শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২৪

সিলেটে হেফাজতের সমাবেশে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

ফ্রান্সে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র আঁকার প্রতিবাদে গতকাল সিলেটে রেজিস্টারি মাঠে সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম। সমাবেশের বক্তারা তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দাবি তিনটি হলো- ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করতে হবে, সিলেটে হোটেলসমূহে মদের অনুমোদন বাতিল করা ও মাদকের অবাধ ছড়াছড়ি বন্ধ করতে হবে এবং পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশে যোগ দিতে বিমানযোগে সিলেটে আসেন হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও মহাসচিব নূর হুসাইন কাসেমী। বক্তৃতাকালে বাবুনগরী বলেন, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত হলো হেফাজতের কর্মসূচি। হেফাজত বাংলাদেশে নামাজ কায়েম করতে চায়। হেফাজত সরকারবিরোধী সংগঠন নয়, আবার সরকারদলীয় সংগঠনও নয়। যারা ইসলামের শত্রু, রসুলের দুশমন তাদের ধ্বংস করতে, নাস্তিক, মুরতাদদের কবর রচনার জন্য হেফাজতে ইসলামের অভ্যুদয়।

তিনি বলেন, বিশ্বের ২০০ কোটি মুসলমানের ভালোবাসার প্রতীক রসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে ফ্রান্স সরকার ব্যঙ্গ করে মুসলমানদের কলিজায় আগুন লাগিয়েছে।’ তিনি কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করে বলেন, ‘আমি মনে করি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও কাদিয়ানীদের মুসলিম বলে মনে করেন না। রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করতে হবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দেশ মদিনা সনদে চলবে। তাই মদিনা সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কাজ শক্তভাবে দমন করতে হবে।’

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদিস আল্লামা জিয়া উদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহাসচিব আল্লামা নূর হুসাইন কাসিমী, নায়েবে আমির ড. আহমদ আবদুল কাদের, উপদেষ্টা শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, শায়খুল হাদিস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক আকুনী, নায়েবে আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা নূরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকীব ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।

গতকালের এ সমাবেশকে ঘিরে কয়েক দিন ধরে ব্যাপক তৎপর ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা। নতুন নেতৃত্বকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচিতে যাতে ব্যাপক লোকসমাগম হয়, সে জন্য সিলেটের উপজেলা পর্যায়েও প্রচারণা চালানো হয়। এমনকি সমাবেশে সিলেট বিভাগের অন্য জেলাগুলো থেকেও নেতা-কর্মীদের নিয়ে আসার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করে হেফাজত। সকাল থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনযোগে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আসতে থাকেন সমাবেশ স্থলে। দুপুরের দিকে ভরে যায় রেজিস্টারি মাঠ। পরে আশপাশের সড়কেও অবস্থান নেন নেতা-কর্মীরা। এতে নগরীর অন্য সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ তৈরি হওয়ায় যানজটের দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর