Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ জুন, ২০১৯ ১৬:২৪

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানছেন না জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানছেন না জেলেরা

বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানছেন না জেলেরা। তারা সাগরে মাছ শিকার করছেন। কিন্তু ওই মাছ উপকূলীয় এলাকায় বিক্রি করতে সমস্যা হওয়ায় ট্রলার বোঝাই করে হাজার হাজার মণ ইলিশ নিয়ে আসা হচ্ছে বরিশাল ইলিশ মোকামে। নিষিদ্ধকালীন সময়ে আহরিত মাছ নিয়ে কোটি টাকার গোপন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, গত দুই মাস মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে ইলিশ মাছ শিকার নিষিদ্ধ ছিলো। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে। 

সাগরে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকায় গত প্রায় এক মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে অভ্যন্তরীণ নদী থেকে আহরিত একশ’ থেকে দেড়শ’ মণ ইলিশ আসছিলো বরিশাল মোকামে। কিন্ত গত রবিবার হঠাৎ করে সাগরে মাছ ধরা ২২টি ট্রলার আসে পোর্ট রোড মোকামে। প্রতিটি ট্রলারই ছিলো ইলিশ বোঝাই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আড়তদাররা জানান, সাগরে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পটুয়াখালীর মহিপুর ও হাজীপুর, বরগুনার পাথরঘাটা এবং ভোলার ইলিশ মোকামে প্রশাসনের কঠোর তদারকি রয়েছে। এ কারনে ইলিশ বোঝাই ট্রলারগুলো নির্বিঘ্নে চলে আসছে বরিশাল মোকামে। প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় গত রবিবার ২২টি এবং সোমবারও বরিশাল মোকামে এসেছে ৩টি সামুদ্রিক ট্রলার। 

বরিশাল জেলা মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত কুমার দাস মনু বাবু বলেন, গত রবিবার বরিশাল ইলিশ মোকামে ৮-১০টি বোট ইলিশ নিয়ে এসেছে। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, তাই জেলেরা ভোলা অঞ্চল থেকে বোটে মাছ নিয়ে এসেছে। 

জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, এই সময়ে সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বাংলাদেশে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপশি জেলেরা উপকৃত হবে। তাই ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে ইলিশ শিকার না করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বরিশাল ইলিশ মোকামে সাগরের মাছ এসেছে কিনা তা তার জানা নেই। তবে মোকামে গিয়ে ট্রলার থেকে মাছ নামাতে দেখা গেছে। জেলেরা তাকে (বিমল চন্দ্র দাস) জানিয়েছে এই মাছ ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের। এ কারনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাগরে মাছ ধরা কিংবা বরিশাল মোকামে সামুদ্রিক মাছ বেচাকেনার বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেন তিনি। 

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য