২০ জুলাই, ২০২১ ১৪:১৩

পর্যাপ্ত গরু পর্যাপ্ত ক্রেতা, তবে বড় গরু নিয়ে শঙ্কা

শামছুল হক রাসেল

পর্যাপ্ত গরু পর্যাপ্ত ক্রেতা, তবে বড় গরু নিয়ে শঙ্কা

ছবিটি রাজধানীর ধোলাইখাল পশুর হাট থেকে আজ মঙ্গলবার দুুপুরে তোলা

মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যেই আরেকটি ঈদুল আজহা সমাগত। রাত পোহালেই ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে পুরোপুরি জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলো। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হাটে পর্যাপ্ত ক্রেতা থাকলেও বৃষ্টির কারণে সন্ধ্যার পর ক্রেতা কিছুটা কম ছিল হাটে। আজ  মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্রেতারা হাটে ভিড় করেছেন। করোনার মধ্যে গরু বিক্রি হবে কী না, উপযুক্ত দাম পাবেন কী না- তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন গরুর বেপারীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। গত দুই দিনের তুলনায় আজ দুপুরের পর হাটে ক্রেতা আরও বেড়েছে। ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজারের মধ্যে গরু বেচাকেনা হচ্ছে বেশ। তবে বড় গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে না। যেসব গরুর দাম ২ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকার বেশি সেসব গরুর ক্রেতা নেই বললেই চলে। 

আজ  থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই গরু কিনতে বাজারে ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতারা। রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বাজারে ছোট ও বড় গরুর চাহিদাই বেশি। প্রত্যাশিত মূল্যে গরু কিনতে পেরে ক্রেতাদের মুখেও হাসি ফুটেছে। ক্রেতারা জানান, বাজার অনেকটাই সহনীয়। পর্যাপ্ত গরু আছে বাজারে। পছন্দমতো দরদাম করে খুশি মনে বাড়ি ফিরছেন তারা। 

তবে বড় আকারের গরু ক্রয়ে ক্রেতাদের অনীহায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বড় গরুর বেপারীরা। দূর দুরান্ত থেকে পরিবহন খরচ নিয়ে গরু আনার পর বিক্রি না হওয়ায় অনেকের মুখই মলিন। বেশিরভাগ বাজারেই ছোট ও মাঝারি আকারের গরু দ্রুত বিক্রি হলেও বড় গরুর ক্রেতা কম। অনেক ক্রেতা দরদাম করতে আসলেও উপযুক্ত দাম না উঠায় বিক্রি হচ্ছে না বড় আকারের গরু। এদিকে, কোনো কোনো বেপারী লোকসানেও গরু বিক্রি করার কথাও ভাবছেন।

ধোলাইখাল পশুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে আগত গরু ব্যবসায়ী লাভলু মিয়া বলেন, "গতকাল যে গরুর দাম উঠেছিল ৪ লাখ টাকা, আজ সেটির দাম কেউ তিন লাখও বলছেন না। ঢাকায় গরু আনতে গাড়ি ভাড়াসহ আনুষাঙ্গিক অনেক খরচ করে ফেলেছি। কিন্তু এখন লোকসানের শঙ্কায় রয়েছি।"

গরুর বেপারী শাহাদাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ক্রেতারা বড় গরু কিনতে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ছোট ও মাঝারি আকারের গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ এমন দাম বলছেন যে দামে গরু বিক্রি সম্ভব না। গ্রামে বিক্রি করলেও এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারতাম। গরু লালন-পালন করতে যে খরচ হয়েছে, সে দামও দিতে চাচ্ছে না ক্রেতারা।

রাজধানীর ধোলাইখাল, ধূপখোলা, গোলাপবাগ, আফতাবনগর হাট ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। ছোট ও মাঝারি গরু বিক্রি হচ্ছে বেশ। ক্রেতারা বলছেন, গতকাল যে গরুর দাম উঠেছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সেটা আজ ১ লাখ ১০ -এর মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। দাম কিছুটা সহনীয়, তার মানে এই নয় যে দাম অনেক কম। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর