Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৮
পদ্মা আর সবুজের মেলবন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
পদ্মা আর সবুজের মেলবন্ধন

রাজশাহীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মায় আগের মতো ঢেউ নেই। নৌকা আছে, তবে পাল তোলা নেই। মাঝি আছে, তবে তাদের মুখে সেই গান আর নেই। এত নেই এর মধ্যেও পদ্মা নদীকে ঘিরে এখন ঢেউ লেগেছে তারুণ্যের। আধুনিক রাজশাহীর সবকিছুই যেন এখন পদ্মা নদীকে ঘিরে। নদীর প্রবাহমান সেই জোয়ার, কলকলিয়ে পানির শব্দ, মাঝিদের গান সবই এখন অতীত। সেই অতীতকে পেছনে ফেলে নদীর কূলে এখন শুধুই তারুণ্যের জয়গান। যেন রাজশাহীর বিনোদনের সব স্রোত মিশে একাকার এখন পদ্মা নদীর তীর ঘিরে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা গড়িয়ে খানিক রাত অবধি পদ্মার তীরে মানুষের আনাগোনা। শুকনো হলেও পদ্মা ধারে (তীরে) গেলে যে কারোরই মন যেন সতেজ হয়ে উঠবে। কারণ তারুণ্যের ঢেউ রাজশাহীর পদ্মা নদীর অন্তত ১০ কিলোমিটার জুড়ে। নদীর কলতান না থাকলেও তারুণ্যের কলরব, স্বাচ্ছন্দ্য সবই আছে এখানে। যেন জলরাশির পাশে খানিকটা আনন্দের ঢেউ। শান্তির সুবাতাস। ভরা পদ্মার প্রতি মানুষের যেমন টান থাকে সর্বক্ষণ, এখন আধুনিকতার কারণে শুকনো পদ্মাও সমানে টানে মানুষকে। সারাদিন তারুণ্যের হৈচৈ, আনন্দে মাতামাতি, কোথাও হাঁটু, কোথায় কোমর জলে নেমে ছোট ছোট নৌকায় ওপারের চরে পাড়ি দেওয়া এ নিয়ে এখন মুখরিত থাকে রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড়।

নগরীর বুলনপুর থেকে বড়কুঠি ও পঞ্চবটি হয়ে সাতবাড়িয়া। দীর্ঘ প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মার পাড় এখন রাজশাহীবাসীর বিনোদনের সেরা ঠিকানা। দিনভর পদ্মাকে ঘিরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর এখন পদ্মার পাড়। পদ্মার ধার ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। এ সড়ক দিয়ে সহজেই বিনোদন পিপাসুরা পায়ে হেঁটে হেঁটে পদ্মার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পারেন।

পদ্মার তীর ঘেঁষে ব্যবসা-বাণিজ্যও এখন জমে উঠেছে। বুলনপুর এলাকায় ‘আড্ডা’ সেখান থেকে পেরিয়ে সামান্য এগোলেই চোখে পড়বে ‘টি-বাঁধ’। আরও একটু পরে ছোট পরিসরে পার্ক তৈরি করেছে বর্ডার গার্ড বিজিবি। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বহির্নোঙ্গর’ আর ‘সীমান্তনোঙ্গর’। হাল্কা খাবারের আয়োজন আছে এখানে। সেইসঙ্গে ছোট ছোট আম বাগানের ফাঁকে ফাঁকে বাসার স্থান। যেন সবুজের মাঝে কিছুক্ষণ হারিয়ে থাকা। সেখানে বসে অনায়াসে নদীর সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। আছে ‘গাঙচিল’ নামের ছোট নৌকা। রাতের আঁধারে রঙিন নিয়ন আলোয় আরও ফুটে উঠে এ স্পটের চেহারা।

আছে  লালনশাহ পার্ক। পার্কের অদূরেই আছে হযরত শাহ মখদুম রূপোষ (রহ.)-এর মাজার। মাজার সড়কের এপারেই নদীর ঘাট পর্যন্ত সুরম্য সিঁড়ি। বর্ষায় এখান থেকে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে পদ্মার স্বচ্ছ পানি। মাজারের পূর্বদিকে দৃষ্টি দিলেই দেখা যাবে মানুষের জটলা। তারুণ্যের হৈচৈ, আড্ডা। এটি পদ্মা গার্ডেন। মিনি পার্কও বলা যায় এটিকে। ছায়া ঢাকা নদীর তীরে মানুষের মিলনমেলা যেন এটি। পদ্মা গার্ডেনের পূর্বে যেতেই পাওয়া যাবে ‘ওয়াডভার মুন্সক’। আসল আড্ডা এখানেই। এটি ঘিরে গড়ে উঠেছে কয়েকটি হোটেল। চা-কফি কিংবা স্ন্যাকস সবই মিলবে হাতের কাছেই। আর সুউচ্চ কাচের ঘরে বসে নদী দেখতে চাইলে সেখানেই আছে পাঁচতলা কফি বার। বড়কুঠি পেরিয়ে আরেক ধাপ এগোলে দেখা মিলবে ফুদকিপাড়া মুক্ত মঞ্চের। প্রায়দিন এ মঞ্চে চলে বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাজশাহী সিটি করপোরেশন পুরো নদীর পাড় তত্ত্বাবধান করে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow