শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ০৮:৩১

নির্দিষ্ট সংস্থাকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিতে হবে

কুড়িল ফ্লাইওভার তুমি কার

জয়শ্রী ভাদুড়ী


কুড়িল ফ্লাইওভার তুমি কার
ফ্লাইওভারে ওঠার সময় বেশ কয়েকটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এর কোনো কোনোটির গভীরতা দেড় ফুট ছাড়িয়ে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছবি : রোহেত রাজীব

রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভারের বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। ফ্লাইওভারে সড়কবাতির স্ট্যান্ড পর্যন্ত গায়েব হয়ে যাচ্ছে। ফলে অন্ধকারে ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে ঝুঁকি। ফ্লাইওভার তৈরিতে অনেক আগ্রহ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোনো সংস্থা। সংস্থাগুলোর টানাটানিতে বেহালদশা ফ্লাইওভারের। নগর বিশ্লেষক ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফ্লাইওভার ভেঙে ফেলা হচ্ছে আর আমাদের দেশে মহাউৎসাহে চলছে নতুন ফ্লাইওভার বানানো। কোন সংস্থা ফ্লাইওভার বানাবে তা নিয়ে দরকষাকষি চললেও রক্ষণাবেক্ষণে নেই আগ্রহ। এ জন্য তৈরির কিছুদিনের মধ্যেই জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ফ্লাইওভারগুলো। ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।’

২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িল ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন। কিন্তু সাত বছরের মাথায় ফ্লাইওভারটি নান্দনিকতা হারিয়ে জীর্ণশীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে

সরেজমিন দেখা যায়, খিলক্ষেত থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সময় এবং পূর্বাচল থেকে খিলক্ষেত যাওয়ার র‌্যাম্পে বেশ কয়েকটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সেগুলো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। কুড়িলের দিকে নামতে গেলে র‌্যাম্পের মাথায় গর্ত। এ ছাড়া ফ্লাইওভারের সব র‌্যাম্পের মাথায় ও ঢালু অংশে ময়লা ও বালুর স্তর জমে আছে। বৃষ্টিতে সেগুলো কাদায় পরিণত হয়ে পুরো ফ্লাইওভারে ছড়িয়ে পড়ে। রোদ উঠলে ধুলায় অন্ধকার হয়ে থাকে পুরো এলাকা। লুপের ডানে-বামে ছোট-বড় অনেক খানাখন্দ। কোনো কোনো গর্ত দেড় ফুট ছাড়িয়ে গেছে। ফ্লাইওভারের অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কুড়িল অংশে গায়েব হয়ে গেছে সড়কবাতির স্ট্যান্ডও। ফ্লাইওভারের নিচের জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে বাস, মিনি ট্রাক। ভিক্টর ক্ল্যাসিক বাসগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে ফ্লাইওভারের কুড়াতলি প্রান্তে। নিয়মিত ফ্লাইওভারে যাতায়াত করেন এমন কয়েকজন বলেন, কুড়িল থেকে খিলক্ষেত যাওয়ার জন্য নিচ দিয়ে কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। এ কারণে রাতে সব ধরনের যান ফ্লাইওভার ব্যবহার করে। বিশেষ করে মালামাল বহনকারী রিকশা-ভ্যানও ওঠে ফ্লাইওভারে। তখন পেছনের দিকের গাড়ি আর স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। রিকশা-ভ্যানও ফ্লাইওভারে ওঠে অথচ তা দেখার কেউ নেই। রাইদা পরিবহনের চালক শরিফুল মিয়া বলেন, রাতে ভ্যানগুলোর কারণে ফ্লাইওভারে যানজট লেগে থাকে। দীর্ঘ গাড়ির সারি একপর্যায়ে লুপের বাইরেও চলে যায়। এ ছাড়া নির্মাণের পর থেকে কোনো মেরামত না করার কারণে ফ্লাইওভারের জয়েন্টগুলো অনেক ফাঁকা হয়ে গেছে। এতে প্রতিটি জয়েন্ট অতিক্রমকালে গাড়িগুলো বড় ধরনের ঝাঁকুনি খায়। ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের অসুবিধা হয়। উত্তরখান এলাকার বাসিন্দা ইয়াসির বলেন, রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে কুড়িল ফ্লাইওভারে চলা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একদিকে বিশাল গর্ত অন্যদিকে ফ্লাইওভারের জয়েন্টগুলোতে বড় গাড়িও লাফিয়ে ওঠে। একটু অসাবধানতায় রয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তিনি বলেন, যারা নিয়মিত চলাচল করেন তাদের হয়তো একটা ধারণা আছে। কিন্তু কেউ নতুন হলে তার দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। আর ফ্লাইওভারের ওপরে একটা গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে পেছনের গাড়িগুলোও আক্রান্ত হতে পারে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন। সে সময় এটি ছিল দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার। সাত বছরের মাথায় সব নান্দনিকতা হারিয়ে এটি এখন জীর্ণশীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর পরপরই এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ৩০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন দশমিক এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করে। এটি নির্মাণের দায়িত্ব পালন করে চীনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও বাংলাদেশের প্রজেক্ট বিল্ডার্স লি. (পিবিএল)। ফ্লাইওভারটি নির্মাণে কুড়িল এলাকায় বিমানবন্দর সড়কের রেলক্রসিংয়ের ভয়াবহ যানজট দূর হয়। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই কোনো তদারকি নেই ফ্লাইওভারটির। এ ব্যাপারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান প্রকৌশলী (প্রজেক্ট অ্যান্ড ডিজাইন) এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কুড়িল ফ্লাইওভারটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান আছে। আমাদের ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণের কোনো খাত নেই। বরাদ্দ না থাকায় এসব ফ্লাইওভার তৈরির পর রাজউক রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে না।’


আপনার মন্তব্য