শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ জুন, ২০২১ ১৫:৩৬
প্রিন্ট করুন printer

জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দিয়ে যাচ্ছেন: ড. কাজী এরতেজা হাসান

অনলাইন ডেস্ক

জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দিয়ে যাচ্ছেন: ড. কাজী এরতেজা হাসান
ড. কাজী এরতেজা হাসান
Google News

আজকে ৩৬৫ দিন অতিক্রম ও পরিপূরণ করার যে সাফল্য, এই অতিমারির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে প্রতিদিন আমরা যে যুক্ত হতে পেরেছি। দেশ-বিদেশের বহু মানুষজনের সঙ্গে বিশেষ করে প্রবাসে যারা বাংলাভাষী রয়েছেন তাদের সঙ্গে সুদূরপ্রসারী সংযোগ করার জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেজন্য ভোরের পাতা সংলাপের জনক, এর আর্কিটেক্টর ড. কাজী এরতেজা হাসানকে অভিনন্দন। এই সংলাপের মাধ্যমে আমাদের মূল্যবান বক্তব্য দিয়ে সমাজ, জাতি, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে যে সহযোগিতা করেছে ভোরের পাতা সংলাপের ৩৬৫তম পর্বের প্রত্যেকটি পর্ব। দেশের সব শিক্ষাবিদ, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ সকল শ্রেণি-পেশার লোকজনকে নিয়ে এসে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেছেন। সে জিনিষগুলো লাইভের পরে রেকর্ড এবং দেশ ও দেশের বাইরে ভোরের পাতা সংলাপে সম্পৃক্ত হয়েছেন তাদের জ্ঞানের পরিধি অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। পজিটিভ বাংলাদেশ তুলে ধরার জন্য ভোরের পাতার একটি বিরাট ভূমিকা ছিল এবং সামনেও থাকবে বলে দৃঢ়চিত্রে বিশ্বাস করি। 

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩৬৫তম পর্বে গতকাল বুধবার (৯ জুন) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, এম এ (ইংরেজি), বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক কর্ণেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দীন, স্বাধীন বাংলা জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম দলনেতা রকিবুল হাসান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, ঘানিম ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (ব্রুনাই হালাল ফুডস), ব্রুনাইয়ের সিইও, ব্রুনাই বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা, অস্ট্রেলিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং সাবেক ছাত্রনেতা ড. নূর রহমান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনারারি কনস্যুলেট, জার্মান দূতাবাস, ফর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, জার্মানির প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া, দৈনিক ভোরের পাতা, দ্য পিপলস টাইম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য উপ-কমিটির সদস্য, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক, ইরান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কাজী এরতেজা হাসান সিআইপি। 

দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

ড. কাজী এরতেজা হাসান বলেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু। শুরু করছি আল্লাহ এর নামে। আসলে আজকের দিনটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ  আমার জন্য ও আমাদের জন্য। আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি আজকের সংলাপের বিষয়টার নাম ‘বন্ধন’ রাখতে গিয়ে। আমি মনে করেছিলাম যে, অনেকেই বুঝবেনা এই বন্ধন নামটা কেন রাখা হয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে আমাদের এই প্রোগ্রামে যারা অতিথি হয়ে সংযুক্ত হয়েছেন এবং সারা বিশ্বের দূর-দূরান্ত থেকে এছাড়া দেশের মধ্যে যারা আমাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছেন, আজকের প্রোগ্রামে যারা এসেছেন তারাই বুঝে গেছেন যে এই বন্ধন নামটা কেন রাখা হয়েছে। এই বন্ধনটা হচ্ছে আদর্শিক বন্ধন, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির বন্ধন, আত্মার সঙ্গে আত্মার বন্ধন, হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধন। এই বন্ধন এমন হবে যে, হাসনাত ভাই বিদেশে বসে যদি অসুস্থ হয়ে কষ্টটা পায়, সে কষ্টটা যাতে আমি বাংলাদেশে বসে অনুভব করতে পারি। আসলে আমি ওই বন্ধনটা বোঝাতে চেয়েছি। এই বন্ধনটা দুনিয়াতেও কাজে লাগবে আখিরাতেও কাজে লাগবে। স্বপ্নীল ভাই যখন তার বক্তব্যে বন্ধনের বিষয়টা এমন ভাবে তুলে ধরেছিলেন, যেমনটা বলেছিলেন নূর ভাই, হাসনাত ভাই, শরীফ মামা, রকিব মামা এবং নাসির ভাই, তখন আমি আমার অশ্রু সামলে রাখতে পারছিলাম না। ছোট বেলা থেকে নামাজ পড়িতো তাই মনটা একটু নরম আমার। ৭ মার্চের ভাষণ, ৯ মাসে দেশ স্বাধীন, লাল-সবুজের পতাকা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদেরকে বাংলাদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের দায়িত্ব এটা যে, এই লাল সবুজের পতাকাকে আঁকড়ে ধরা, দেশের উন্নয়নে নিজেকে সামিল করা। আমাদের যে শক্তি, আমাদের যে সাহস, আমাদের যে স্পৃহা, সেটা আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে, বাবা-মায়ের দোয়া থেকে এসেছে। তাই আমরা জানি কখন কোথায় কি বলতে হবে। আল্লাহ্ সুবানহু তায়ালার পর আমাদের আশ্রয়স্থল আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। উনি জানেন আমাদের সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপের যে কয়টা পত্রিকা আছে ভোরের পাতা, দ্য পিপলস টাইম, মর্নিং মিরর, বণিক বাংলাদেশ, অর্থপাতা এবং আমাদের ভোরের পাতা সংলাপ। ১৭ বছর ধরে আমাদের এই মিডিয়াটা চলছে। আমার একটি সন্তান। ও হাফেজে কোরআন এবং এ লেভেল শেষ করেছে। ওর বয়সও ১৭ বছর। ও যেদিন দুনিয়াতে আসে তার সাতদিন পরেই আমি এই পত্রিকার ডিক্লারেশন পাই। এটার সঙ্গে আমাদের আবেগ, স্পন্দন জড়িত। রকিব মামা একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছেন যে, ২০১৬ সালে বিপিএলে রংপুর রাইডারস আমার ছিল এবং ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধু বিপিএল হয়েছিল তখন সিলেট থার্ন্ডাসের দায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটার চিফ পেট্রোনাইজার ছিলাম আমি। আমার বাবা আজ থেকে ১ বছর হলো আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন এবং এই লাইভ সংলাপটারও এক বছর হলো। এই লাইভটার প্লান আমাকে যিনি দিয়েছিলেন উনার পেশাগত কারণে তার নামটা এখানে বলতে চাচ্ছি না। নিশ্চয় উনি এটা শুনছেন, ধন্যবাদ আপনাকে। একদিন গভীর রাতে তাহাজ্জুতের পরে উনি আমাকে কল করে এই প্লানটা দিয়েছিলেন। উনি আমার অনেক কাছের ভাই, যার কাছ থেকে সবসময় আমার এই মিডিয়া প্রতিষ্ঠান নিয়ে পরামর্শ নিয়ে থাকি। এ জন্য তাকে সালাম জানাচ্ছি। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমি সশস্ত্র সালাম ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এই জন্য যে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল এবং ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে গণভবনে গিয়েছিলাম ফিলিস্তিনের আল আকসা মসজিদের মুফতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহকে নিয়ে। সে সময় আমি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটা বই লিখেছিলাম ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার ধর্মচিন্তা’। তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা সিলেটে ছিলেন। উনি যখন ঢাকায় আসলেন এবং যখন তার দেখা পেলাম তখন তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, মাত্র তিনি ঘুম থেকে উঠে এসেছেন। অনেকক্ষণ কথা হয়েছিল তার সঙ্গে। তখন উনি আমাকে বলেছিল, তুমি কি জানো আমরা কি পরিমাণে ফিলিস্তিনকে সহযোগিতা করি। তখন আমি একটা ফিগারের উত্তর দিয়েছিলাম। তখন তিনি হেসে দিয়ে বলল, তুমি এক্সাটলি এই ফিগারটি কিভাবে বললে। আমি বলেছি, আমিতো আপনারই শিষ্য। তখন আমি তাকে বইটি দিলাম। তিনি বইটি হাতে নিয়ে আমাকে বলল, তুমি এতো সুন্দর করে এই বইটির প্রচ্ছদ করেছো। তখন তিনি একজনকে বলল, এই বইটা আমার মাথার কাছে রাখবা, এটা আমি দুইদিনে শেষ করবো। তখন আমি তাকে বললাম, প্রধানমন্ত্রী আপনার সঙ্গে তো আমি ১০/১২ বার রাষ্ট্রীয়ও সফর করেছি, আপনার ধর্মভিরুতা দেখেছি, আপনার ইবাদত দেখেছি, আপনার একনিষ্ঠটা দেখেছি। উনার নেক আমল, উনার কর্মশক্তি, উনার সুদূরপ্রসারি চিন্তাভাবনা, উনার কর্মদক্ষতা, প্রাণচঞ্চলতা এবং সবাইকে কমিউনিকেট করা এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা হওয়ার কারণেই কিন্তু এই কমিনিউকেশন তিনি রাখতে পেরেছেন। ৭৫ বছর বয়সে তিনি যেভাবে কাজ করছেন সেটা আসলেই আশ্চর্যজনক। আমি গণভবনে তখন তাকে এই কথাটিই বলেছিলাম যে, আপা আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি তাদেরকে তো অন্যরা বলে যে আমরা ভারতের দিকে ঘেঁষা, আমরা নামাজ পড়ি না। কিন্তু তারা জানেনা যে আপনার কিছু সারগেদ আছে যারা তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে, পাগড়ী মাথায় দেয়, তাদের ছেলেরা হাফেজ হয়, তাদের বিবাহিত স্ত্রীরা পর্দায় থাকে। তখন তিনি এটা শুনে হেসে বললো, কি বলতে চাও খুলে বলো। তখন আমি তাকে বললাম, আপনার বাবা কাকরাইল মসজিদ দিয়েছে, আপনি টঙ্গি ইজতেমার ময়দান দিয়েছেন। আপনি এখন এমন একটা কিছু করে যান আমাদের জন্য যেটা মানুষ সারা জীবন মনে রাখে। মূলত এই কনসেপ্টটা আমার, আমি বলেছিলাম সারা দেশে মডেল মসজিদ নির্মাণ করেন, যেখানে ইমাম সিজদাহ দিবে, মুয়াজ্জেন আল্লাহু আকবর বলে আজান দিবে, তখন যাতে তাদের মাথায় থাকে এটা যেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা তৈরি করে দিয়েছেন। তখন তিনি কিছুই বলেননি। কিন্তু অনেকদিন পরে যখন শুনলাম যে এটা উনি বাস্তবায়ন করেছেন এবং এটাই হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনা। আজ ভোরের পাতা লাইভ টকশো, এটা আমাদের যুদ্ধ। তাদের বিরুদ্ধে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে এবং আমাদের বন্ধু যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির সঙ্গে আছে।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত 

এই বিভাগের আরও খবর