শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

ভোটারের আগ্রহ তারুণ্য ঘিরে

ভোটের মাঠে তোপের মুখে সেই এমপিরা

আজহার মাহমুদ, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে অন্তত আটটিতে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নতুন প্রার্থীদের ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচন। এসব আসনের কোনোটিতে আওয়ামী লীগের, আবার কোনোটিতে স্বতন্ত্রদের ঘিরে ভোটারের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এসব প্রার্থীর বেশির ভাগই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন। দলের মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়েছেন চট্টগ্রাম-১ আসনে আওয়ামী লীগের মাহবুব উর রহমান রুহেল। অপেক্ষাকৃত তরুণ, সুদর্শন, উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত ব্যক্তিত্ব এবং ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে তাঁকে ঘিরে আগ্রহের শেষ নেই। দলের পাশাপাশি রুহেলকে জেতাতে তরুণরাও কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। এ আসনে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র গিয়াস উদ্দিন। চট্টগ্রাম-২ আসনে আটজন প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের খাদিজাতুল আনোয়ার সনি ও স্বতন্ত্র হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়বের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। দুজনই অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে সনি প্রথম কোনো নারী হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও সুপ্রিম পার্টির সাইফুদ্দিন আহমদও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খুব বেশি পিছিয়ে থাকবেন না। চট্টগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগের এস এম আল মামুন ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে স্বতন্ত্র আবদুচ ছালামও ভোটারের আগ্রহের কেন্দ্রে স্থান করে নিয়েছেন। দুজনই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

 এর মধ্যে মামুন অপেক্ষাকৃত তরুণ হিসেবে ভোটারের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। আর ছালাম অভিজ্ঞ হিসেবে ভোটারদের কাছে টানছেন। চট্টগ্রাম-১১ আসনে টানা তিনবারের এমপি ব্যবসায়ী নেতা এম এ লতিফের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। লতিফের চেয়ে বয়সে তরুণ এই প্রার্থীকে ঘিরে নেতা-কর্মী ও ভোটারের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে লতিফের দূরত্বের কারণে সুমনের ভাগে দলীয় সমর্থনের পাল্লা ভারী।

চট্টগ্রাম-১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম অপেক্ষাকৃত বয়োজ্যেষ্ঠ হলেও প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে আওয়াজ তুলছেন। বিশেষ করে এ আসনের এমপি শামসুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নেতা-কর্মী ও ভোটারের সঙ্গে অযাচিত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। শামসুলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মোতাহেরকেই বেছে নিতে পারেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে প্রচার চালাতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভোটার ও দলের নেতা-কর্মীদের রোষানলে পড়েছেন শামসুল।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেবও সংসদ নির্বাচনের মাঠে নতুন। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীও গত তিন মেয়াদে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়েও বিষোদগার করেছেন। ফলে নতুন প্রার্থী মোতালেবকে জেতাতে কাজ করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় অংশ।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান আগে থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে অজনপ্রিয় হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় দলের নেতা-কর্মী ও প্রশাসনের ওপর চড়াও হওয়া, বিতর্কিত মন্তব্য করা, সাংবাদিকের ওপর হামলাসহ নানা কারণে বিতর্কিত এই প্রার্থী। তাঁর এসব দুর্বলতার সুযোগে প্রথমবারের মতো নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর