Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:০৬
‘পাকিস্তানির’ নেতৃত্বে হামলা আনসার ক্যাম্পে
আদালতে জবানবন্দি
প্রতিদিন ডেস্ক

কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের আনসার ব্যারাকে হামলায় এক পাকিস্তানির নেতৃত্বে থাকার তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ১৩ মের এ ঘটনায় গ্রেফতার আসামি নুরুল আবছারের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে এ কথা জানান পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম।

নুরুল আবছার আদালতে ওই পাকিস্তানির পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠন ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)’-এরও জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন বলে জানান তিনি। খবর বিডিনিউজের। গতকাল দুপুরে কক্সবাজার বিচারিক হাকিম সিরাজ উদ্দিনের আদালতে আবছার (২২) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টেকনাফ থানার পরিদর্শক কবির হোসেন।

আবছার টেকনাফের হ্নিলার রঙ্গিখালী এলাকার ছাবের আহমদের ছেলে। তাকে গ্রেফতারের খবর সোমবার জানানো হলেও কোথা থেকে ধরা হয়েছে তা জানাননি কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামলকুমার নাথ। ১৩ মে গভীর রাতে হ্নিলার মোচনী এলাকার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের আনসার ব্যারাকে মুখোশ পরা ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এ ঘটনায় আনসার ব্যারাকের কমান্ডার মো. আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। হামলাকারীরা ব্যারাকের অস্ত্রাগার থেকে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আনসার ব্যারাকের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও আসামি দেখানো হয়েছে আদালতে জবানবন্দি দেওয়া আবছারকে। ডিআইজি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামি নুরুল আবছার আদালতে আনসার ব্যারাকে হামলার পুরো ঘটনা তুলে ধরেছেন। হামলায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক, পাকিস্তানের এক নাগরিক ও কয়েকজন বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন তিনি। ’ আবছারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি নাগরিক ওমর ফারুক ওরফে আরএসও ফারুকের নেতৃত্বে আনসার ব্যারাকে এ হামলা হয়েছে। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) পরিকল্পনায় এ হামলা চালানো হয়। এতে চট্টগ্রাম থেকে আসা আরএসওর কয়েকজন সদস্য, হামলার দিন রাতে নৌকাযোগে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা, স্থানীয় শরণার্থী শিবিরের কয়েকজন রোহিঙ্গা এবং কয়েকজন বাংলাদেশির সমন্বয়ে এ হামলার পরিকল্পনা হয়। ’

ডিআইজি বলেন, নুরুল আবছারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আনসার ব্যারাকে হামলা ঘটনা রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, মূলত অস্ত্র লুটের জন্য এ হামলা চালানো হয়। হামলার দিন রাতেই লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি নিয়ে মিয়ানমার পালিয়ে যায় জড়িতদের অধিকাংশই। ’ আবছারও ঘটনার পর মিয়ানমারে পালিয়ে গিয়ে আবার বাংলাদেশে ঢুকে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন বলে শফিকুল জানান। আনসার ব্যারাকে হামলার ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow