চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ‘নিরাপদ জীবনের জন্য নিরাপদ খাদ্য জরুরি। আর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। হোটেল পরিস্কার- পরিচ্ছন্ন রাখা ও মানসম্পন্ন নিরাপদ খাদ্য তৈরির জন্য মালিকদের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।’
রবিবার সকালে নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে নগরের হোটেল রেস্তোরার মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান, চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, চসিকের মডার্ন খাদ্য পরীক্ষাগারের মাইক্রো বায়োলজিস্ট আশীষ কুমার দাশ, চসিকের স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াসিনুল হক চৌধুরী, ইপসার কর্মকর্তা ওমর সাহেদ হিরু, হোটেল মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম রেস্তোরা মালিক সমিতির সভাপতি ইলিয়াস আহমেদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদুল হান্নান বাবু প্রমুখ।
সিটি মেয়র বলেন, ‘হোটেল মালিক সমিতির ছাড়পত্র ছাড়া চসিকের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হবে। নিরাপত্তার জন্য গরিব মানুষও নিরাপদ পানি কিনে খাচ্ছে। পচা, বাসি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার নিজে খাবেন না, ভোক্তাদেরও খাওয়াবেন না। কর্মচারীরা যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রেস্তোরাঁয় একজন ম্যানেজার থাকেন। মালিকের দায়িত্ব ম্যানেজারকে সচেতন ও দায়িত্বশীল করা। আমরা যে ফেস্টুন দিচ্ছি তা টাঙিয়ে দেবেন, সচেতনতা তৈরি হবে। আপনি রেস্তোরার মালিক হলেও আপনি অন্য জায়গায় ভোক্তা। আমাদের অন্যতম পরিচয় আমরা ভোক্তা। কাউকে হয়রানির সুযোগ নেই।’
মেয়র বলেন, ‘মেয়রের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি। জরিমানা আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। জনস্বার্থে আইন তৈরি করে সরকার, সিটি কর্পোরেশন তা বাস্তবায়ন করে। আইন পরিবর্তনের সুযোগ আমাদের নেই। আমরা চাই আপনারা আইন মেনে চলুন। আইন জানি- না বলার সুযোগ নেই। ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে আইন জেনে মেনে করতে করতে হবে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই। দই তৈরি করতে হলে বিএসটিআই’র লাইসেন্স নিতে হবে। উৎপাদন, মেয়াদ, খুচরা মূল্য দিতে হবে। বিদেশি পণ্যের মোড়কে আমদানিকারকের নাম, বাংলাদেশি টাকায় মূল্য ইত্যাদি থাকতে হবে। উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, সরকার মূল্য নির্ধারণ করে।’
ক্যাব সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, আমরা দেখেছি হোটেল রেস্তোরাঁকে জরিমানার পরও সংশোধন হচ্ছে না। তাই অভিযান আরও বাড়াতে হবে। দেশে ক্যান্সারসহ অনেক জটিল রোগের মূল কারণ খাবারের সমস্যা। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।’
বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার