Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৬
খুশকি কীভাবে দূর করবেন
খুশকি কীভাবে দূর করবেন

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ মানুষ খুশকির যন্ত্রণায় জর্জরিত। বাইরে গেলে বিব্রত হতে হয়, বিশেষ করে অফিসে-মিটিংয়ে-পার্টিতে সাজ পোশাকের বারোটা বাজিয়ে দেয় মাথায় ভাসতে থাকা সাদা সাদা খুশকি। খুশকি বা ড্যানড্রাফ আসলে আমাদের মাথার ত্বকের মৃত কোষ। আমাদের দেহের সব জায়গার ত্বকে প্রতিনিয়ত নতুন কোষ তৈরি হয় এবং পুরনো মৃত কোষ নির্দিষ্ট সময় পর ঝরে পড়ে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কারও কারও এ নতুন কোষ তৈরি হওয়া এবং মৃত কোষ ঝরে পড়ার হারটা বেশি। এ মৃত কোষগুলো সাদা গুঁড়ার মতো চুলে লেগে থাকে। অনেক সময় এর কারণে মাথা চুলকায়, মাথার ত্বক লাল হয়ে যায়। খুশকি যদিও একটি স্বাভাবিক ঘটনা বা প্রক্রিয়া, কিন্তু নানা কারণে এটি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত শুষ্ক ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত- দুই ধরনের ত্বকেই খুশকি বেশি হয়। নিয়মিত শ্যাম্পু না করার কারণে মাথার ত্বকে ময়লা জমাও একটি কারণ। সোরিয়াসিস, অ্যাকজিমা, ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত হেয়ার জেল, তেল, স্প্রে ইত্যাদির ব্যবহার খুশকির প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। যারা খুব ঘামেন, তাদেরও এটি বেশি হয়। স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তাও খুশকি বাড়ায়।

খুশকি ঠেকাতে যা করবেন : নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখলে এবং প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে তৈলাক্ততা অনেক কমে আসে ও কোষ মৃত্যুর হারও কমে যায়। খুশকি কমাতে দুশ্চিন্তা কমান, স্বাস্থ্যকর খাবার খান, জিংক ও ভিটামিন বি-সমৃদ্ধ খাবার এ প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে। চুলে অতিরিক্ত স্প্রে, জেল ইত্যাদি ব্যবহার করা ভালো নয়। সাধারণ যত্নে কাজ না হলে খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। বিভিন্ন ধরনের খুশকিনাশক শ্যাম্পু আছে, কোনটা আপনার ক্ষেত্রে কার্যকরী হবে, তা খুঁজে পেতে হয়তো আপনার সময় লাগবে। জিংক পাইরিথিয়ন, টার-সমৃদ্ধ, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, সেলেনিয়াম সালফাইড, কিটোকোনাজলের যে কোনো একটি ব্যবহারে খুশকি কমবে (চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে)। প্রথমে প্রতিদিন বা এক দিন পর পর এ ধরনের মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, নিয়ন্ত্রণে চলে এলে সপ্তাহে দুই বা তিন দিন। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে এলে সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

দৈনিক ৫০টি চুল পড়া স্বাভাবিক : চুল ত্বকেরই একটি রূপান্তরিত অঙ্গ। তাই ত্বককে বাদ দিয়ে চুল বা চুলকে বাদ দিয়ে ত্বক ভাবাই যায় না। আর পরিচর্যার কথা যখন আসে, তখন একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির পরিচর্যার কথা ভাবা যায় না। ত্বক আর চুল সুন্দর আরও সজীব রাখতে হলে চুল নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আর সেক্ষেত্রে নন-মেডিকেটেড শ্যাম্পুই ব্যবহার করতে হবে সপ্তাহে অন্তত একদিন। অযথা মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। চুল নিয়মিতভাবে প্রতিদিন আঁঁচড়াতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত নয়। সরু দাঁতের ঘন চিরুনি ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে চুল ছাড়াও মাথার ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সীমিত পরিমাণ হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খেয়াল করতে হবে অতিরিক্ত গরম যেন না হয়। তাতে চুল রুক্ষ হয় এবং চুলের ডগা ফেটে যেতে পারে। তেল ব্যবহারে চুল গজায় কথাটি একদমই ভুল। চুল রুক্ষ হলে নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তাও সপ্তাহে দুই তিন দিনের বেশি নয়। আর যদি মাথায় খুশকি থাকে তাহলে কোনো অবস্থায় সপ্তাহে একদিনের বেশি তেল দেওয়া উচিত নয়। সম্ভব হলে তেল ব্যবহার একেবারেই বন্ধ করে দিন। ‘চুল উঠা মানেই ভাবনা’ কথাটি ঠিক নয়। দিনে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত চুল পড়া একদম স্বাভাবিক। কাজেই চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে

অযথা ভাববেন না, করবেন না টেনশন।

ডা. দিদারুল আহসান, ত্বক ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ

আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow