শিরোনাম
প্রকাশ : ১ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:০৯
আপডেট : ১ অক্টোবর, ২০২০ ১৯:৩৯

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মা-ছেলে খুন

ক্রাইম পেট্রোল দেখে খুনের কৌশল শিখে ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ক্রাইম পেট্রোল দেখে খুনের কৌশল শিখে ফারুক

নগরের চান্দগাঁও থানাধীন পুরাতন চান্দগাঁও রমজান আলী সেরেস্তাদারের বাড়ি এলাকায় চাঞ্চল্যকর মা ও ছেলে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুক জানিয়েছে, টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে হত্যাকাণ্ডের কৌশল শিখেছে। সে কৌশলে মা গুলনাহার বেগম ও ছেলে রিফাতকে খুন করা হয়। তাছাড়া রাগের মাথায় খুন করা হয় মাকে এবং খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় খুন করা হয় ছেলেকেও।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্যদের হাতে আটকের পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে এসব তথ্য দিয়েছে ফারুক। র‌্যাব-৭ চান্দগাঁও কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল।

এর আগে আজ ভোরে নগরের আকবরশাহ থানাধীন পাক্কার মাথা এলাকা থেকে ফারুককে আটক করে র‌্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজের নেতৃত্বে একটি টিম। এ সময় ফারুকের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৭ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন, চান্দগাঁও ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার মো. নুরুল আবছার। মা ও ভাইয়ের হত্যাকারীকে আটকের বিষয়টি শুনে র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে আসেন নিহত গুলনাহার বেগমের মেয়ে ময়ুরী।   

লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরপরই র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্ত ফারুককে ধরতে বেশ কয়েক জায়গায় অভিযানও চালানো হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে আকবরশাহ পাক্কার মাথা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার এড়াতে সে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ এবং খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে।’

র‌্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, ‘গুলনাহার বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ফারুকের। নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। গুলনাহার বেগম ফারুককে বকাও দিতেন। এ থেকে তার ওপর ক্ষোভের সৃষ্টি হয় ফারুকের। ঘটনার দিন কথা কাটাকাটির জেরে একপর্যায়ে গুলনাহার বেগমকে খুন করে ফারুক। 

এ ঘটনা দেখে ফেলায় গুলনাহার বেগমের ছেলে রিফাতকেও খুন করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপন করে ফারুক। প্রথমে চকবাজার এলাকায় গিয়ে রক্তমাখা জামা নালায় ফেলে দেয়। পরে নিজেকে অসহায় পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে গ্যারেজে কাজ নেয়। সেখানে কিছুদিন থাকার পর ফের চট্টগ্রামে এসে বিভিন্ন মাজারে ঘুরে আত্মগোপন করে।  পরে আবার ঢাকায় গিয়ে একটি গ্যারেজে কাজ নেয়। সম্প্রতি ফারুক চট্টগ্রাম ফিরে আসে।’   

ময়ুরী বলেন, র‌্যাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তারা আমার মা ও ভাইয়ের খুনিকে আটক করেছে। আমি খুনির ফাঁসি চাই। প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাত ৮টার দিকে চাঁন্দগাও থানাধীন পুরাতন চান্দগাঁওয়ের রমজান আলী সেরেস্তাদার বাড়ি এলাকার একটি বাসায় গুলনাহার বেগম ও রিফাতকে খুনের ঘটনা ঘটে।  
 
বিডি প্রতিদিন/ আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর