Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২২ মে, ২০১৬ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২১ মে, ২০১৬ ২৩:৩৭
ঢালিউডের সেই সেরা সাত দাপুটে নায়ক

ঢালিউডের যাত্রালগ্ন থেকে অসংখ্য অভিনেতা আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা নিয়ে অভিনয় করেছেন। সুঅভিনয় দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন এদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে। তাদের মধ্যে দর্শকপ্রিয়তার দিক দিয়ে আশির দশক পর্যন্ত সেরা সাত দাপুটে নায়কের অভিনয় ও ব্যক্তিজীবনচিত্র এখানে তুলে ধরা হলো। লিখেছেন— আলাউদ্দীন মাজিদ

 

রহমান

প্রখ্যাত নায়ক ও পরিচালক রহমান ১৯৩৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্যাপ্টেন এহতেশাম তার পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় নায়ক হিসেবে রহমানের অভিষেক ঘটান।  অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছেন। ১৯৬৭ সালে ‘দরশন’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালনায় আসেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নায়ক ছিলেন তিনি। এগুলোর মধ্যে ১৯৮১ সালে দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত ‘অংশীদার’ চলচ্চিত্রটি কালজয়ী হয়ে আছে। পাকিস্তানের নিগার অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশের জাতীয় ও বাচসাসসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। ২০০৫ সালের ২০ জুলাই ঢাকায় এই কিংবদন্তি অভিনেতার  জীবনাবসান ঘটে।

 

আজিম

অভিনেতা আজিমের প্রকৃত নাম নূরুল আজিম খালেদ রউফ। তার জন্ম সিলেটে। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। ১৯৬০ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশামের মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন তিনি। এই নির্মাতার ‘রাজধানীর বুকে’ ছবিতে একটি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭০ সালে নায়ক হয়ে আসেন মুস্তাফিজের ‘পায়েল’ ছবিতে। প্রথম ছবিতেই দর্শক নজর কাড়েন। পরে জনপ্রিয় নায়কের পাশাপাশি সফল নির্মাতা হিসেবেও সুনাম কুড়ান চলচ্চিত্রকার আজিম। আজিম পরিচালিত ছবির মধ্যে রয়েছে টাকার খেলা, প্রতিনিধি, জীবন মরণ, বদলা, গাদ্দার, দেবর ভাবি ইত্যাদি।  নব্বই দশকের শেষ ভাগে টিভি নাটক নির্মাণ ও অভিনয়েও যুক্ত হন এই অভিনেতা। ২০০২ সালে মারা যান আজিম।

 

রাজ্জাক

স্কুল জীবন থেকেই কলকাতায় অভিনয় শুরু রাজ্জাকের। ১৯৬৪ সালে ঢাকায় তার চলচ্চিত্র জীবন শুরু। প্রথমে সালাউদ্দিনের ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেইন’ চলচ্চিত্রে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয় শুরু তার। প্রথম চলচ্চিত্র থেকেই সফলতা তার নিত্যসঙ্গী। এ পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি ২০টির মতো চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন। সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং এ পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন তিনি।  এ ছাড়াও বাচসাসসহ অন্যান্য পুরস্কার পান রাজ্জাক। জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূতও তিনি।

 

ফারুক

চলচ্চিত্রের মিয়াভাই খ্যাত অভিনেতা ফারুকের জন্ম ঢাকায় ১৮ আগস্ট। তার আসল নাম আকবর হোসেন পাঠান। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’র মাধ্যমে চলচ্চিত্রে নায়ক হয়ে আসেন তিনি। প্রায় ২০০ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে মিতার ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতির কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে— আবার তোরা মানুষ হ, সুজন সখী, লাঠিয়াল, নয়নমনি, গোলাপী এখন ট্রেনে, সারেং বৌ, সখী তুমি কার,  সূর্য গ্রহণ, সূর্যসংগ্রাম, তৃষা, ঘরজামাই, দিন যায় কথা থাকে, কথা দিলাম, চোখের মনি, নদের চাঁদ, ছোট মা, এতিম, সুখের সংসার, জনতা এক্সপ্রেস, সাহেব প্রভৃতি।

 

সোহেল রানা

অভিনেতা সোহেল রানার প্রকৃত নাম মাসুদ পারভেজ। ১৯৭২ সালে ‘ওরা ১১ জন’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ তার। ১৯৭৪ সালে ‘মাসুদ রানা’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক ও নায়ক হিসেবে তার আবির্ভাব। একডজনের মতো ছবি নির্মাণ করেছেন তিনি। আর অভিনয় করেছেন প্রায় ২০০ ছবিতে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে— এপার ওপার, দস্যু বনহুর, দোস্ত দুশমন, মা, আদালত, মিন্টু আমার নাম, আসামী হাজির, জিঞ্জির, অভিযোগ, আনারকলি, জীবন নৌকা, পেনশন, তিন কন্যা, সোহেল রানা, লড়াকু ইত্যাদি। জাতীয়, বাচসাসসহ বহু প্রতিষ্ঠানের সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।  চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক, পরিচালক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সোহেল রানা।

 

বুলবুল

বুলবুল আহমেদ ১৯৭৩ সালে ‘ইয়ে করে বিয়ে’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে গেছেন এই শক্তিমান অভিনেতা। এগুলোর মধ্যে ‘দেবদাস, ‘বধূবিদায়’, ‘সূর্যকন্যা’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ উল্লেখযোগ্য। তবে দেবদাস ছবিতে অভিনয় করে তিনি প্রচুর প্রশংসিত হন। বলিউড অভিনেতা দিলীপ কুমার ‘দেবদাস’ ছবিতে তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনা করে গেছেন তিনি। তার পরিচালিত ‘মহানায়ক’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ এখনো সমান জনপ্রিয় হয়ে আছে।  পাঁচবার জাতীয়সহ একাধিকবার বাচসাস ও অন্যান্য পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০১০ সালের ১৪ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন অভিনেতা বুলবুল আহমেদ।

 

আলমগীর

আলমগীর ১৯৭৩ সালে আলমগীর কুমকুমের ‘আমার জন্মভূমি’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং সাতবার জাতীয়সহ একাধিকবার বাচসাস ও অন্যান্য পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্র প্রযোজনা-পরিচালনা এবং কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও সুখ্যাতি রয়েছে তার। আলমগীর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো— দস্যুরানী, ভাত দে, মধুমিতা, মায়ের দোয়া, সত্যমিথ্যা, সত্যের মৃত্যু নেই ইত্যাদি।

আলমগীরের পিতা কলিমউদ্দিন আহমেদ ছিলেন এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর সহযোগী প্রযোজক। মূলত পিতার উত্সাহ ও নিজের আগ্রহেই আলমগীর অভিনয়ে আসেন।  বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দায় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নায়ক আলমগীর।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow