শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ জুন, ২০২১ ১৯:০১
আপডেট : ১৭ জুন, ২০২১ ১৯:০৪
প্রিন্ট করুন printer

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: হিফজুরই খুন করেন স্ত্রী ও সন্তানদের!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: হিফজুরই খুন করেন স্ত্রী ও সন্তানদের!
Google News

সিলেটে গোয়াইনঘাটে মা ও ছেলে-মেয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহত আলেমা বেগমের বাবা আইয়ূব আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। বুধবার রাতে গোয়াইনঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা না হলেও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আলেমার স্বামী হিফজুর রহমানই ঘটিয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে হিফজুর নিজেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কুপিয়ে খুন করেছে। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। 

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে হিফজুর রহমানের শ্যালিকার বিয়ে আজ শুক্রবার। বিয়েতে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এর আগেও পারিবারিক বিরোধ নিয়ে কয়েকবার সালিশ হয়। এই বিরোধের জের ধরেই হিফজুর স্ত্রী ও সন্তানদের কুপিয়ে খুন করেছেন বলে পুলিশের ধারণা।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার দিন বুধবার ভোরে ফয়েজ নামে এক আত্মীয়কে ফোন দিয়ে টাকা নিয়ে আসতে বলেন হিফজুর। ওই সময় তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা-পয়সা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন’। ফয়েজ বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলে ভেতর থেকে সাড়া মিলেনি। পরে প্রতিবেশীদের সাথে নিয়ে দরজা খুললে ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় হিফজুর ও তার পরিবারের সদস্যদের পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় উপস্থিত লোকজন হিফজুরকেও মৃত ভাবেন। হঠাৎ চোখ মেললে তার বেঁচে থাকার বিষয়টি টের পান উপস্থিত লোকজন। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

পুলিশ জানায়, হিফজুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত থাকলেও তা গুরুতর নয়। তবে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় তার জ্ঞান ছিল না। বর্তমানে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে আলেমা বেগম ও তার দুই সন্তানের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা করা হয়েছে। গতকাল বাদ আছর আলেমার বাবার বাড়ি গোয়াইনঘাট উপজেলার রামনগরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি আবদুর আহাদ জানান, হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত, পূর্বাপর বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে হিফজুর রহমান নিজেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পারিবারিক অশান্তি থেকে তিনি নৃশংস এ কাজ করেছেন। তাকে পুলিশ প্রহরায় রাখা হয়েছে। কিছুটা সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 

এর আগে গত বুধবার সকালে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিন্নাকান্দি গ্রামের হিফজুর রহমানের স্ত্রী আলেমা বেগম ও তার শিশু সন্তান মিজান আহমদ ও তানিশার জবাই করা ও কোপানো লাশ উদ্ধার করা হয়। আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয় হিফজুর রহমানকে।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর