শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:৪৮

বিদেশে নিষিদ্ধ তারকারা

তানিয়া তুষ্টি

বিদেশে নিষিদ্ধ তারকারা

রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় অথবা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে বিদেশের কাছে বিশ্বের নামকরা তারকারা বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ হয়েছেন। সে সব দেশে প্রোগ্রাম করা তো দূরের কথা তাদের ভ্রমণেও থাকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। এ ধরনের ঘটনায় তারকাদের নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাদের চলচ্চিত্র ও গান নিষিদ্ধের ঘটনা ঘটছে অহরহ। সম্প্রতি ভারতের লোকসভা নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিয়ে দুই বাংলায় জনপ্রিয় অভিনেতা ফেরদৌস হয়েছেন নিষেধাজ্ঞার শিকার। আজকের রকমারি আয়োজনে থাকছে বিভিন্ন সময়ে তারকাদের নিষিদ্ধের ঘটনার পেছনের যত কারণ।

মালয়েশিয়ার আপত্তি কনসার্টে বিয়ন্সের নাচ এবং পোশাক নিয়ে

২০০৭ সালে রক্ষণশীল মুসলিম আইনের কথা বলে মালয়েশিয়া সরকার তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বিয়ন্সে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় গান গাওয়া ও ভ্রমণ করা থেকে নিষিদ্ধ আছেন।
মার্কিন পপসংগীত শিল্পী বিয়ন্সে জিযেল নোয়েলস। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সফল গায়িকা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শুধু গানেই নয়, তার সফলতা অন্যান্য অঙ্গনেও। ২০১২ সালে জনপ্রিয় সাময়িকী পিপল বিয়ন্সে নোয়েলসকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী হিসেবে মনোনীত করে। ৫২তম গ্র্যামির আসর থেকে তিনি শীর্ষ ছয়টি পুরস্কার তুলে নিয়েছেন নিজের ঝুলিতে। তিনিই প্রথম কোনো গায়িকা, যিনি গ্র্যামির এক আসরে সর্বাধিক পুরস্কার জিতেছেন। এ কারণে বিবিসি বিয়ন্সেকে অভিহিত করেছে ‘গ্র্যামির রানী’ হিসেবে। এত এত সফলতা যার অর্জনের তালিকায় তিনি কিনা নিষিদ্ধ মুসলিমপ্রধান দেশ মালয়েশিয়ায়। ২০০৭ সালে রক্ষণশীল মুসলিম আইনের কথা বলে মালয়েশিয়া সরকার তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বিয়ন্সে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় গান গাওয়া ও ভ্রমণ করা থেকে নিষিদ্ধ আছেন। নিষিদ্ধ হওয়ার দুই বছর পর ২০০৯ সালে আবারও তিনি মালয়েশিয়ায় কনসার্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তখন মালয়েশিয়ার ‘দ্য প্যান মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি’ ঘোর বিরোধিতা করে। কনসার্টে বিয়ন্সের নাচ এবং পোশাক নিয়ে আপত্তি ওঠে ২৭ মিলিয়ন মুসলিমের এই দেশে। বিয়ন্সে বিতর্কিত নিজের দেশেও। ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণে মার্কিন জাতীয় সংগীত গাওয়ার বিরল সম্মান দেওয়া হয়েছিল তাকে। অথচ তিনি আগে থেকে রেকর্ড করা ট্র্যাকে গলা মিলিয়েছিলেন। যা রীতিমতো প্রতারণা। এই কথা ফাঁস হয়ে  গেলে বিয়ন্সে নিজেও তা স্বীকার করে নেন।

বিতর্ক পিছু না ছাড়লেও ক্যান্সার আক্রান্ত স্কুলছাত্রীর শেষ ইচ্ছা পূরণ, যমজ সন্তান জন্ম দিয়েই তাদের ছবি তুলে শেয়ার করা, গান করে বিলবোর্ড টপচার্টের শীর্ষস্থান দখল করাসহ বিভিন্ন ছবিতে উল্লেখযোগ্য চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সব সময় তিনি আলোচনায় থেকেছেন। বছরজুড়ে তার উপার্জনও কিন্তু অনেক। ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ২০১৮ সালে বিয়ন্সে আয় করেছেন মোট ৩৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ‘পয়সাওয়ালা’ স্বনির্ভর আমেরিকান নারীদের মধ্যে তার অবস্থান ৫৩তম। তার আয়ের বেশির ভাগ আসে স্ট্রিমিং সাইটগুলো থেকে। অনলাইনে তার অডিও-ভিডিও গানগুলো  দেখা ও শোনা বাবদ ভক্তরাই তাকে বড়লোক বানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশে গান করতে যাওয়া বাবদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের দূত হিসেবে একটি বড় অঙ্কের সম্মানী পান তিনি। এছাড়াও বিয়ন্সের স্বামী গায়ক  জে জেডকে সঙ্গে নিয়ে ৪৮টি স্টেডিয়ামে গান করে ‘অন দ্য রান টু’ সংগীত সফর করেন। এ থেকে দুজনে মিলে আয় করেছিলেন ২৫ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার।

 

চলচ্চিত্রের কারণে চীনে নিষিদ্ধ ব্র্যাড পিট

মার্কিন অভিনেতা ও চলচ্চিত্র প্রযোজক উইলিয়াম ব্র্যাডলি বা ব্র্যাড পিট। নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে তিনি অর্জন করে নিয়েছেন হাজার ভক্তের হৃদয়। পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে ধরা হয় তাকে। এজন্য অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পর্দার বাইরে তার জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডগুলো। কাজের দক্ষতা দিয়ে অর্জন করেছেন গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার। ১৯৯১ সালে পথচলচ্চিত্র থেলমা অ্যান্ড লুইসে জিনা ডেভিসের বিপরীতে একজন হিচ হাইকারের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি ভালো পরিচিতি লাভ করেন। আ রিভার রানস থ্রু ইট (১৯৯২) ও ইন্টারভিউ উইথ দ্য ভ্যাম্পায়ার (১৯৯৪) চলচ্চিত্রে মূল ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু। প্ল্যান বি এন্টারটেইনমেন্ট নামে পিটের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা ২০০৭ সালে সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি দ্য ডিপার্টেড প্রযোজনা করে। অথচ এই চলচ্চিত্রের কারণেই তিনি কোনো এক দেশে নিষিদ্ধ তারকা হিসেবে তালিকাভুক্ত। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সেভেন ইয়ার্স ইন তিব্বত’ সিনেমায় অভিনয় করার কারণে ব্র্যাড পিটকে চায়না থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। এতে হিমালয় প্রদেশে ‘চায়নিজদের শাসন’ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে চীনা সরকার তার ওপর চায়না ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নিজের জীবনের অ™ভূত সব অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘সেভেন ইয়ার্স ইন তিব্বত’ নামে একটি বই লেখেন অস্ট্রিয়ান অ্যাথলেট, মাউন্টেনিয়ার, এক্সপ্লোরার নাৎসি সদস্য সার্জেন্ট হেনরিখ। তাতে মানুষের শঠতা, বেইমানি, যুদ্ধের ভয়াবহতা, তিব্বতী গুম্ফাগুলোর বিচিত্র সমাজব্যবস্থা, দালাইলামার জীবনী এবং শৈশব, নেতৃত্ব এবং চীন-তিব্বত যুদ্ধে তিব্বতের সার্বভৌমত্ব হারিয়ে চীনের অঙ্গীভূত হওয়ার করুণ কাহিনি তুলে ধরা হয়। এই বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই মূলত ব্র্যাড পিটের চলচ্চিত্রটি নির্মিত। আর ব্র্যাড পিট অভিনয় করেন মূল হেনরিখের চরিত্রে। ব্র্যাড পিটের চীনে নিষিদ্ধ হওয়ার এটিই কারণ।

 

স্নুপ ডগ

নরওয়ে

আমেরিকান র‌্যাপার স্নুপ ডগকে কমবেশি সবাই চেনেন। মঞ্চ মাতাতে পটু এই হিপ-হপ আইকন। ১৯৯২ সাল থেকে পেশাদার শিল্পী হিসেবে সংগীত জগতে আছেন তিনি। সংগীত ছাড়াও তার আরেকটি প্রিয় বস্তু হচ্ছে গাঁজা। আর ওই গাঁজার জন্যই নরওয়ে থেকে নিষিদ্ধ হন তিনি। দেশটির ক্রিশ্চিয়ানস্যান্ড এয়ারপোর্টে ৮ গ্রাম গাঁজাসহ ধরা পড়েন তিনি। অবশ্য তাকে চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়নি। নরওয়ে ভ্রমণ থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন স্নুপ ডগ। তার আত্মজীবনীমূলক ছবি ‘কুল এইড’-এর মাধ্যমে জানা যায়, স্নুপ ডগের ছোটবেলায় ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সেখান থেকে নেশা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যান। খুনের অভিযোগও ছিল তার মাথায়। ওই ছবিতে স্নুপের জীবনের পতন এবং উত্থান দুটি দিকই আলোকপাত করা হয়েছে।

 

 

 

বন জোভি

চীন

শরীরে শিহরণ জাগানো গান ‘ইটস মাই লাইফ’। এই গানের স্রষ্টা জন বন জোভির বিখ্যাত রক ব্যান্ড ‘বন জোভি’। বিংশ শতাব্দীর শেষ দুই যুগ ছিল তাদের দখলে। মূলত ‘ইটস মাই লাইফ’ বা ‘লিভিং অন অ্যা প্লেয়ার’-এর মতো বিখ্যাত গানের জন্য পরিচিত ওই ব্যান্ড। লম্বা চুল, জ্যাকেট, চামড়ার পাজামা এবং হারলেই মোটরসাইকেল মার্কিন এই পপতারকার প্রিয় জিনিস হিসেবে ভক্তদের কাছে পরিচিতি পায়। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো চায়নায় কনসার্ট করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল ব্যান্ডটি। এ সময় ওই ব্যান্ডের লিজেন্ডারি ফ্রন্টম্যান জন বন জোভিকে চীন ভ্রমণে নিষিদ্ধ করে দেয় দেশটির সরকার। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালে তাইওয়ান ট্যুরে এক কনসার্ট চলাকালে ব্যান্ডটি দালাইলামার ছবি উপস্থাপন করার কারণেই ওই নিষেধাজ্ঞা নেমে আসে তার ওপর।

 

মার্টিন স্করসিস

চীন

হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক মার্টিন স্করসিস। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, স্ক্রিনরাইটার এবং ফিল্ম হিস্টোরিয়ান। তার চলচ্চিত্রে থাকে অসাধারণ ক্যামেরার কাজ, চমৎকার স্টোরি লাইন এবং বিশাল ক্যানভাস। চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সবাইকে মুগ্ধ করতে পারলেও তার ওপর চীনের বেজায় রাগ। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় বর্তমান (১৪তম) দালাইলামাকে নিয়ে নির্মিত স্করসিসের মুভি ‘কুন্ডুন’। চায়না সরকারের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দালাইলামা। আর তাই ওই সিনেমার জন্য চায়না ভ্রমণ থেকে নিষিদ্ধ হন অস্কারজয়ী এই পরিচালক।

 

 

 

 

ফিফটি সেন্ট

কানাডা

২০০৫ সালে কানাডায় এক পার্লামেন্ট সদস্য আমেরিকান র‌্যাপ গায়ক ফিফটি সেন্টকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান। যার ফলে কানাডার লিবারেল এমপি ম্যাক টিগু ফিফটি সেন্টকে কানাডায় প্রবেশ ও গান গাওয়া থেকে নিষিদ্ধ কার্যকর করে। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, তার গানের কথা সহিংসতাকে উৎসাহিত করে। এছাড়া তার নিজেরও সন্ত্রাসী কাজে যুক্ত থাকার রেকর্ড আছে। এমপি বলেন, ‘সেন্টের এমন গান টরেন্টোবাসীর শোনা উচিত নয়। আমরা চাই না কেউ আমাদের জনগণকে সন্ত্রাসী কাজে উদ্বুদ্ধ করুক।’ সে বছর ডিসেম্বরে কানাডায় ফিফটি সেন্টের  শো করার কথা ছিল।

 

 

ভারতে নিষিদ্ধ পাকিস্তানি একাধিক তারকা

সম্প্রতি ভারতের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ঘটনার রেশ ধরে পাকিস্তানের একাধিক তারকা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে সর্বভারতীয় শিল্পী সংগঠন অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন। নিষিদ্ধ হওয়া পাকিস্তানি অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকার তালিকায় রয়েছেন রাহাত ফতেহ আলী খান, আলী জাফর ও আতিফ আসলাম ও মাহিরা খানের মতো শিল্পীরা। ইউটিউব  থেকেও তুলে নেওয়া হয়েছে আতিফ আসলাম ও রাহাত ফতেহ আলী খানের সঙ্গে টি-সিরিজের প্রযোজিত কয়েকটি গান। তাদের অভিনীত ও গাওয়া গান থাকা সিনেমা এবং গানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের কোনো শিল্পীর সঙ্গে ভারতীয়  কোনো শিল্পী কাজ করতে চাইলে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে, এ ঘটনার পর অজয় দেবগন তার সিনেমা ‘টোটাল ধামাল’ পাকিস্তানে মুক্তি পাবে না বলেও ঘোষণা দেন। অবশ্য পুলওয়ামা ঘটনায় ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় তারকারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে শাবানা আজমি ও জাভেদ আখতার করাচি আর্ট কাউন্সিল থেকে আসা অনুষ্ঠানের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন।

 

অ্যাকন

শ্রীলঙ্কা

আমেরিকান গায়ক, গীতিকার, রেকর্ড প্রোডিউসার, উদ্যোক্তা, অভিনেতা ও সমাজসেবক অ্যাকন। গান গেয়ে অনেক রেকর্ড ছুঁয়েছেন তিনি। তবে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটেছে রেকর্ড সৃষ্টিকারী গান করতে গিয়ে। ‘আর অ্যান্ড বি’ ঘরানার জনপ্রিয় এই গায়ক অ্যাকনের একটি মিউজিক ভিডিওর পুল পার্টিতে নাচের দৃশ্যে  বৌদ্ধমূর্তি দেখা গিয়েছিল। তা শ্রীলঙ্কানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। আর এ ঘটনার জেরে ২০১০ সালে অ্যাকনকে শ্রীলঙ্কা প্রবেশ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। পরে অবশ্য অ্যাকন ওই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

 

 

 

 

ক্রিস ব্রাউন

যুক্তরাজ্য

মার্কিন রকস্টার ক্রিস ব্রাউন। এছাড়াও তার পরিচয়ে আছে গীতিকার, ড্যান্সার ও অভিনেতার তকমা। এতসব গুণের অধিকারী এই তারকার নামে মাঝে মধ্যেই নেমে আসে নানা অভিযোগ। প্রেমিকা রিহানার ওপর শারীরিক নির্যাতনের দায়ে ২০১১ সালে তাকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। শুধু তাই নয়, একই কারণে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রবেশ থেকেও তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। এত অভিযোগের পরও তিনি অপরাধ থেকে নিজেকে বিরত রাখেননি। ২০১৮ সালের শুরুতে তিনি আবার জড়ান ধর্ষণ মামলায়। নিজের বাড়িতে আটকে রেখে তরুণী ধর্ষণের জেরে গ্রেফতারও হতে হয় তাকে।

 

 

লেডি গাগা

নরওয়ে

আমেরিকান পপ কুইনখ্যাত লেডি গাগা বিশ্বজুড়ে আলোচিত ও সমালোচিত তার বিচিত্র ফ্যাশনের জন্য। প্রশংসা কুড়ান এইডস ও বন্যার্তদের সহযোগিতাসহ নানা ধরনের সামাজিক কাজে যুক্ত থেকে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমালোচনা করতেও তিনি ওস্তাদ। তার গানের কথা এবং বিচিত্র পোশাকের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে নিষিদ্ধও হতে হয়েছে তাকে। ২০১২ সালে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তার গানের কথা খুবই কুরুচিপূর্ণ। এছাড়াও তার পরিহিত বিচিত্র ফ্যাশনের পোশাক শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। সে বছর দেশটিতে আয়োজিত এক কনসার্টের ৫০ হাজার টিকিট বিক্রি হওয়ার পরও সফর বাতিল করেন গাগা। এর পরের বছর ২০১৩ সালে বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বসের ৪৫ বছরের কম বয়সী প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় শীর্ষে জায়গা পান তিনি। ২০০৫ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে সংগীত জগতে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

 

 

প্যারিস হিল্টন

জাপান

আমেরিকান মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, মডেল, গায়িকা ও অভিনেত্রী প্যারিস হিল্টন। শৈশব থেকেই তিনি তারকা খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মডেল এজেন্সিতে মডেল হিসেবে নাম লেখান। মাঝে মধ্যেই তিনি নানা ইস্যুতে খবরের শিরোনাম হন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অতিরিক্ত মাদক ব্যবহারের অভিযোগ। এ কারণে তিনি দণ্ডপ্রাপ্তও হয়েছেন। মাদক ব্যবহারের অভিযোগে জাপান সরকার তাকে ওই দেশে ঢুকতেই দেয়নি। ২০১০ সালে টোকিওতে নিজের জেট বিমান থেকে নেমে বিমানবন্দরে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে। জাপান সরকার জানায়, মাদক ব্যবহারের কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে সে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এর আগে ২০০৩ সালে তার একটি সেক্স টেপ নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে আলোচনায় উঠে আসেন প্যারিস হিল্টন।

 


আপনার মন্তব্য