বাংলাদেশের বীমা খাত দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে ভুগছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই হিসাবের অসংগতি, গ্রাহকসেবার ঘাটতি ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগে সমালোচিত। এমন বাস্তবতায় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এক ভিন্ন পথে হাঁটতে শুরু করেছে-যেখানে স্বচ্ছতা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই হচ্ছে অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি।
প্রতিষ্ঠানটির ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়। সভায় সোনালী লাইফ খোলামেলাভাবে পুরনো হিসাবের অসংগতি স্বীকার করে এবং আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস/আইএফআরএস) অনুযায়ী সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন ও হিসাব সংশোধনের ঘোষণা দেয়।
এই পদক্ষেপের ফলে নিট সম্পদমূল্য ও শেয়ারপ্রতি আয় কিছুটা কমে গেলেও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, এটি সাময়িক চাপ মাত্র। দীর্ঘমেয়াদে এই স্বচ্ছতা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই বৃদ্ধির জন্য মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলবে।
দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সোনালী লাইফ একের পর এক স্বীকৃতি পাচ্ছে। কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ ছয়টি বিভাগে পুরস্কার অর্জন করে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ইন্সুরেন্স ইনশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার, ইন্সুরটেক ইনিশিয়েটিভ অফ দ্য ইয়ার, এডুকেশন ইন্সরেন্স ইনিশিয়েটিভ অফ দ্য ইয়ার, বেস্ট মার্কেটিং ইনিশিয়েটিভ অফ দ্য ইয়ার, নিউ ইন্সুরেন্স প্রডাক্ট অফ দ্য ইয়ার এবং বেস্ট কাস্টমার সার্ভিস ইনশিয়েটিভ অফ দ্য ইয়ার। এগুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি-ডিজিটাল উদ্ভাবন থেকে শুরু করে গ্রাহকসেবা পর্যন্ত।
ইমার্জিং এশিয়া ইন্স্যুরেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫: থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো বেস্ট লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি বাংলাদেশ, বেস্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বাংলাদেশ, বেস্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাটেজি বাংলাদেশ এবং বেস্ট কাস্টমার ওরিয়েন্টেড কোম্পানি বাংলাদেশ পুরস্কার লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।
সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৪: গত বছর সোনালী লাইফ চারটি বিভাগে স্বীকৃতি পায় সাসটেইনেবল ইন্সুরেন্স কোম্পানি অফ দ্য ইয়ার, বেস্ট ইন্সুরেন্স কোম্পানি ইন পাবলিক সেক্টর, বেস্ট ইউজ অব মোবাইল টেকনোলজি এবং বেস্ট ইউজ অব অফ আইটি অ্যান্ড টেকনোলজি। এই সম্মানগুলো কোম্পানির ডিজিটাল উদ্ভাবন, নতুন পণ্য উন্নয়ন, মার্কেটিং কৌশল ও গ্রাহকসেবার মানকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সোনালী লাইফের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হলো ডিজিটাল রূপান্তর। গ্রাহকের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, মোবাইল প্ল্যাটফর্মে প্রিমিয়াম পরিশোধ এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে তারা একটি আধুনিক বীমা সেবার রূপরেখা দাঁড় করিয়েছে।
এতে শুধু গ্রাহকসেবার মানই বাড়েনি, বরং তরুণ প্রজন্মের কাছে বীমাকে আকর্ষণীয় করার নতুন পথও উন্মুক্ত হয়েছে।
বার্ষিক সাধারণ সভায় ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন, নতুন অডিটর নিয়োগ এবং আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের মধ্য দিয়ে শেয়ারহোল্ডাররা ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদও শেয়ারহোল্ডারদের ধন্যবাদ জানিয়ে সর্বোচ্চ করপোরেট গভর্ন্যান্স বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বীমার ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। অবকাঠামো প্রকল্প, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনায় বীমা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠছে। এ প্রেক্ষাপটে সোনালী লাইফের উদ্যোগ শুধু একটি কোম্পানির সাফল্য নয়; বরং পুরো খাতকে আধুনিক ও আস্থাশীল করে তোলার সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসছে।
সোনালী লাইফ আজ কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং একটি প্রতীক-যেখানে স্বচ্ছতা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেমিশে তৈরি করছে আস্থার নতুন গল্প। বাংলাদেশের বীমা খাত যদি একই পথে এগোয়, তবে এই খাতটিই হয়ে উঠতে পারে অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।
বিডি প্রতিদিন/এমআই/ইই