শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫০

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে ছড়িয়েছে ডেঙ্গু

নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে ছড়িয়েছে ডেঙ্গু

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ এসব দেশে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ভারত, মিয়ানমার, হন্ডুরাস। ইতিমধ্যে দেশগুলোতে বহুসংখ্যক লোক মারা গেছেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে। এ ছাড়া দেশগুলোতে এডিস মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধ কাজ করছে না। আর এতেই মারাত্মক হয়ে উঠছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। বাংলাদেশের পরিস্থিতির বিষয়ে গভীর নজর রাখছে সরকার। সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, সচেতনতা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই। অর্থমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি দেশে ডেঙ্গু জ্বর বাংলাদেশের মতো মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু জ্বর মোকাবিলায় দেশগুলো জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২৫ থেকে ১৯ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা থাকা সব দেশেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

 তিনি বলেন, ফিলিপাইনে ডেঙ্গু জ্বর এখন মহামারী আকার নিয়েছে। চলতি বছর দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। এতে ৪৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফিলিপাইন ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজেস সার্ভিলেন্স অ্যান্ড রেসপন্সের (পিআইডিএসআর) তথ্যে বলা হয়েছে, গত বছরও দেশটিতে ডেঙ্গুর উপদ্রব দেখা দিয়েছিল। তবে এ বছর গোটা ফিলিপাইনে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালের তুলনায় যা ৮৫ শতাংশ বেশি। শিশু ও কিশোররা সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মোট ডেঙ্গু রোগীর ৩৯ শতাংশের বয়স পাঁচ থেকে নয় বছরের মধ্যে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ডিউটি পালনের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ডে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ১৭৪। এ ছাড়া মারা গেছেন ৬৪ জন। এ বছরের শেষনাগাদ দেশটিতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় গত কয়েক মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার আর এতে মারা গেছে ৭৪ জনের বেশি। সিঙ্গাপুরে কয়েক মাসে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাড়ে তিন হাজার লোক। ভিয়েতনামে আক্রান্তের সংখ্যায় বলা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার এবং মারা গেছে চারজন। ভারতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৪ জন। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ১৪ জন। এ সময় প্রায় ৪ হাজার ব্যক্তির আক্রান্তের কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ব্যক্তি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন মারা গেছেন।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে এডিস মশা নিধনে যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। মশা নিধনে বাংলাদেশের মতোই ডেল্টামেথ্রিন, মেলাথিউন ব্যবহার করা হয়। গত কয়েক বছরে এডিস মশা এসব ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। ফলে ওষুধ ছিটানোর পরও মশা মরছে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মশা নিধনে বাংলাদেশে ব্যর্থতার কথা বলা হয়। অথচ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবগুলো দেশেই একই পরিস্থিতি। তবে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনে এ বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে কী ওষুধ ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দিকে নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘সচেতনতা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশ মশা নিধনে কাজ করতে পারছে না বিষয়টি সঠিক নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব দেশেই একই অবস্থা। সমুদ্র উপকূলবর্তী বাংলাদেশের সমরেখায় অবস্থিত সব দেশের পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ। আমাদের সবার উচিত বাসাবাড়ি, আশপাশের জায়গা পরিষ্কার রাখা। মশার উৎস ধ্বংস করতে হবে। আমরা সব দেশের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছি। তারা যদি সফল হয় আমরাও সফল হবো।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর