শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০২১ ১৫:৫৭
প্রিন্ট করুন printer

বরিশাল-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচলের প্রস্তুতি, প্রথম দিনেই আগাম টিকিট শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশাল-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচলের প্রস্তুতি, প্রথম দিনেই আগাম টিকিট শেষ
বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচল করার জন্য লঞ্চগুলো পরিষ্কার করছেন কর্মীরা।
Google News

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কঠোর লকডাউন ৮ দিনের জন্য শিথিল করে বৃহস্পতিবার থেকে ফের শুরু হচ্ছে বরিশাল-ঢাকা রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল। এই লক্ষ্যে লঞ্চগুলো ধোয়া-মোছার কাজ শেষ হয়েছে। ২১ দিন পর বুধবার কাউন্টার খোলার সাথে সাথে লঞ্চের আগাম কেবিন টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।

টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চের কেবিন টিকিট বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের ওপর গুরত্বারোপ করেছে নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে ৮ দিনের জন্য কঠোর লকডাউন শিথিল করে গণপরিবহন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের এই ঘোষণা পাওয়ার সাথে সাথে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের প্রস্তুতি শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। একদিকে চলেছে লঞ্চ ধোয়া-মোছার কাজ। অপরদিকে, বুধবার থেকে লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে চলে আগাম কেবিন টিকিট বুকিং।

তবে অফিস খোলার পর বুধবার প্রথম দিনেই উধাও হয়ে গেছে কেবিন টিকিট। চাহিদা অনুযায়ী আগাম টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ টিকিট পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি কীর্তনখোলা লঞ্চ কোম্পানির সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে আগাম টিকিট বুকিং নিয়েছেন তারা। আগের চেয়ে চাপ কিছুটা কম হলেও প্রথম দিনেই আগাম টিকিট বুকিং শেষ হয়ে গেছে।

একই রুটের এমভি সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির কাউন্টার ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন বলেন, কাউন্টারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকিট বুকিং নিয়েছেন তারা। লঞ্চও চালানো হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করতে বলেছে। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে লঞ্চ পরিচালনার যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা বলছেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লঞ্চ পরিচালনা করতে হবে সংশ্লিষ্ট মালিকদের। ব্যত্যয় হলে দায়িত্ব নিতে হবে লঞ্চ মালিকদের। যাত্রী চাপ বেশি থাকলে লঞ্চে সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বুধবার দিবাগত রাত থেকে শিথিল হচ্ছে লকডাউন। বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে উভয় প্রান্ত থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কোনো লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট মাস্টার এবং মালিকরা দায়ী থাকবেন। তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে যথাযথ ব্যবস্থা।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই দফায় ২২ দিন বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল। ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচল করে বিলাসবহুল ২২টি লঞ্চ। এছাড়া রাজধানীর সদরঘাট থেকে সারা দেশের ৪১টি নৌপথে চলাচল করে ২২০টি যাত্রীবাহী লঞ্চ।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর