শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৩৬

২৩ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া

১০ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালীদের কাছে পাওনা ১৩ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

২৩ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এলাকায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া প্রায় ৮ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠান কখনোই ট্যাক্স দেয় না। এই ট্যাক্স আদায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েক দফা চিঠি দিলেও তারা আমলে নেয়নি। এমনকি চিঠির কোনো উত্তরও দেয়নি তারা। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছে পাওনা এক কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার ৩৭২, শিল্পকলা একাডেমির কাছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২৩৯, রাইফেল ক্লাবের কাছে ৪ লাখ ১১ হাজার ৫২২, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান (বিভাগীয়) স্টেডিয়ামের কাছে ৪৮ লাখ ২০ হাজার ৪০০, জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের কাছে ৯৮ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৮, রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে এক কোটি তিন লাখ ৮০ হাজার ৬৯০, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬০০, জাফর ইমাম আন্তর্জাতিক টেনিস কমপ্লেক্সের কাছে ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৯, টেক্সটাইল মিলসের কাছে ২ কোটি ৩৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৬ এবং রাজশাহী সার্ভে অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের কাছে ১৫ লাখ সাত হাজার ৯২০ টাকা বকেয়া পড়েছে। এই ১০টি প্রতিষ্ঠান কখনো হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেনি।

রাসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহানা আখতার জাহান জানান, হোল্ডিং ট্যাক্সের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সব প্রতিষ্ঠানকেই কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্সের বড় একটি অংশই বকেয়া দেড় হাজার ব্যক্তির কাছে। এই দেড় হাজার ব্যক্তির কাছে রাসিকের পাওনা প্রায় ৫ কোটি টাকা।       

তিনি আরও জানান, রাজশাহী নগরীতে হোল্ডিং আছে ৬০ হাজার ১৪৬টি। এ থেকে বছরে আদায়যোগ্য ট্যাক্সের পরিমাণ ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। প্রতি বছরই নতুন নতুন বকেয়া যোগ হচ্ছে। পাওনা বাড়ছে সিটি করপোরেশনের।

সিটি করপোরেশনের তথ্য মতে, কোনো অর্থবছরেই হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া পড়েছে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। এটি নগরীর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। এই ওয়ার্ডেই বকেয়া পৌনে দুই কোটি টাকা। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার কর প্রদানকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নগরীর তুলনামূলক ধনী লোকদের কাছেই বকেয়ার পরিমাণ বেশি। এ রকম এক হাজার ৫৩০ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। তাদের কাছে বকেয়া ট্যাক্সের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। এদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, ‘ট্যাক্স আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আইন নিয়ে খানিকটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তবে পরে জেনেছি, এটা আরডিএকে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের বকেয়ার পরিমাণ এতা বেশি যে, তা পরিশোধ করা সম্ভব নয়।’ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের হোল্ডিং ট্যাক্সের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রাফিউস শামস প্যাডি বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগে কেউ হোল্ডিং ট্যাক্স দেয়নি। রাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স রিভিউ কমিটির সভাপতি নিযাম উল আযীম বলেন, মাত্র দেড় হাজার ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা বকেয়া পড়েছে। এটি দুঃখজনক। ট্যাক্স পরিশোধে তাদের বার বার চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তাতেও কোনো সাড়া নেই। এ অবস্থায় খেলাপিদের সেবা বন্ধ এমনকি প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী তাদের মালামাল ক্রোক করার কথাও ভাবা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর