শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০৬

হজ-পরবর্তী করণীয় ও বর্জনীয়

মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

হজ-পরবর্তী করণীয় ও বর্জনীয়

মুসলিম জীবনে হজের সফর নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যময়। বাইতুল্লাহর মেহমান হতে পারা সত্যিই পরম সৌভাগ্যের। হাজীগণ যদি বরকতময় এ সফরের মাধ্যমে চিরস্থায়ী কল্যাণ অর্জন করতে চায়, তাহলে প্রত্যেক হাজীকে হজ থেকে ফিরে এসে হজের প্রকৃত শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলন করতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজেকে বদলানোর; যাতে নিষ্পাপ হয়ে ফেরা এবং আত্মায় গুনাহের কালিমা আর না লাগে।

 

সৌদি আরবের পরিসংখ্যান অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সমগ্র বিশ্ব থেকে প্রায় ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন মুসলিম হজব্রত পালন করছেন। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করেছেন এক লাখ ২৭ হাজার ২৯৮ জন। পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বাইতুল্লাহর মেহমানগণ ফিরতে শুরু করেছেন তাদের স্বদেশ ভূমিতে। ফিরছেন তাঁরা নিষ্পাপ হয়ে, কলুষমুক্ত পবিত্র আত্মা নিয়ে, বাইতুল্লাহর সৌরভ ও মদিনার আবেশ নিয়ে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এক উমরা আদায়ের পর পরবর্তী উমরা পালন করার মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের জন্য কাফ্ফারাস্বরূপ। আর হজে মাবরুরের প্রতিদান হলো নিশ্চিত জান্নাত (বোখারি)।

হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কোনো হাজী সাহেবের সঙ্গে তোমাদের সাক্ষাৎ হলে তাঁকে সালাম করবে, তাঁর সঙ্গে মুসাফাহ করবে এবং তিনি নিজ গৃহে প্রবেশের আগে তার কাছে দুআ কামনা করবে। কারণ তিনি নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এসেছেন (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)।

মুসলিম জীবনে হজের সফর নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যময়। বাইতুল্লাহর মেহমান হতে পারা সত্যিই পরম সৌভাগ্যের। হাজীগণ যদি বরকতময় এ সফরের মাধ্যমে চিরস্থায়ী কল্যাণ অর্জন করতে চায়, তাহলে প্রত্যেক হাজীকে হজ থেকে ফিরে এসে হজের প্রকৃত শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলন করতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজেকে বদলানোর; যাতে নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসা পুণ্যময় দেহ ও আত্মায় গুনাহের কালিমা আর না লাগে।

বাইতুল্লাহ জিয়ারতের মাধ্যমে শপথ নিতে হবে, ধৈর্য, উদারতা ও হালাল রুজির। আরাফার বিশাল ময়দানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের মাধ্যমে ওয়াদা করতে হবে, বিদায় হজে রসুলে আরাবি (সা.)-এর দেওয়া ভাষণের মর্মবাণীগুলোকে বাস্তবায়ন করার। অন্তর থেকে মুছে ফেলতে হবে অহঙ্কারের কালিমা। কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে, বিতাড়িত শয়তানের সব ধরনের ধোঁকা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার। কোরবানির মাধ্যমে শিক্ষা নিতে হবে নিজের পশুত্বকে বিসর্জন দেওয়ার। সর্বোপরি মদিনা মুনাওয়ারা গিয়ে প্রিয়নবী (সা.) এর রওজা শরিফ জিয়ারতের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ, অর্থনীতি, রাষ্ট্র তথা জীবনের সর্বস্তরে রসুল (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের ইস্পাত কঠিন দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, হজ থেকে ফিরে এসে অনেক হাজী সেই শপথ, সংকল্প, ওয়াদা ও অঙ্গীকারের কথা বেমালুম ভুলে যান। শয়তানের ধোঁকায় এবং পর্থিব দুনিয়ার মোহে হাজারও গুনাহের জালে জড়িয়ে পড়েন।

হজ পালনকারী মহান আল্লাহতায়ালার বিশেষ মেহমান এবং বিপুল সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং এই সম্মান ও মর্যাদার দিকে লক্ষ্য রেখে পরবর্তী জীবন তাকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করতে হবে।

পরিশেষে দয়াময় আল্লাহতায়ালার কাছে এই ফরিয়াদ, হে পরোয়ারদিগার! প্রত্যেক বাইতুল্লাহর মেহমানকে হজের মৌলিক শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলন করার তৌফিক দান করুন।

 


আপনার মন্তব্য