বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে নাকাল সিলেট নগরবাসী। বৃষ্টি নামলেই পানিতে তলিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ দুই দশকে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না আসায় হতাশা জমেছে নগরজুড়ে। সেই বাস্তবতায় আবারও জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগর উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)।
মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ৪৯৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এই প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে।
সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ‘জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন পায়। সংশোধনের ফলে প্রকল্পের মোট ব্যয় এবং সরকারি অর্থায়নের অংশে কিছুটা হ্রাস আনা হয়েছে।
সিসিক সূত্রে জানা গেছে, ৪৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর নদী, খাল ও ড্রেন খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করা হবে। পাশাপাশি যেসব ওয়ার্ডে পানির লাইন নষ্ট হয়ে গেছে বা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। তবে এই প্রকল্পের আওতায় নতুন কোনো ওয়ার্ডে পানির সংযোগ দেওয়া হবে না। অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নগরবাসীকে পুরোপুরি জলাবদ্ধতা মুক্ত করা সম্ভব না হলেও অন্তত সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘আজকের অনুমোদন দেওয়া প্রকল্পটি ছিল ২০১৯ সালের। তখন সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে ২৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে সিসিকের প্রস্তাবিত ২৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব বাতিল করা হয়। এই বছর ২৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব কেটে ৪৯৯ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের সিসিককে দেওয়া ৪৯৯ কোটি টাকার অনুমোদন হয়েছে তবে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে এই টাকার বরাদ্দ হবে তখন আমরা ধীরে ধীরে কাজ শুরু করবো। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পরিকল্পনায় যেসব কাজ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।’
একই সভায় ঢাকা-কাঁচপুর থেকে সিলেট ও তামাবিল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর অংশে চতুর্থবারের মতো মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদনও দেওয়া হয়।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত