শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০২০ ২১:১০

কেরাণীগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেরাণীগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে বেশিরভাগ মানুষ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও কেরাণীগঞ্জে সব খানেই উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে কেরাণীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

মানুষের মুখে করোনার আতঙ্কের কথা শোনা গেলেও কার্যত কেউই মানছে না সামাজিক দূরুত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। আগের নিয়মে চলাফেরা করছে সবাই। হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাটের দৃশ্য দেখে কেউ বলবে না কেরাণীগঞ্জে করোনা সংক্রমণ ১২০০ ছাড়িয়ে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কেরাণীগঞ্জের কদমতলী, হাসনাবাদ, ইকুরিয়া, রাজেন্দ্রপুর, আব্দুল্লাপুর ঘুরে দেখা যায় সংক্রমণ যখন তুঙ্গে, তখন বাজারে, চায়ের দোকানে, সেলুনে, গণপরিবহনে, প্রতিটি অলিগলিতে নেই কোন সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। দোকানে রয়েছে  ক্রেতাদের ভিড়। এমনকি তাদের সিংহভাগই নারীর এবং কোলে শিশু নিয়ে এসেছেন তারা। বেশিরভাগ লোক মাস্ক ব্যবহার করছে না। কেউ কেউ মুখে না পড়ে গলায় বা থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখছে। জিজ্ঞাসা করলে দিচ্ছে নানা ধরনের অজুহাত।।

সিএনজি, অটোরিকশাসহ তিন চাকার গাড়ি আগের মতোই পাঁচজন যাত্রী গাঁ ঘেঁষে বসেই চলছে নিত্য চলাচল। আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকলেও সেলুনে যাচ্ছে সবাই। সেখানে বসার আসন আর সরঞ্জামাদি জীবাণুমুক্ত না করেই চলছে চুল-দাড়ি কাটা। পাড়া-মহল্লা চায়ের দোকানে চলছে আড্ডা, নাম মাত্র ধুয়ে দেওয়া অন্যের চুমুক দেয়া কাপেই খাচ্ছেন চা।

আব্দুল্লাহপুর স্টান্ডের এক রিকশাচালক হাফিজুল ইসলাম বলেন, সংসারের প্রয়োজনে বের হয়েছি, কিন্তু কাম না করলে খামু কি! নিজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে বের হইলেও বেশি ভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে না। ফলে নিজেও রয়েছি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা ছাড়া কোন ভাবেই করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।করোনা থেকে বেঁচে থাকার যে কয়েকটি উপায় রয়েছে তার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অন্যতম। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে  বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় কেরাণীগঞ্জে। সেই থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয় ১২০৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১০ জন এবং বাসায় আইসোলেশনে আছেন ৬৬৪জন।এই পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬ জন।

এ ব্যাপারে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল জানান, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একমাত্র ব্যক্তি সচেতনতাই পারে কেরাণীগঞ্জের করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।

নিজে এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখতে ঘরে থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর