২১ আগস্ট, ২০২২ ০৯:১৪

‘মোমেন আওয়ামী লীগ নেতা, আব্দুর রহমানের বক্তব্য সঠিক নয়’

সিলেট ব্যুরো

‘মোমেন আওয়ামী লীগ নেতা, আব্দুর রহমানের বক্তব্য সঠিক নয়’

ড. একে আবদুল মোমেন

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান এক বক্তব্যে বলেছেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আবদুল মোমেন দলের কেউ নন। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেট আওয়ামী লীগের দুটি ইউনিটে সম্মানিত সদস্য এবং উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন।

জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমপি বর্তমানে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, সেটি করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছি।’

এমন বক্তব্যের পর ড. মোমেনকে নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। ব্যাপক সমালোচনার পর ড. মোমেন সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন- ‘আমি বলেছি, কিছু কিছু লোক সময় সময় অনেক উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে। আপনার দেশেও কিছু দুষ্ট লোক আছে, আমার দেশেও দুষ্ট লোক আছে। তারা তিলকে তাল করে। আপনার সরকারের একটা দায়িত্ব হবে এবং আমার সরকারেরও দায়িত্ব আছে যে তিলকে তাল করার সুযোগ সৃষ্টি না করে দেওয়া। আমরা যদি এটা করি তাহলে সম্প্রীতি থাকবে। আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের অস্থিরতা থাকবে না। আমি বলেছি, আমরা চাই শেখ হাসিনার সরকারের স্থিতিশীলতা থাকুক। এই ব্যাপারে আপনারা সাহায্য করলে আমরা খুব খুশি হবো।’

বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ড. মোমেন আরও বলেন- ‘আমি বলেছি, শেখ হাসিনা যদি সরকারে থাকেন, তাহলে স্থিতিশীলতা থাকে। আর স্থিতিশীলতা থাকলেই আমাদের উন্নয়নের যে মশাল…। ভারতে গিয়ে আমি যেটা বলেছি, আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? উনি বললেন, শেখ হাসিনার সেই জিরো টলারেন্স টু টেরোরিজম- এটা ঘোষণার পরে, আর দ্বিতীয়ত, উনি বলেছেন, বাংলাদেশ ক্যাননট বি এ হাব ফর টেরোরিস্ট (বাংলাদেশ সন্ত্রাসীদের আস্তানা হতে পারে না)। এর পরে আসাম, মেঘালয়- সবগুলো জেলায় আর সন্ত্রাসী তৎপরতা নাই। সন্ত্রাসী তৎপরতা না থাকায় তাদের দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। উনি বললেন, আমার এখানে বহু হাসপাতাল, বহু ইনভেস্টমেন্ট আসছে। যেহেতু আমাদের এই আসামে কোনো সন্ত্রাসী নেই। এই জন্য শেখ হাসিনা, তার আহ্বানে এটা হয়েছে।’

এরপর রাজনৈতিক অঙ্গনে- এমনকি খোদ আওয়ামী লীগে এ বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন- ‘ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতকে কোনো অনুরোধ আওয়ামী লীগ করে না, করেনি। শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকেও কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। যিনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এ কথা বলেছেন, তার ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। এটা আমাদের সরকার বা দলের বক্তব্য নয়।’

এ বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আব্দুর রহমান শনিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে এক আলোচনা সভায় বলেন- ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের কেউ নন। সুতরাং তার বক্তব্যে দলের বিব্রত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ড. মোমেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন। মহানগরের আওয়ামী লীগের প্রথম সদস্যের পাশাপাশি দলটির সিলেট জেলা কমিটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য হিসেবে ৩ নাম্বার নাম রয়েছে তার। ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি পায় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। তবে ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ।

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, ড. মোমেন মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম সদস্য। তিনি সিলেট আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জেলা আওয়ামী লীগের ৩য় উপদেষ্টা। জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে তাকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মিসবাহ উদ্দিন আহমদ তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘সিলেট নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটিতে ৩ নং সদস্য ড. এ কে আবদুল মোমেন। ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর ওই কমিটি ঘোষিত হয়। কমিটিতে ১ নং সদস্য রাখা হয় আবুল মাল আবদুল মুহিতকে (সদ্য প্রয়াত) ও ২ নং সদস্য রাখা হয় ড. এ কে আবদুল মোমেনকে। ভুল যদি না হয় তবে এই কমিটি এখনও বহাল রয়েছে। তখন মরহুম বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আসাদউদ্দিন আহমদ ছিলেন সাধারণ সম্পাদক।’

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর