ফুলগাজী-পরশুরাম-ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ সংসদীয় আসন। এটি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে আসনটি নিয়ে দারুণ ঔৎসুক্য। কারণ এবারও বেগম খালেদা জিয়া প্রার্থী হবেন, নাকি তাঁর বদলে বিএনপির অন্য কেউ লড়বেন- সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিকল্প প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। এর বাইরে এ আসন থেকে এবার ভোটের জন্য প্রচারণায় নেমেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট কালাম আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (মামুনুল হক) জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, খেলাফত মজলিসের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আবদুল আজিজ আহমদী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা কমিটির উপদেষ্টা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই দাঁড়াবেন নাকি বিকল্প কেউ লড়বেন- এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও কারাগারে থাকায় বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনায় সমন্বয়ক হিসেবে ফেনী-১ আসনের দেখভাল করছেন রফিকুল আলম মজনু। শারীরিক কারণে বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন না করলে আসনটিতে দলীয় নেতা-কর্মী ও তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মজনু। ২০১৮ সালে ধানের শীষে নির্বাচন ও ঢাকা দক্ষিণের পাশাপাশি এই আসনে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ায় দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন পরীক্ষিত এই নেতা। এ ছাড়া নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে প্রচারণায় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলনও। তবে এখানে কোনো কমিটি নেই তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির। এ আসন থেকে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাংবাদিক এ বি এম মূসা। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮-এর নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে জাফর ইমাম বীর বিক্রম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পরে তিনি একই আসনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি একই আসনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকারিয়া ভূঁইয়াকে পরাজিত করে খালেদা জিয়া প্রথম বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম ওয়াজী উল্লাহ ভূঁইয়াকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাফর ইমামকে পরাজিত করে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে এ আসনে ১৪-দলীয় জোটের প্রার্থী ও ২০১৮ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলাউদ্দিন নাসিম সংসদ সদস্য হন।