শিরোনাম
প্রকাশ : ১ জুন, ২০২০ ২২:১৯

ফেনীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু

ফেনী প্রতিনিধি:

ফেনীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুতিগঞ্জে করোনার উপসর্গ নিয়ে সাহাব উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এদিকে তার মৃত্যুর পর বাড়িতে লাশ রেখে তার স্ত্রী পুত্রসহ বাড়ির সকল সদস্য পালিয়ে গেছে। রবিবার রাত ৮টার দিকে মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। 

খবর পেয়ে মতিগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু করোনা রোগীর সদকারে নিয়োজিত থাকা টিমকে খবর দেয়। দাফন টিমের সদসর‌্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে পিপিই ও থানা থেকে মরদেহ রাখার বাগ সংগ্রহ করে রাত ১টার দিকে ওই বাড়িতে যায়। গিয়ে দেখে ওই বাড়িতে কেউ নেই। চারদিকে নিরব। এদিকে গ্রামের মসজিদের রাখা লাশ বহনের খাট ব্যবহার না করার ঘোষনা আগেই দিয়েছে স্থানীয়রা। কবর খোড়ার কোদালও দিচ্ছিলনা কেউ। মরদেহ গোসল করারনো জন্য পর্দাও দেওয়া হচ্ছিলনা। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে সদকার টিমের সদস্যরা লাশ গোসল করিয়ে জানাযা পরে রাত ২টার দিকে তার দাফন করা হয়। 

স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় হোসেন ডিলার বাড়ির সাহাব উদ্দিন চট্রগ্রামের একটি পেট্রোল পাম্পের ম্যানাজোর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ভালো অর্থশালীও ছিলেন। গত ৭-৮ দিন আগে জ্বর, সর্দি কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগলে ২৭ মে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কপপ্লেক্সের সদস্যরা গিয়ে তার কোভিট ১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা পরীক্ষা করেন। সেদিন রাত ৮টার দিকেই তার বাড়ির দ্বিতলার একটি কক্ষে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা তাকে রেখে পালিয়ে যায়। 

ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু জনান, নিজের টাকায় কাফনের কাপড় কিনে ও সমাজপতি ও গ্রামের লোকদের অনেক বুঝিয়ে খাট ও পর্দার কাপড় সংগ্রহ করা হয়। রাতে পরিবারের সদস্যদের ছাড়াই তাদের পারিবারিক গোরস্থানে তার দাফন করা হয়। 
তিনি জানান, সাহাব উদ্দিন সারা জীবন অনেক উপার্জন করেছন। তিনি ৪ ভাইকে বিদেশ পাঠিয়েছেন। ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়ে জামাইদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একটি ছেলেও আছেন। অথচ তার মৃতদেহ দাফন করতে কেউ এগিয়ে আসেনি।   

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর