শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৪৮
আপডেট : ৮ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:৩২
প্রিন্ট করুন printer

ত্যাগী-বঞ্চিতদের হাতে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব

রাহাত খান, বরিশাল

ত্যাগী-বঞ্চিতদের হাতে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব

বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া। বিরোধী দলের আমলে রাজপথ কাঁপিয়েছেন তিনি। শিকার হয়েছেন জেল-জুলুমের। ২০০৯ সালে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করার পর মহানগর যুবলীগের কো-অপ্ট সদস্য ছিলেন তিনি। তবে দলে ভূমিকা রাখার সুযোগ না পাওয়ায় রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটা হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বলা চলে অনেকটা ঘরে উঠে গিয়েছিলেন তিনি। সেই জিয়াকে মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করে রাজনীতিতে সক্রিয় করেছেন নীতিনির্ধারকরা। জিয়ার মতো হারিয়ে যেতে বসা অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। এতে খুশি বঙ্গবন্ধু প্রেমিকরা। 

তবে ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি করা হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। ভাড়াটে দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার কথা বলেছেন সংগঠনের নেতারা। কমিটিতে কোন হাইব্রিড রাখা হয়নি দাবি মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপাতির। 

শুক্রবার বিকেলে মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর কালীবাড়ি রোডে সিটি মেয়রের বাসভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর। সভা সঞ্চালনা করেন সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ। 

দীর্ঘদিন নিস্ক্রিয় থাকার পর মূল দল আওয়ামী লীগে স্থান পেয়ে খুশি জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি বলেন, রাজনীতি করতে একটা প্লাটফর্ম দরকার। সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তাকে আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান দেয়ায় তিনি আনন্দিত। এতে আগামী দিনে রাজনীতি করার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। 

নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেয়ার পর মাঝখানে কয়েকটি বছর রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় ছিলেন মীর মিজানুজ্জামান সোহেল। মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য পদ দিয়ে তাকে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় করা হয়েছে। সোহেল বলেন, কার্য ক্ষমতা থাকলে আওয়ামী লীগে সদস্য পদই যথেষ্ট। যতদিন গায়ে রক্ত থাকবে ততদিন আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করে যাবেন। 

কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার রাজিব বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা এবং নতুন-পুরানের সমম্বয়ে আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আশা তার। 

এদিকে জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারী রাখা হয়নি। ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখা হয়েছে মাত্র চার জন নারীকে। পুরুষ প্রধান কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে স্থান পেয়ে খুশি সদর আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ। রাজনৈতিক দলের সকল কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারী রাখার বিধান ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে আশা তার।

কমিটির দুই নারী সদস্যের একজন শামচুন্নাহার মুক্তি বলেন, প্রতিটি কমিটিতে দিকনির্দেশনা থাকে। নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দলের জন্য কাজ করার চেষ্টা করবেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সকল কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারী নিশ্চিত করবে আশা করেন তিনি। 

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি সাবেক ছাত্রনেতা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অভিমানী ও নিস্ক্রিয় নেতাদের মহানগর আওয়ামী লীগে স্থান দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হবে এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হবে। 

সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ভাড়াটে মাস্তান দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে নেতাকর্মীদের মন জয় করে মহানগর আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে চান। নতুন কমিটি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে আশা তার। 

মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ২০০৮ সালের পর যারা আওয়ামী লীগে এসেছে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখা হয়নি। কমিটিতে কোন হাইব্রিড নেই। শতভাগ রক্ষা করা সম্ভব না হলেও ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিয়েই মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সরকার বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করে যাবে। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর