শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ১৮:২৪
প্রিন্ট করুন printer

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘ শাবককে বাঁচানোর চেষ্টা

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘ শাবককে বাঁচানোর চেষ্টা

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বাঘিনী জয়া তিনটি শাবকের জন্ম দেয়। কিন্তু জন্মের পর ছয়দিনের ব্যবধানে মারা যায় দু'টি শাবক। তবে অবশিষ্ট একটি শাবককে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় দু’টি বাঘ ও চারটি বাঘিনী আছে।

জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর রাতে জয়া-রাজ দম্পতির ঘরে তিনটি শাবকের জন্ম হয়। কিন্তু জন্মের পর মা বাঘ তার শাবকদের দুধ খেতে দেয়নি। বাচ্চাদের সঙ্গেও করে বিরূপ আচরণ। ফলে ১৫ নভেম্বর রাতে একটি শাবক মারা যায়। এরপর বাকি দুই বাচ্চাকে আলাদা করে রাখা হয়। মায়ের দুধ না খাওয়ায় দু'টি শাবকই দুর্বল ও সংকটাপন্ন হয়ে পরে। পরে ১৮ নভেম্বর আরও একটি বাচ্চা মারা যায়। এখন অবশিষ্ট শাবককে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।   

চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ‘মায়ের বিরূপ আচরণে দু'টি বাচ্চা মারা যায়। বর্তমানে তৃতীয় বাচ্চাকে বাঁচাতে চেষ্টা চলছে। বাচ্চাকে খাওয়ানো হচ্ছে হাতে। তার অবস্থা কিছুটা ভালো। তবে এখনও সংকটমুক্ত বলা যাচ্ছে না। নিয়মিত খাবার গ্রহণ করলে এক মাস পর নিরাপদ বলা যাবে।’ 

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘বাচ্চাটির নিরাপত্তা এবং সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে সব সাধারণ কোলাহল থেকে দূরে রাখা হয়েছে। তাছাড়া, বাচ্চার যত্নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছাড়া আর কাউকেই কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এটিকে সুস্থ করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’ 

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৩৩ লাখ টাকায় ১১ মাস বয়সী বাঘ ও ৯ মাস বয়সী বাঘিনী চিড়িয়াখানায় আনা হয়। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় তাদের ঘটা করে বিয়ে দেওয়া হয়। নাম দেওয়া হয় রাজ ও পরী। ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই সেই বেঙ্গল টাইগার রাজ-পরী দম্পতির ঘরে তিনটি শাবকের জন্ম হয়। এর মধ্যে দু’টি ছিল ‘হোয়াইট টাইগার’ এবং একটি কমলা-কালো ডোরাকাটা। একটি সাদা বাঘ শাবক জন্মের পরদিনই মারা যায়। সাদা বাঘিনী ‘শুভ্রা’ বেঁচে আছে। এছাড়া জীবিত কমলা- কালো ডোরাকাটা বাঘিনী ‘জয়া’ গত ১৪ নভেম্বর জন্ম দেয় তিনটি শাবকের। এই তিন শাবক  জয়া’র প্রথম সন্তান। সাদা বাঘিনী শুভ্রার ঘরেও কিছুদিনের মধ্যেই নতুন অতিথি আসার সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা বেঙ্গল টাইগার পরী ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর দু’টি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। পরদিন একটির মৃত্যু হয়। বেঁচে থাকা শাবকটিকে প্রথমে ইনকিউবেটরে রাখা হয়। এরপর তিন মাস পর্দায় ঢাকা খাঁচার ভেতরে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়। সুস্থ বাঘ ছানাটিকে পরে খাঁচায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এর নাম রাখা হয় করোনা। জয়া’র ঘরের নতুন অতিথিকেও একই প্রক্রিয়ায় সুস্থ করে তোলা হয়েছিল। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর