শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ মার্চ, ২০২০ ১৭:২৪

করোনাভাইরাস: ৫০ শতাংশ রোগী কমেছে চমেক হাসপাতাল

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

করোনাভাইরাস: ৫০ শতাংশ রোগী কমেছে চমেক হাসপাতাল

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সাধারণ সময়ে প্রতিনিয়ত প্রায় তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকে। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস প্রকোপের এই সময়ে রোগী ভর্তি আছে মাত্র ১ হাজার ২৬০ জন। 

সাধারণ সময়ে অর্থোপেডিক বিভাগে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত অপারেশন হয়। কিন্তু এখন হচ্ছে ৮ থেকে ১০টি। সার্জারি বিভাগে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০টি অপারেশন হলেও এখন হচ্ছে ৪ থেকে ৫টি। করোনাভাইরাস প্রকোপের এ সময়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অর্ধেকের চেয়ে বেশি কমে গেছে। পক্ষান্তরে চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারেও কমেছে রোগীর সংখ্যা। 

গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে বৃহত্তম চট্টগ্রামের সরকারি এ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে।   

জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা মতে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘অঘোষিত লকডাইন’ চলছে। সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সময় সংকোচন করে দেয়। এমন অবস্থায় কেউ অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন না। চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও রোগী কম। আউট ডোর চালু আছে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। রোগ শনাক্তের অন্যতম কেন্দ্র পরমাণু শক্তি কমিশনের চিকিৎসাকেন্দ্রও বন্ধ।     

অভিযোগ ওঠেছে, করোনাভাইরাসের এই কঠিন সময়ে চমেক হাসপাতালে সংকট চলছে পানির। অপারেশন থিয়েটারে সংকট চলছে হ্যাক্সিসল, গ্লাভসসহ সার্জিক্যাল নানা সামগ্রীর। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের কর্মস্থলে অনিরাপদ মনে করছেন বলে জানা যায়।

চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে বর্তমান সাধারণ রোগী কমলেও সর্দি-কাশি ও জ্বরের রোগী আছে। তবে মানুষ সচেতন হওয়ার কারণে বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। একান্তই কোনো জরুরি কাজ ছাড়া কেউ বের হচ্ছে না। ফলে অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসা ছাড়া কেউ এখন হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছেও যাচ্ছে না।’   

চিকিৎসক ডা. হামিদ হোছাইন আজাদ বলেন, সচেতনতার কারণে সাধারণ সময়ে ছোট কোনো সমস্যা হলেও চিকিৎসকের কাছে চলে আসেন। কিন্তু এখন অনেকেই তা করছেন না। মোবাইলে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা করে নিচ্ছেন। করোনা প্রেক্ষাপটে এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক।’     

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চমেক হাসপাতালে প্রায় ৪৮টি ওয়ার্ডে ১৩৪৮টি অনুমোদিত শয্যা আছে। এসব শয্যায় প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকে। তাছাড়া বহির্বিভাগেও দৈনিক ৬ হাজার রোগী সেবা গ্রহণ করে।

 
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য