Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৯ ০১:২০

ঝুঁকিপূর্ণ ২৭৫ কিলোমিটার পথ

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

ঝুঁকিপূর্ণ ২৭৫ কিলোমিটার পথ

ট্রেনের গতি বাড়াতে গত চার-পাঁচ বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলে ব্যয় করা হয়েছে হাজার কোটি টাকা। রেললাইন সংস্কার, স্লিপার পরিবর্তন, কালভার্ট সংস্কার ও নির্মাণ, ব্রিজ রং করাসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। কিন্তু অর্থ লুটপাটের কারণে বর্তমানে পুরো পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার রেললাইনের অবস্থা এখনো নাজুক। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের জামতৈল থেকে দিনাজপুরের পাবর্তীপুর পর্যন্ত ২২৫ কিলোমিটার লাইন এবং তিস্তা-কুড়িগ্রামের রমনা পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার লাইন বেশি খারাপ।                 বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ‘কিছু রেললাইন খারাপ আছে। এগুলো আমরা সংস্কারের জন্য এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছি। দ্রুতই জামতৈল-পার্বতীপুরের কাজ শুরু হবে। আর তিস্তা-রমনা রেললাইন সংস্কারের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আবদুলপুর-রাজশাহী রেলপথটি ডাবল লাইনের জন্য প্রকল্প সমীক্ষা চলছে।’  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পশ্চিমাঞ্চলে ঘণ্টায় ৫-৩০ কিলোমিটার হারে গতি বৃদ্ধি করা হয় ট্রেনের। এ অঞ্চলের সবকটি রুটে এ হারে গতি বৃদ্ধি করা হয় উন্নয়নের দোহাই দিয়ে। কিন্তু বছর দেড়েক না যেতেই আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে কয়েকটি রেললাইন। এতে করে দুটি রুটে ফের গতি কমিয়েও দেওয়া হয়।

রেলওয়ে সূত্র মতে, পশ্চিমাঞ্চলের মোট এক হাজার ৫৬৭ কিলোমিটার রেললাইন আছে। এ রেললাইনগুলো, রেললাইনের সেতু, ব্রিজ ও কালভার্ট সংস্কারের নামে ২০১৬-১৮ সালের তিন বছরেই অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু বছর দেড়েক না যেতেই আবার পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে পড়ে কয়েকটি লাইনের। ফলে দুটি রুটের গতিসীমা কমাতেও বাধ্য হয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।        এ দুটি রুটের মধ্যে সৈয়দপুর-চিলাহাটি পর্যন্ত ৯৫ থেকে ফের ৮৫ কিলোমিটার এবং পার্বতীপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম লাইনে ট্রেনের গতি ১০৫ থেকে ১০০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে।  পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীর দফতর সূত্র মতে, এ অঞ্চলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলীর  সময়কালে রেলে সংস্কার ও উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হরিলুট হয়। এ হরিলুট করতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা সে সময়ে দরপত্র ছাড়া অন্তত ৪০০ কোটি টাকার কাজ করেন নিজের পছন্দের লোক ও তৎকালীন ডিজির শ্যালককে দিয়ে। ফলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে সত্যিকারের উন্নয়ন বলতে তেমন কিছুই হয়নি। এ প্রক্রিয়ায় ট্রেনের গতি বৃদ্ধি করতে সংস্কারের নামে বিপুল টাকা লোপাট করা হয়। এ নিয়ে দুদক তদন্ত শুরু করলেও সেটি পরে আর আলোর মুখ দেখেনি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর