শনার্থীর প্রচুর পরিমাণে ভিড়। কেউ ঘুরছে, কেউ বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ সূর্যাস্ত অবলোকন করছে, কেউ সেলফি তুলছেন। তবে কারও মধ্যেই করোনা নিয়ে সচেতনতা দেখা যায়নি। অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। অনেকেই গিয়েছেন সপরিবারে, শিশু কিশোরদের নিয়ে। এসব উন্মুক্ত চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি নানা করোনা সংক্রমণের কারণ হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।