শিরোনাম
২০ নভেম্বর, ২০২৩ ০৯:০২

চায়না কমলায় সাফল্য

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

চায়না কমলায় সাফল্য

ফাইল ছবি

দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কমলা চাষে উপযুক্ত হওয়ায় অল্প খরচে বেশি আয়ের আশায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের কমলা এখন দিনাজপুরের বিভিন্ন সমতলভূমিতে চাষ হচ্ছে। ভালো দাম এবং ফলন ভালো পাওয়ায় এজাতীয় ফলের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কমলা এখন সদর, বিরল, বিরামপুর, বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় চাষ শুরু হয়েছে। এতে কর্মসংস্থানও হয়েছে অনেকের। অন্যদিকে বেকার যুবকদের কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছে কৃষি বিভাগ।

দিনাজপুরের বিরলে চাকরির পেছনে না ছুটে এক বন্ধুর পরামর্শে চায়না কমলার বাগান করে বাজিমাত করেছে ¯œাতক পাস যুবক শাকিল হোসেন সাদাত। তার চায়না কমলার বাগান দেখতে অনেকে ছুটে আসছেন এবং কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বিরল উপজেলার ভান্ডারা ইউপির রামপুর মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত খাদেমুল ইসলামের ছেলে শাকিল হোসেন সাদাত নিজের পতিত এক একর জমিতে চায়না জাতের কমলা চাষ শুরু করেন। তিন বছর আগে রোপণ করা এ কমলা বাগানে ২০০টি গাছ রয়েছে। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। গত বছর তার বাগানে অল্প পরিমাণে ফলন এসেছে এবং কমলা বিক্রি করে খরচের টাকা উঠে এসেছে। এবার পর্যাপ্ত ফলন হওয়ায় ব্যাপক লাভবান হবেন। বাগানের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, বাগান পরিচর্যা ও দেখভাল করার জন্য পাঁচজন শ্রমিক আছি। বাগানটি গড়ে ওঠার কারণে এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে। কমলা চাষি শাকিল হোসেন সাদাত জানান, আমি চাকরির পেছনে না ঘুরে এক বন্ধুর পরামর্শে ১ একর জমিতে ছোট জাতের চায়না কমলা চাষ করি।

বাগানের বয়স প্রায় ২৭ মাস। গত বছর বাগানে অল্প পরিমাণে ফলন এলেও তা বিক্রি করে খরচের টাকা উঠে আসে। এবার যে পরিমাণে ফলন এসেছে খরচ বাদ দিয়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারব। ইতোমধ্যে সিলেটের এক ব্যবসায়ী ৫ হাজার টাকা প্রতি মণ দর হিসেবে ১০০ মণ কমলা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়াও চাহিদার কারণে এখন কমলার চারা করেও বিক্রি করছি। তিনি জানান, এটি উচ্চফলনশীল একটি সুস্বাদু ফল। সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষে ও মার্চ পর্যন্ত ফুল আসা শুরু হয়। কমলা পরিপক্ব হয়ে রং ধারণ করে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাসের দিকে। নভেম্বর থেকে এটি বিক্রি উপযোগী হয়। ফল পাকতে সময় লাগে অন্তত ছয় মাস।

প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ১০০০-১৫০০ কমলা পাওয়া যায়। বিরল উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি কমলা চাষের জন্য উপযোগী। পাশাপাশি ফলন ভালো পাওয়ায় এজাতীয় ফলের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেকার যুবকদের এ কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে ছোট পরিসরে বাগান করে দেই। প্রশিক্ষণসহ ভালো ফলনের জন্য সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। বিরল উপজেলায় কমলা-মাল্টা জাতীয় ফলের বাগান রয়েছে প্রায় ৪৫ হেক্টরে।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর