শিরোনাম
প্রকাশ : ২ জুন, ২০২০ ০৪:০৩

রাজশাহী থেকে ছাড়ছে বাস, ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী :

রাজশাহী থেকে ছাড়ছে বাস, ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ
ফাইল ছবি

দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে বাস চলাচল। রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকে দুই মাস পর ছেড়ে গেছে দূরপাল্লার বাস। বাইরের জেলা থেকেও বাস আসছে রাজশাহী। মহানগরীর নওদাপাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে চলাচল শুরু করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, জয়পুরহাট রুটের আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস। কিন্তু বাসের ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। বাড়তি ভাড়ার কারণে বাস যাত্রায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেকেই। জরুরি কাজ ছাড়া কেউই বাসে যেতে চাইছেন না। নিরাপদ ভ্রমণ ও বাড়তি ভাড়ার কোনো ঝামেলা না থাকায় ভরসার একমাত্র বাহন হিসেবে এখনো ট্রেনই বেছে নিচ্ছেন সবাই।

নগরীর শিরোইলে ঢাকা বাস বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, বাস কাউন্টার ও যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। প্রতিটি টিকিট কাউন্টারের প্রবেশ মুখেই জীবাণুনাশক পাদানি, স্প্রে ও হ্যান্ড সেনিটাইজেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাস ছাড়ার আগে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে সিট ও হাতল জীবাণু মুক্ত করতে দেখা গেছে। হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে বাসের মধ্যে প্রবেশ করানো হচ্ছে। একটি সিট ফাঁকা রেখে আরেকটি সিটে যাত্রী বসানো হয়েছে। ফলে এক যাত্রী থেকে আরেক যাত্রীর শারীরিক ব্যবধান থাকছে দুই সিট। যা নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট। এভাবে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস ছাড়ছে বিভিন্ন গন্তব্যে।

একজন যাত্রীকে বাস বা মিনিবাসের পাশাপাশি দু’টি আসনের একটি আসনে বসিয়ে অপর আসনটি অবশ্যই ফাঁকা রাখতে হচ্ছে। আর কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লিখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাচ্ছে না। দাঁড়িয়েও কোনো যাত্রী বহন করা যাচ্ছে না। তবে বাড়তি বাস ভাড়া নিয়ে চরম আপত্তি দেখা দিয়েছে যাত্রীদের মধ্যে।

রাজশাহী মহানগরীর সুলতানাবাদ এলাকার চাকরিজীবী শহিদুল ইসলাম বলেন, একরকম বাধ্য হয়েই বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হচ্ছে। ছুটি শেষ হয়ে গেছে। ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়নি। তাই বাড়তি ভাড়া দিয়ে রওনা হচ্ছেন ঢাকার পথে। কেবল শহীদুল ইসলামই নন, রাজশাহী থেকে দুই মাস পর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া অধিকাংশ যাত্রীরই একই অবস্থা। আর অভিন্ন অভিমত। গন্তব্যে পৌঁছাতে বাসে যেতে পারলেও বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীরা অসন্তুষ্ট।

শিরোইলে বাসস্ট্যান্ডে থাকা হানিফ এন্টার প্রাইজের টিকিট মাস্টার বাবুল ইসলাম বলেন, পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা কাউন্টারের সামনে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া সব রকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কাউন্টার ও বাসের মধ্যে। নির্দেশনা অনুযায়ী অর্ধেক যাত্রী নিয়েই প্রতিটি বাস রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছে। এজন্য সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখানে তাদের কিছু করার নেই।

এদিকে, বাড়তি ভাড়া নিয়ে দূরপাল্লার রুটের যাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ চরমে উঠেছে। আন্তঃজেলা রুটের বাস সার্ভিসে দেখা দিয়েছে গোলযোগ। মহানগরীর ভদ্রা ও রেলগেট বাসস্টপ এলাকায় গিয়ে বাস ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও বাসের সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার দৃশ্য সোমবার সকাল থেকে চোখে পড়ছে। ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর