বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

অগ্নিকান্ড থেকে নিরাপদ বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স

অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

অগ্নিকান্ড থেকে নিরাপদ বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স

অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স। শপিং কমপ্লেক্সটিতে আগুন লাগলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা করা সম্ভব। গতকাল রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত দেশসেরা ও গ্রাহকপ্রিয় এ শপিং মলে অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধের পদক্ষেপস্বরূপ নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর এবং বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এ মহড়ায় উভয় পক্ষের শতাধিক সদস্য অংশ নেন। মহড়ার অংশ হিসেবে বসুন্ধরা সিটির লেভেল ৮-এ আগুনের সূত্রপাত হলে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট পানি নিক্ষেপ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের ‘ল্যাডার’-এর মাধ্যমে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ফায়ার অ্যান্ড সেফটি, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, যান্ত্রিক, সিভিল, কেয়ার অ্যান্ড ক্লিন বিভাগের নির্বাচিত কর্মী, বসুন্ধরা গ্রুপের বিভিন্ন ইউনিটের ফায়ার বিভাগের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের যৌথ অংশগ্রহণে দুর্ঘটনা প্রতিহতকরণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়া শেষে ফায়ার সার্ভিস দলের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাশার এ স্থাপনার অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন অগ্নিকান্ডের যে ঘটনা আমরা দেখেছি যেমন বনানী বা হাসেম গ্রুপের কারখানার, সেগুলোর তুলনায় এখানকার অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা খুবই ভালো। এখানকার কর্মীরাও অগ্নিনিরাপত্তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতি আরও কমিয়ে আনা সম্ভব যদি সচেতনতা তৈরি করা যায়। তার জন্যই প্রতি বছর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমরা এখানে ফায়ার ড্রিল আয়োজন করে থাকি।’ বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ইনচার্জ মেজর (অব.) মোহসিনুল করিম বলেন, ‘অগ্নিকান্ড ঘটবে না তা কখনই বলা যায় না। তবে আমাদের এখানে অগ্নিকান্ড ঘটলেও পুরো স্থাপনা নিরাপদ। বসুন্ধরা সিটিতে অগ্নিনির্বাপণের আধুনিক সব ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে সাড়ে ৬ হাজার স্মোক ডিটেক্টর রয়েছে। শপিং মলের কোথাও আগুনের সূত্রপাত হলেই এসব ডিটেক্টরের মাধ্যমে ইলেকট্রিক প্যানেলে সিগন্যাল আসবে। এ ছাড়া শপিং মলের প্রতিটি ফ্লোরে একজন কর্মী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও সার্বক্ষণিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকেন। কাজেই যারা এখানে আসেন- দর্শনার্থী, ক্রেতা বা ব্যবসায়ী তারা সবাই এখানে নিরাপদ। আগুন লাগলেও দ্রুততম সময়ে রেসকিউ অপারেশন শুরু করে সবাইকে বের করে আনা সম্ভব। এখানকার যেসব জরুরি সাইন সেগুলো আইপিএসে চলে, ফলে আগুন লাগলে বিদ্যুৎ চলে গেলেও জরুরি নির্দেশক সাইনগুলো সচল থেকে জ্বলবে। ফলে সাধারণ মানুষ সেগুলো দেখে শপিং মল থেকে বের হয়ে যাবেন। এখানে আগুন নেভাতে ১ লাখ গ্যালন পানি রিজার্ভ আছে। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দেওয়া যাবে।’ বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্টের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন (অব.) ফাহিম আহমেদ খান বলেন, ‘আমাদের এখানে ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ পাওয়া কর্মীদের আলাদা একটি দল আছে। তারা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া। এ কর্মীরা আবার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও অন্য কর্মচারীদের অগ্নিনিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ দেন। ফলে মাইক্রো লেভেলে কোনো অগ্নিকান্ড ঘটলে তারাই নিভিয়ে ফেলতে পারবেন। প্রতি শিফটে ৩১ জন করে ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিয়োজিত থাকেন। আগুন লাগার কারণ ভেদে তিন ধরনের পাম্প রয়েছে আমাদের- ইলেকট্রিক, জকি ও সাধারণ ওয়াটার পাম্প। আকারভেদে প্রতিটি দোকানে কমপক্ষে দুটি করে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একবার করে ফায়ার ড্রিল করি আমরা। আর প্রতি মাসে একবার করে ঝটিকা ফায়ার ড্রিল করা হয়।’ গতকালের মহড়ায় বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ফায়ার অ্যান্ড সেফটি শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেড, বসুন্ধরা স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, নিউ শিপ বিল্ডিং প্রজেক্ট ও বিসিডিএলের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সাদ তানভীর, বিসিডিএলের নির্বাহী পরিচালক (মেকানিক্যাল) মাহবুব মোর্শেদ খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।