শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ জুন, ২০২১ ২৩:৫৩

সিনহা হত্যা মামলার বিচার শুরু, আগামী মাসে সাক্ষ্য

কক্সবাজার প্রতিনিধি

Google News

কক্সবাজারের টেকনাফে শামলাপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছে আদালত। আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু করা হলো। একই সঙ্গে সাবেক ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল সাগর দেবসহ ছয়জনের জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত। গতকাল কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ আদেশ দেন। এর আগে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত টানা শুনানি চলে। এতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আদালতে চার্জ শুনানিকালে চার্জশিটভুক্ত ১৫ জন আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার ধার্য দিন উপলক্ষে সব আসামিকে আদালতে আনায় সকাল থেকেই আদালত অঙ্গনে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আদালত থেকে বের হয়ে ওই মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত আলোচিত সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলার চার্জ গঠনের দিন ধার্য ছিল। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মামলার চার্জ গঠন করেছেন। একই সঙ্গে আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। ফৌজদারি দন্ডবিধির ৩০২/২০১/১০৯/ ১১৪/১২০-খ/ ৩৪ ধারায় মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে সাবেক ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল সাগর দেবসহ ছয়জনের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়।

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, দিলীপ দাস, প্রতিভা দাশ, চট্টগ্রামের আইনজীবী চন্দন দাশ, শহীদুল আলম, শফিউল আলমসহ ২১ জন আইনজীবী ছিলেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী রানা দাশ গুপ্ত জানান, ‘মেজর সিনহা হত্যা মামলার চার্জ গঠনের ধার্য দিন ছিল। মামলার ২ নম্বর আসামি ওসি প্রদীপসহ অপরাপর আসামিদের জামিন ও অব্যাহতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলাম। আমরা আদালতকে বলেছি, সিনহা হত্যা মামলার এজাহারে ওসি প্রদীপের বিষয়ে আনীত অভিযোগ মামলার চার্জশিটে সম্পূর্ণ উল্টো। অভিযোগপত্র গঠনের আদেশ কপি পাওয়ার পর আমরা বিবেচনা করব পরবর্তী আইনগত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

এর আগে সকাল ১০টার দিকে ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে আসামিদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। পরে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত র‌্যাবকে মামলাটির তদন্ত করার আদেশ দেন। পরদিন ৬ আগস্ট প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে সিনহা হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে পুলিশের দায়ের মামলার তিনজন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ ছাড়া একই অভিযোগে পরে গ্রেফতার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক সদস্য কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও। মামলায় গ্রেফতার ১৪ আসামিকে র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় র‌্যাব।