শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০১:৪১

কাজে প্রমাণ করব সরকার ব্যবসাবান্ধব

----------------------------- বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাজে প্রমাণ করব সরকার ব্যবসাবান্ধব

প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানিতে নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ২০২১ সাল নাগাদ ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ শুধু তৈরি পোশাক খাত দিয়ে হবে না, এ জন্য সব খাতকে একযোগে সামনে বাড়াতে হবে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই খাতটি রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা (আইপিএফ-২০১৯)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ১৭ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী মেলাটি শুরু হয়। প্লাস্টিক মেলার পাশাপাশি আইসিসিবিতে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী গার্মেন্ট ও প্যাকেজিং শিল্প প্রযুক্তির প্রদর্শনীও গতকাল শেষ হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উপহার দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমরা যে ব্যবসাবান্ধব সরকার তা কাজে প্রমাণ করে দেখাব। সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিপিজিএমইএর সভাপতি ও বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন, সংগঠনটির উপদেষ্টা ও লুনা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম কামাল উদ্দিন, বিপিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ। বিপিজিএমইএর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রতিবছর প্লাস্টিক মেলার আয়োজন করছি। এটা এখন অনেক বড় একটি আয়োজন। এ বছর ১৪তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলায় ১৯টি দেশের ৪৬০টি কোম্পানি ৭৮০টি স্টল নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করেছে।

একই ছাদের নিচে প্লাস্টিক পণ্যের দেশি-বিদেশি সব ধরনের প্রযুক্তির সমাহার ঘটেছে। এতে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের আর অর্থ খরচ করে বিদেশে গিয়ে এসব প্রযুক্তির খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। দেশের বাজার ছাড়াও বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে। ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ। বাংলাদেশেই বর্তমানে বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। এ খাতের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

তিনি বলেন, ছোট ছোট প্লাস্টিক কারখানাগুলোকে শিল্পপার্ক করে এক জায়গায় নেওয়া দরকার। কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা উন্নত করা দরকার। এ জন্য কেরানীগঞ্জে একটি জায়গা চেয়েও পাইনি। অথচ কমপ্লায়েন্স ছাড়া বিনা পয়সায় পণ্য দিলেও বিদেশি ক্রেতারা নিতে চায় না। প্লাস্টিক পণ্য নিয়ে আইনগত ঝামেলার বিষয় তুলে ধরে জসিম উদ্দিন বলেন, পরিবেশের সঙ্গে প্লাস্টিক পণ্যের একটি দ্বন্দ্ব আছে। অথচ প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারীরা মোটেও পরিবেশদূষণ ঘটায় না। উল্টো এখন ৮০ ভাগের ওপরে প্লাস্টিক পণ্য পুনর্ব্যবহার হয়। মানুষকে সচেতন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নত করতে পারলে মূল্যবান প্লাস্টিক আর পথে-ঘাটে পড়ে থাকত না। পুরোটাই পুনর্ব্যবহার করা যেত। তিনি প্লাস্টিক শিল্পনগরী স্থাপন, প্রণোদনা প্রদান, প্লাস্টিক খেলনায় ভ্যাট প্রত্যাহার, প্যাকেজিং অ্যাক্ট প্রণয়নসহ বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর